ভিয়েতনাম হাইব্রিড নারিকেল চাষ পদ্ধতি -ভিডিওচিত্র

ভিয়েতনাম হাইব্রিড নারিকেল চাষ পদ্ধতি -ভিডিওচিত্র দেখুন। এই চারা বাংলাদেশের প্রায় উপজেলা শহরের হর্টিকালচার ডিপার্টমেন্ট এর নার্সারি তে পাবেন।

নিচের ভিডিও ক্লিপ দেখুন।  

দুর্বা ঘাসের চমৎকার কিছু গুন

এটি একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত দুর্বা ঘাস দীর্ঘকাল প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। মাঠে ময়দানে ঘরবাড়ীর আনাচে কানাচে আপনা আপনি এ ঘাস জন্মায়। এর পাতা সরু, লম্বা। মসৃণ ও সবুজ বর্ণের হয়। মাতির নিচে এর গুচ্ছ মূল থাকে। দুর্বা ঘাস আলাদা ভাবে চাষের কোন প্রয়োজন হয় না।

দুর্বা ঘাসের পরিচিতি-

প্রচলিত নাম- দুর্বা ঘাস

ইউনানী নাম- দুর্বা / দুব

আয়ুর্বেদিক নাম-দুব

ইংরেজী নাম- Bermuda grass, Dove grass.

বৈজ্ঞানিক নাম- Cynodon dactylon Pers.

পরিবার- Poaceae (Gramineae)

দুর্বা ঘাসে যে সমস্ত রাসায়নিক উপাদান আছে- টারপিনয়েড যৌগ যেমন অরুনডেইন, লুপিনোন ইত্যাদি বিদ্যমান। এছাড়া দুর্বা ঘাসে প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট ও বেশ কিছু অর্গানিক এসিড পাওয়া যায়।

দুর্বা ঘাস সাধারণত রক্তক্ষরন, কেটে যাওয়া বা আঘাত জনিত রক্তপাত, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, বমন, চুল পড়া, চর্ম রোগ, দন্তরোগ ও আমাশয়ে কার্যকরী।

রোগ অনুযায়ী এর ব্যবহার পদ্ধতি-

# কেটে যাওয়া বা আঘাত জনিত রক্তক্ষরনে দুর্বা ঘাস সামান্য পানি মিশিয়ে পিষে কাটা স্থানে বেধে দিলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। কাটা স্থান দ্রুত জোড়া লাগে এবং শুকিয়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে দুর্বার শিকড় ব্যবহার করলে বেশী উপকার পাওয়া যায়।

# চুল পড়া রোগের জন্য একটি পাত্রে এক লিটার নারিকেল তেল মৃদু তাপে জ্বাল করে ফেনা দুর করে নিতে হবে। তারপর দুর্বার ঘাসের টাটকা রস ২০০ মিলি সম্পূর্ণ তেলে মিশিয়ে পুনরায় জ্বাল দিয়ে চুলা হতে নামিয়ে ছেঁকে টা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন গোসলের ১ ঘন্টা আগে ঐ তেল চুলে মাখতে হবে। নিয়মিত২-৩ মাস প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যাবে।

#বমি ভাব বন্ধের জন্য দুর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ ১ চা চামচ চিনি সহকারে ১ ঘন্টা পর পর খেতে হবে, বমি ভাব কেটে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

# অধিক ঋতুস্রাব রোগের জন্য দুর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ প্রতিদিন মধু সহ ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

#আমাশয় রোগের জন্য দুর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ ডালিম পাতা কিংবা ডালিমের ছালের রস ৪-৫ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে আমাশয় ভাল হয়ে যাবে।

আমাদের আনাচে কানাচে জন্ম নেয়া দুর্বা ঘাসের কত ঔষধি গুণাবলী। প্রয়োজনে এর ব্যবহার করতে পারেন। আজ এই পর্যন্ত।

সকলে ভাল থাকুন ও সুস্থ্য থাকুন। সকলকে ধন্যবাদ। ভাল লাগলে মন্তব্য করতে কার্পণ্য করবেন না।
এটি একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত দুর্বা ঘাস দীর্ঘকাল প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। মাঠে ময়দানে ঘরবাড়ীর আনাচে কানাচে আপনা আপনি এ ঘাস জন্মায়। এর পাতা সরু, লম্বা। মসৃণ ও সবুজ বর্ণের হয়। মাতির নিচে এর গুচ্ছ মূল থাকে। দুর্বা ঘাস আলাদা ভাবে চাষের কোন প্রয়োজন হয় না।

দূর্বাঘাসের গুণাগুণ:

চিকিৎসায় দূর্বাঘাস ব্যবহারের উপায়:

