কৃষি ব্যবসা আইডিয়া ভিত্তিক ব্লগ

তুঁত ফল বা মালবেরী চাষ ও তার বহু গুনাগুন

বর্তমানে তুঁত ফল বা মালবেরী চাষ ও তার বহু গুনাগুন সম্পর্কে অনেকেই জানে বা জানতে চান। তাই তাদের জানার আগ্রহটা আরো বাড়িয়ে দেয়ার জন্যই আমাদের আজকের প্রতিবেদন

তুঁত ফল বা মালবেরী চাষ ও তার বহু গুনাগুন

তুঁত ফল বা মালবেরী যার বৈজ্ঞানিক নাম: Morus nigra/Morus rubra. Moras indika.। বাংলাদেশে এই ফলটিতে তুত বলার কারণ হলো রেশম পোকা। এই তুঁত ফল বা মালবেরীর পাতা আসলে রেশম পোকার প্রিয় খাদ্য।রেশম পোকার চাষ করার জন্য এই ফল গাছ বেশী করে লাগানো হয়।

এর আদিবাস চীনে। ভারত, বাংলাদেশ, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে তুঁতফলের চাষ হয়ে থাকে। তুঁতফলের জুস, জ্যাম জেলি হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া তুঁতফল বেশি সুস্বাদু।। আগে ফলের পরিমাণ একটু বেশী দেখা গেলেও এখন বাজারে বা চাষ করতে একটু কমই দেখা যায়।

 এই তুঁত বা মালবেরিকে ‘ব্ল্যাক বেরি’ বলে চড়া দামে চারা বিক্রি করা হয়। এখন অনেক বাসার ছাদেও শোভা পাচ্ছে তুঁত গাছ। শালিক, টিয়া, বুলবুলি, টুনটুনি ও অনেক পাখিরই খুব প্রিয় ফল তুঁত।

এই ফলের বেশ কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে। যেমন- পাকা ফলের রস বায়ু, পিত্ত, কফ ও জ্বরনাশক। তুঁত গাছের ছাল ও শেকড়ের রস কৃমিনাশক। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য পাকা তুঁতফল বেশ উপকারী। অবশ্য বেশি খেলে ডায়রিয়া হতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী আশ্বিন-কার্তিক মাস তুঁত গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়।

দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে তুঁত গাছ খুব ভালো জন্মে। এছাড়া উঁচু ও সমতল জমিতেও তুঁত চাষ ভালো হয়। আবহাওয়া ও উর্বর মাটির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি তুঁত চাষ হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাদা তুঁত, কালো তুঁত ও লাল তুঁত- এই তিন প্রজাতির গাছের ওপর নির্ভর করে রেশম পোকার চাষ করা হয়।