Agribusiness Insurance, Farmers Law

ছাদে টবে চালতা চাষ

ছাদে টবে চালতা চাষ

শহরের অলিতেগলিতে ছাদ কৃষির জনপ্রিয়তা বর্তমানে আকাশচুম্বী ।প্রিয় পাঠক,এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা আলোচনা করবো ছাদে টবে চালতা চাষ পদ্ধতি নিয়ে।সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং শেয়ার করে দিন অন্য ছাদ বাগান প্রেমী বন্ধুদের কাছে।

শীতকালীন ফলের মাঝে চালতা অন্যতম । এর ওষধি গুণও বেশি ।তাই আজ আমরা এ অতি উপকারী ফলের টবে চাষ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

মাটি তৈরি ও সার প্রয়োগঃ
দোআঁশ,বেলে দোআঁশ মাটিতে চালতা ভাল হয়। বড় টবে ১২-১৫ কেজি গোবর সার, টিএসপি ও এমওপি ১০০ গ্রাম, জিপসাম ৫০ গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

সেচঃ
শুষ্ক মৌসুমে গাছের গোড়ায় হাল্কা পানি দিতে হবে। বর্ষাকালে যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

রোপনের সময়ঃ

বর্ষার পর ফল পাকে, শীতকাল পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। পাকা ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। গাছে ফল পাকলে যদি তা না পাড়া হয় তবে সে ফল থেকে বীজ আপনাআপনি মাটিতে ঝরে পড়ে ; অনুকূল পরিবেশে তা থেকে চারা গজায়। এজন্য চালতা তলায় প্রায়শ: ছোট ছোট অনেক চারা দেখা যায়। এসব চার তুলে বাগানে লাগিয়ে দিলেও গাছ হয়। তবে বীজ থেকে করা চারার গাছ ফল ধরতে ৬-৭ বছর লেগে যায়। গাছ বাঁচে কম-বেশি ২৫-৩০ বছর। শাখা কলম বা কাটিং করেও চালতার চারা তৈরি করা যায়। সেসব কলমে দ্রুত ফল ধরে।

পরিচর্যাঃ
আগাছা পরিষ্কার করে রাখতে হবে। ডালপাতা ছাটাই করে রাখলে ছাদবাগানকে আরো ভাল দেখাবে।

রোগবালাই ও কীট দমনঃ
মাঝেমাঝে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা যায়। আক্রমণের মাত্রা অনুযায়ী ছত্রাকনাশক দিতে হবে।

ফল সংগ্রহঃ
ভাদ্র আশ্বিন মাসে গাছে ফল আসে। একটি টবের গাছে ৭০-৮০ টি ফল আসে।

গুনাগুণঃ

  • ঠান্ডা লেগে জ্বর হলে এর রস অনেক উপকারে লাগে।
  • বাতের ব্যথাতে কচি চালতার রস জলের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্ত আমাশয়ের জন্য চলতার কচি পাতার রস উপকার।
  • কফ ও সর্দির জন্য গাছের ছালেত গুঁড়া নিরাময়ের কাজ করে।

Comments are closed.