  • দূর্বাঘাসের রস: ১০-২০ মি.লি.
  • দূর্বা মূল চূর্ণ: ৩-৬ গ্রাম
  • পাতার চূর্ণ: ১-৩ গ্রাম
  • পানি: ৪০-৮০ মি.লি।

সবগুলো একত্রে মিশিয়ে জুস তৈরি করে পান করবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: দূর্বা ঘাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে বিদ্যমান ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়ারোধী ক্ষমতা শরীরকে যেকোন ধরনের রোগের বিরুদ্ধেই লড়ার শক্তি প্রদান করে।

পুষ্টিতে ভরপুর থাকায় দূর্বাঘাস শরীরকে সক্রিয় ও শক্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক। এটি অনিদ্রা, ক্লান্তি, স্ট্রেস ইত্যাদি রোগের জন্য লাভজনক।

ত্বকের সমস্যা: দূর্বাঘাসে বিদ্যমান প্রদাহরোধী ও জীবাণুরোধী গুণের কারণে তা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন চুলকানি, লাল লাল ফুসকুড়ি, একজিমা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে। এজন্য দূর্বাঘাস ও  হলুদ পিসে ত্বকে লাগাবেন। দূর্বার রস পান করলে ঘনঘন পিপাসা লাগা থেকে মুক্তি মেলে।

 

রক্তশূণ্যতা: দূর্বার রসকে সবুজ রক্ত বলা হয়। কারণ রস পান করলে রক্তশূণ্যতার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। এই রস রক্ত পরিষ্কারক এবং লোহিত রক্তকণিকা বাড়াতে সাহায্য করে। এগুলো ছাড়াও চোখের জ্যোতি বাড়াতেও সহায়তা করে। এজন্য নগ্ন পায়ে ঘাসের উপর হাঁটতে হয়। শীতের সকালে নরম-কোমল দূর্বাঘাসের উপর হাঁটতে পারেন।

মানসিক রোগে: দূর্বার রস মৃগী, হিস্টিরিয়া ইত্যাদি মানসিক রোগের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। মাথায় দূর্বাঘাস পিসে লেপ দিলে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়!

হজম শক্তি বৃদ্ধি: দূর্বাঘাস নিয়মিত সেবন করলে পেটের অসুখ থেকে মুক্তি মেলে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। এর রস পানে পিত্তজনিত কারণে সৃষ্ট বমি ঠিক হয়ে যায়।

অন্যান্য ব্যবহার: উপর্যুক্ত উপকারীতা ছাড়াও দূর্বাঘাস নিম্নোক্ত উপকারও করে।

  • দূর্বাঘাসেপ্রচুরফ্লেভিনয়েডসথাকে।যাআলসারপ্রতিরোধেকার্যকর।
  • এটিগ্লুকোজেরপরিমাণকমকরতেসহায়ক।যাডায়াবেটিসনিয়ন্ত্রণকরতেসক্ষম।
  • রক্তেকোলেস্টেরলেরমাত্রাকমকরেহৃদপিণ্ডকেসুস্থরাখে।
  • সর্দি-কাশিরসমস্যাদূরকরে।
  • কেটেগেলেদূর্বাপিসেলাগিয়েদিলেরক্তপাতবন্ধহবে।

জার্মান ঘাস চাষ পদ্ধতি

জার্মান ঘাস চাষ পদ্ধতি

জার্মান ঘাস এক প্রকার স্থায়ী ঘাস। এ ঘাসের কান্ডের গিটে শিকড় থাকে এবং পারা ঘাসের মত লাগানোর পর ঘাসের লতা সমস্ত জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘাস গরুর খবু পছন্দনীয়, দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চ ফলন শীল। বাংলাদেশে এ ঘাস আবাদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।গবাদি পশু পালনের জন্য ঘাস একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। যার ফলে ঘাস চাষ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর জার্মান ঘাস এক ধরনের স্থায়ী ঘাস। এর কাণ্ডের গিটে শিকড় থাকে এবং পারা ঘাসের মতো লাগানোর পর ঘাসের লতা পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘাস গরুর খুব পছন্দ। দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চ ফলনশীল এ ঘাস অাপনিও চাষ করতে পারেন।

জমি নির্বাচনঃ-

জার্মান ঘাস পারা ঘাসের মত নিচু ও জলাবদ্ধ জমিতে চাষ করা যায়। জার্মান ঘাস দাঁড়ানো পানিতে জন্মনো যায়। সে সমস্ত জমিতে সারা বছর পানি থাকে অথবা কিছুকাল ডুবে থাকে, সে সব জমিতে এ ঘাস চাষ করা যায়। এছাড়া খাল, বিল, মজা পুকুর, নদীর ধার, ডোবা, নালাতে এই ঘাস চাষের জন্য উপযুক্ত।

