Improving Agribusiness Insurance & Farmers Law

করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে যমুনা তীরের মানুষ

সকল সাম্প্রতিক পোষ্ট নোটিফিকেশন পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে যমুনা তীরের মানুষ

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। প্রত্যেক দিনই এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের সর্বত্রই বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তবে করোনার এ আতঙ্ক খুব মামুলি হয়ে ঠেকেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার যমুনা তীরের বাসিন্দাদের কাছে। কারণ বর্ষার আগেই যেভাবে যমুনার তীর ভাঙছে, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অসংখ্য বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় করোনা আতঙ্ক থেকে নদীভাঙনই ভাবিয়ে তুলছে তাদের।

স্থানীয়রা বলছেন, বৈশাখ মাস শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক দিন হলো। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও যমুনা নদীতে এখনো বড় জোয়ার আসেনি। এ অবস্থায়ই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। এদিকে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার লিখিত আবেদন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা নদীতীরবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকা পাঁচ বছর ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসেছে এসব ইউনিয়নের পাকুরতলা, বাঐখোলা, ব্রাহ্মণ গ্রাম, আরকান্দি, পুঁটিপাড়া, জালালপুর ঘাটাবাড়ি, ভেকা, হাটপাচিল ও চিলাপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষ। ক্রমাগত ভাঙনের কারণে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব গ্রাম। এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই ভাঙন দেখা দেয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। দফায় দফায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাটপাচিল গ্রামের শমশের আলী, হামিদ মিয়া, আমির আলী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে বাড়ি বদল করতে হয়েছে কয়েকবার। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারো শুরু হয়েছে নদীভাঙন। আতঙ্কে আছি এরপর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে যাব কোথায়।

তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই এ এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানববন্ধন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। ব্রাহ্মণ গ্রামের তাহেরা বানু, মোকসেদ আলী, জুম্মান সেখসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে শত শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এবার বর্ষা শুরুর আগেই আবারো নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমরা কয়েকবার মানববন্ধন করেছি, তাতে কোনো লাভ হয়নি। তারা বলেন, নভেল করোনাভাইরাস আমাদের বিচলিত করতে পারছে না। কেননা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একদিন চলে যাবে। কিন্তু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলে তখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।

খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ এলাকার শত শত মানুষ। এমনো অনেক পরিবার আছে যারা এক সময় সচ্ছল ছিল কিন্তু ভাঙনের কারণে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাই অসময়ে যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গত বছরের ভাঙনে এসব গ্রামের চার শতাধিক কাঁচা-পাকা বাড়িঘর, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুটি মসজিদ, দুটি ঈদগাহ মাঠ, একটি মন্দির, কবরস্থান ও ৫০টি তাঁত কারখানাসহ আবাদি জমি ও কাঁচা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

সকল সাম্প্রতিক পোষ্ট নোটিফিকেশন পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Comments are closed.