Improving Agribusiness Insurance & Farmers Law

মাছ চাষে সাত বন্ধুর সফলতা অর্জন

সকল সাম্প্রতিক পোষ্ট নোটিফিকেশন পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

মাছ চাষে সাত বন্ধুর সফলতা অর্জন

মাছ চাষে বাংলাদেশ অনেক আগেই এগিয়ে আছে, আর অনেক কৃষি উদ্যোক্তা এতোমধ্যে সফল হয়েছে তার মধ্যে এই মাছ চাষে সাত বন্ধুর সফলতা অর্জন কম নয়।মনোযোগ দিয়ে পোষ্টটি পড়ুন এবং শেয়ার করে দিন অন্য উদ্যোক্তাদের কাছে।

পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই- এ কথাটি বেশ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গেই বললেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউপির মহারাজপুর গ্রামের জাকির হোসেন ও তার ছয় বন্ধু। নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রমের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তারা মাছ চাষ করে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে সেরা মৎস্য চাষি পুরস্কার। এবার জাতীয় পুরস্কারের জন্যও আবেদন করেছেন।
উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শুরু করেন মাছ চাষ। ২০১৮ সালে মাত্র দুই লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনটি পুকুর লিজের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের পথচলা। এরপর তাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তারা এখন নাটোরের বড় ব্যবসায়ীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

সম্প্রতি সরজমিনে তানজিম ফিসারিজ এন্ড এগ্রো’তে গিয়ে দেখা যায়, তারা পুকুরে মাছের খাবার দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জানান, নিয়মিতভাবে মাছের খাবার ও পুকুরের অন্যান্য পরিচর্যা করতে হয়। এতে মাছের সঠিক বৃদ্ধি হয়, রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও কমে যায়।

মাছ ব্যবসায়ী সাত বন্ধুর মধ্যে জাকির হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, রিয়াজুল ইসলাম, বুলবুল ও ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে তাদের ৩০ বিঘার তিনটি পুকুর ছিলো। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০০ বিঘার ১৫টি পুকুর রয়েছে।

প্রথমে রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, তেলাপিয়া, দেশি মাগুর, শিং, চিতল, পাঙাশ, টেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে পুকুরে চাষ করে বড় করা হয়। প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুতে পোনা ছেড়ে দেয়ার পর ১০ মাস ধরে মাছগুলো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বড় করা হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে ট্রাকে করে বিক্রি করা হয়।

তারা আরো জানান, তাদের পুকুরে প্রতি বছর এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ চাষ করে একদিকে তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, পাশাপাশি এর মাধ্যমে স্থানীয় বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির জানান, তারা মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে। ২০১৯ সালে সেরা মৎস চাষি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন জাকির হোসেন। প্রতি বছর তাদের এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়।

এ বছর জাতীয় পুরস্কার নেয়ার জন্য জাকির হোসেন আবেদন করেছেন। সরকারিভাবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। মাছ চাষে তাদের এই সফলতা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

Comments are closed.