Agribusiness Insurance, Farmers Law

ছাদে টবে লাউ চাষ

ছাদে টবে লাউ চাষ

শহরে ছাদ কৃষির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আলোচনা করব ছাদে টবে লাউ চাষ পদ্ধতি নিয়ে। সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং শেয়ার করে দিন অন্য ছাদ বাগান প্রেমী বন্ধুদের কাছে।

শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে লাউ অন্যতম। লাউ যেমন সবজি হিসাবে অনেক সুস্বাদু তেমনি লাউয়ের পাতাও শাক হিসাবে অনেক উপাদেয়।ছাদে টবে কিভাবে লাউ চাষ করতে হয় তা আজ আমরা জানব।

জাত নির্বাচন : 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চফলনশীল লাউয়ের একটি জাত উদ্ভাবন করেছে বারি লাউ-১ নামে। তাছাড়া হাইব্রিড লাউ মার্টিনা, জুপিটার, যমুনা, কাবেরী ও পদ্মা চাষ করা যেতে পারে।

সার ও মাটি প্রস্ত্ততকরণ : 
মাটি থেকে বিভিন্ন আগাছা চালনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য উত্তম। দুই ভাগ দো-আঁশ মাটির সঙ্গে দুই ভাগ জৈব সার মিলিয়ে নিয়ে বীজতলার মাটি তৈরি করে নিতে হয়। লাউয়ের জন্য ভালো সার হ’ল টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও বোরক্স সার এবং গোবরও সার হিসাবে প্রয়োগ করা যায়।

টবে চারা রোপণ : 
১৬-১৭ দিন বয়সের চারা টবে বা ড্রামে লাগানোর জন্য উপযুক্ত হয়। প্রতিটি চারার জন্য আলাদা আলাদা টব বা ড্রামের ব্যবস্থা করা উচিত। টব বা ড্রামগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করে নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হবে।

পরিচর্যা : 
সকাল-বিকাল পানি সেচ দিতে হবে। মাছ-গোশত ধোয়া পানি মাঝে-মধ্যে লাউ গাছে দিলে উপকার হবে। তাছাড়া ড্রামের আগাছা পরিস্কার রাখতে হবে। মাসে অন্তত কয়েক বার লাউয়ের পাতা সংগ্রহ করা যায়। লাউ গাছে সর্বদা যথেষ্ট সূর্যের আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এর গোড়ায় নিয়মিত ইউরিয়া সহ, কচুরিপানা ও নানা ধরনের জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।

কীট ও রোগবালাই দমনঃ
পিঁপড়া লাউ গাছের তেমন ক্ষতি না করলেও ফুলে আক্রমণ করে ক্ষতি করতে পারে। লাউ গাছকে পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ছাই অথবা সেভিন দিতে হবে।পোকা দমনে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ খুব কার্যকরী একটা কৌশল। এটা পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করে সহজেই ধ্বংস করে এবং তৈরী করাও অনেক সহজ।

বিষটোপ ফাঁদ ব্যবহার করেও পোকা দমন করা যায়। বিষ টোপ তৈরি করতে ১০০ গ্রাম থেতলানো কুমড়ার সাথে ০.২৫ গ্রাম ডিপটেরেক্স পাউডার ও ১০০ এমএল পানি মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটি মাটির পাত্রে ঢেলে টব বা ড্রামের কাছে রেখে দিতে হবে। সাধারণত তিন চার দিন পর পর বিষটোপ পরিবর্তন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

Comments are closed.