রোপণের সময়ঃ- মার্চ হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ঘাস চাষের উপযুক্ত সময়।

রোপণের দূরত্বঃ- সারি থেকে সারি গাছে থেকে ১-১.৫ ফুট।

বংশ বিস্তারঃ-

এ ঘাস হতে ভালো বীজ উৎপাদন হয় না। কাজেই কাটিং ও মোথা দ্ধারা বংশ বিস্তার করতে হয়।
কাটিং বা মোথার প্রাপ্তিস্থানঃ- আপনার জেলা বা উপজালার প্রানী সম্পদ অফিসে। বিনা মূল্যে কাটিং বা মোথা বিতরণ করা হয়।

চারা তৈরিঃ-

গাছ পরিপক্ক হলে কান্ডের গিট হতে শিকড় বের হয়। এ রকম পরিপক্ক গাছের কমপক্ষে ৩ টি গিট নিয়ে কাটিং করতে হয়। সমতল শুকনা জমিতে লাগালে কয়েকটা চাষ দিয়ে আগাছামুক্ত করে নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে কোদাল দিয়ে গর্ত করে চারা বা কাটিং রোপন করতে হবে। কাটিংগুলি কাত করে অর্থাৎ ৪৫-৬০ ডিগ্রি কোনে এমন ভাবে লাগাতে হবে যেন কাটিং এর একটি গিট মাটির নীচে একটি মাটির সমান এবং অপর গিট মাটির উপরে থাকে।

সার প্রয়োগঃ-

জার্মান ঘাস উর্বর জমিতে ভাল হয়। ভাল ফলনের জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে গোবর দিতে হবে এবং চারা লাগানোর ২/৩ সপ্তাহ পর একর প্রতি ৪০ কেজি ইউরিয়া ছিটিয়ে দিতে হবে, প্রতিবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৩৫-৪০ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

ঘাস কাটাঃ-

জার্মান ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল। রোপণের ৫০-৬০ দিন প্রথম কাটার উপযোগী এবং এর পর প্রতি ৪/৫ সপ্তাহ পর পর কাটা যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এ ঘাস মার্চ হতে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ে। শীতকালে এ ঘাসের তেমন বৃদ্ধি ঘটে না।
ফলনঃ- জার্মান ঘাস বছরে প্রায় ৫ বার কাটা যায়। উর্বর জমিতে ও ভালো ব্যবস্থাপনায় বছরে একর প্রতি ৩০-৪৫ টন সবুজ ঘাস পাওয়া যায়।

প্রাপ্তিস্থান

জার্মান ঘাস থেকে ভালো বীজ উৎপাদন হয় না। তাই কাটিং ও মোথা দ্বারা বংশ বিস্তার করতে হয়। জেলা বা উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসে বিনামূল্যে কাটিং বা মোথা বিতরণ করা হয়। সেখান থেকে সংগ্রহ করে চাষ করতে পারেন।

 

জার্মান ঘাস নিচু ও জলাবদ্ধ জমিতে চাষ করা যায়। এমনকী জমানো পানিতে চাষ করা যায়। যে সব জমিতে সারা বছর পানি থাকে অথবা কিছুকাল ডুবে থাকে, সে সব জমিতে এ ঘাস চাষ করা যায়। এছাড়া খাল, বিল, মজা পুকুর, নদীর ধার, ডোবা, নালা এই ঘাস চাষের জন্য উপযুক্ত।

 

পারা ঘাস চাষ পদ্ধতি

পারা ঘাস চাষ পদ্ধতি

পারা ঘাস এক প্রকার স্থায়ী ঘাস। দেখতে অনেকটা দল ঘাসের মত। এ ঘাস মহিষ বা পানি ঘাস নামেও পরিচিত। জমিতে লাগানোর পর মাটিতে লতার মত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প দিনের মধ্যেই সমস্ত জমিতে বিস্তার লাভ করে। এ ঘাস পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং উচ্চ ফলনশীল। এটি জলাবদ্ধ ও লবণাক্ত তা স হয করতে পারে এবং কয়েক দিনের জন্য বন্যার পানিতেও এ ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এ ঘাস চাষ করা যায় এবং উঁচু স্থান অপেক্ষা নিচু জলাবদ্ধ জমিতে ভাল হয়। এ ঘাস গবাদি পশু ছাড়াও গ্রাসকার্প মাছের জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। শীতকালের সামান্য সয়ম ব্যতীত অন্যান্য সকল সময়ই এ ঘাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

