Improving Agribusiness Insurance & Farmers Law

কলকে ফুল জানা অজানা কিছু তথ্য

সকল সাম্প্রতিক পোষ্ট নোটিফিকেশন পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

কলকে ফুল জানা অজানা কিছু তথ্য

নাম- কলকির মত হওয়ায় একে কলকে বলে। বাংলা নাম কলকে, কলকি,হলদি কলকি,কড়ি,চায়না করবি। হিন্দি নাম পিলাকনি,যারকুনেল।ইংরেজি নাম ইয়োলো ওলিয়েন্ডার,এক্সিলয়েল ট্রী। উদ্ভিদতাত্বিক নাম Thevetia peruviana K.Schum. পরিবার Apocynaceae.

পরিচয়: কলকে বাংলাদেশের সবখানে দেখা যায়।আকারে ছোটখাটো। ঘন সবুজ পাতায় বিন্যস্ত।

রোপণের জায়গাঃ কলকে গাছ ছোট বৃক্ষের উচ্চতাসম্পন্ন বলে পৃথিবীর নানা দেশে একে রাস্তার পাশে, বাগানে ও পার্কে ভূদৃশ্যের জন্য লাগানো হয়। এই ফুলের ঘ্রাণ তীব্র না হলেও হাজারটা ফুল থেকে স্বতন্ত্র।

গাছের গঠন: সারা বছর সবুজ পাতায় ঢাকা থাকে। কাণ্ডগোল,মসৃণ, হালকা ধুসর,নরম,অগুনতি শাখায় ছাড়ানো ছিটানো। ছোট খাটো গাছ। উচ্চাতায় ১ মিটার পর্যন্ত হয়। ডাল কাটলে বা ভাঙ্গে সাদা সাদা দুধের ন্যায় কষ বের হয়। দুধ গুলো আটালো।

পাতা: কলকের পাতা চিকন ও সরু। লম্বায় ১০ থেকে ১৫ সে.মি. পর্যন্ত,চওড়ায় ২ সে.মি.পর্যন্ত। রঙ ঘন সবুজ। বোটাঁ ছোট। পাতা সরু ছুরির মত শেষ প্রান্ত সুচালো। ঘনভাবে সুবিন্যাস্ত।

ফুল: কলকের নাম হলদে কলকে হলেও এর ফুল শুধু হলুদ না হয়ে সাদা গোলাপি,হালকা লাল হয়। ফুল কলকির মত দেখতে। লম্বায় ১০ সে.মি.। কলকে গাছের শাখার মাথায় ফুল ধরে। বৃতি গুলো একটার সাথে আর একটা লাগানো। সবুজ। লম্বায় ৩ সে.মি.। দল গুলো ৫ সে.মি. লম্বায়। প্রত্যেকটির সাথে প্রত্যেকটি যুক্ত। ফুলের পাপড়ি ৫ টি। পাপড়ি গুলো প্যাচাঁনো থাকে একটার সাথে একটা।,নলাকৃতি। ফুলে মধু থাকে।

ফল: ফল জোড়ায় জোড়ায় ফল ধরে। ফলের দুই প্রান্ত ঢালু তবে মধ্যখানে ফুলে ওঠা উঁচু থাকে। অনেকটা ডিমের মত। ফল ফ্যাকাসে হলদে। ডিমের ভেতর বীজ থাকে। প্রতি ফলে ২ টি বীজ থাকে। বীজ থেকে বংশ বিস্তার। বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত। বীজ পাকলে ফ্যাকাসে বাদামী হয়।

উপকারী অংশ: কলকের ছাল,পাতা ও বীজ। ছালে কার্ডিওএকটিভ,গ্লাইকোসাইড থাকে। পাতা ও বীজে গ্লাইকোসাইড রয়েছে।

বিষাক্ত অংশঃ এই গাছের বাকল, বীজ ও কষ বিষাক্ত। বিষক্রিয়ার ধরন হচ্ছে ফল মারাত্মক অবসাদক, পঙ্গুত্ব আরোপক ও ঘাতক।

ব্যবহার: ছাল ও বীজে কর্ডিয়াক টনিক ও কাডর্য়িাক স্টিমুলেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা হয়। শক্তিশালী রেচক । পাতাতেও একই ধরনের গুণাগুণ রয়েছে। বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত।বীজ ব্যবহার করে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাত ঘটানো যায়। বাতরোগে ও পা ফোলা রোগে কয়েকটি বীজ বেটে পেস্ট তৈরী করে আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কয়েকদিন লাগালে পা ফোলা ও বাতরোগ ভালো হয়।

এছাড়াও পারস্যে ব্যবহৃত ‘কল্কা’ নামটির আগমন ঘটেছে তুর্কী শব্দ কল্‌গা থেকে যার অর্থ পাতা। এই পাতাকে ‘মোটিফ’ হিসেবে বহুবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয় শাড়ি, নকশিকাঁথা ও কাশ্মীরী শাল। প্রাচীনকালে এই বীজকে ছিদ্র করে মালা বানিয়ে গলায় ধারণ করতো পেরুর অধিবাসী।

বিঃদ্রঃ লেখাটি পুনরায় সংকলিত। উইকিপিডিয়া – আজকের কৃষি দ্বারা।

সকল সাম্প্রতিক পোষ্ট নোটিফিকেশন পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Comments are closed.