​পুষ্টিমানঃ- শুষ্ক পদার্থের ভিত্তিতে নিন্মরূপ।
ক) ক্রুড প্রোটিন (CP) ৯.৪%
খ) ক্রুড ফাইবার (CF) ২৯.৩%
গ) চর্বি (EE) ০.৮%
ঘ) খনিজ (Ash) ১০.৪%
ঙ) নাইট্রোজেন ফ্রি এক্সট্রাক্ট (NFE) ৫০.১%
জমি নির্বাচনঃ- পারা ঘাস প্রায় সব জমিতে আবাদ করা যায়। উঁচু, নিচু, ঢালু জলাবদ্ধ এমন কি লোনা মাটিতেও এ ঘাস ভাল জন্মায় এবং ভাল ফলন দিয়ে থাকে। পারা ঘাস যেহেতু জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে তাই যে সমস্ত স্থানে এবং জলাবদ্ধ জায়গা পুকুর, ডোবা ও বাঁধের ধারে এ ঘাসের চাষ করা যেতে পারে।
রোপণ সময়ঃ- বৈশাখ হতে আশ্বিন এ ঘাস চাষের উপযুক্ত সময়।
রোপণ দূরত্বঃ- সারি থেকে সারি এবং গাছ থেকে গাছ ১.১.৫ ফুট।
বংশ বিস্তারঃ- পারা ঘাসের কাটিং বা লতা মাটিতে লাগিয়ে বংশ বিস্তার করা যায়।
চারা তৈরিঃ- পরিপক্ক গাছের কম পক্ষে তিনটি গিট নিয়ে কাটিং তৈরি করতে হয়।
চারার পরিমানঃ- চারার পরিমাণ রোপণ ও দূরত্বের উপর নির্ভরশীল। ১.০X১.৫ ফুট দূরত্বে রোপণ করলে একরে প্রায় ২০,০০০ কাটিং প্রয়োজন।
রোপণের পদ্ধতিঃ- সমতল শুকনা জমিতে প্রথমে ৪/৫ টি চাষ ও মই দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এর পর নির্দিষ্ট দূরত্বে গ র্ত করে প্রতি গর্তে ৩/৪ টি কাটিং রোপণ করতে হবে। কাটিং ছাড়া সম্পূর্ণ লতাও রোপণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে লাইন বারাবর ১-১.৫ ফুট দূরত্বে কোদাল দ্বারা সামান্য গর্ত করতে হবে। এরপর ৩/৪ টি লতার গোড়া একত্রে করে প্রথমে গর্তে রেখে ভালভাবে মাটি চাপা দিতে হবে। অতঃপর উক্ত লতা সমূহের গিট অংশ পরবর্তী গর্ত গুলোর উপর বিছিয়ে দিয়ে মাটি চাপা দিতে হবে। এভাবে সমস্ত জমিতে ঘাসের লতা রোপণ করতে হবে।
কাদা জমিতেঃ- কাদা জমিতে লতার গোড়ার অংশ পুঁতে দিয়ে মাঝে পা দিয়ে লতার গিটের অংশ চেপে দিতে হবে। কাদা জমিতে চারা ছিটিয়ে গরু দিয়ে বা পা দিয়ে মারিয়ে দিয়েও পারা ঘাস লাগানো যায়। এ পদ্ধতিতে ঘাস লাগালে প্রতিটি গিট হতে নতুন চারা গজিয়ে দ্রুত ঘাসের বংশ বিস্তার ঘটে।
অসমতল/ঢালু জমিতেঃ- অসমতল বা ঢালু জমিতে যেমন রাস্তা , বাঁধ ও পুকুর পাড়ের ঢালে লাগালে প্রথমে ভাল ভাবে আগাছা পরিষ্কার করে গর্ত করে প্রতি গর্তে গোবর ও টিএসপি সার দিয়ে ঘাসের কাটিং বা লতা লাগাতে হবে।
সার প্রয়োগঃ- পারা ঘাসের জমিতে সার প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। পারা ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস এবং বছরে অনেকবার কাটা যায়। সুতরাং এ ঘাসের সারের চাহিদা প্রথমতঃ নাইট্রোজেন (ইউরিয়া সার)। সমতল চাষযোগ্য জমিতে যখন পারা ঘাস লাগানো হয় তখনে চাষের সময় একর প্রতি ৩৫ কেজি ইউরিয়া সার এবং প্রতিবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৩৫ কেজি ইউরিয়া দিতে হবে।
ঘাস কাটাঃ- জমিতে চারা লাগানোর প্রায় ৬০-৭০ দিন পর প্রথম বার ঘাস কাটা যায়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪/৫ সপ্তাহ পর ঘাস কাটা যায়। মাটি হতে ৪/৫ ইঞ্চি উপর থেকে ঘাস কাটতে হয়।
ফলনঃ- পারা ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল বিধায় একর প্রতি বছরে গড়ে ২৫-৩০ টন সবুজ ঘাস পাওয়া যায়।
সংরক্ষণঃ- রোদ্রে শুকিয়া।

ছাদে ঘরে মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়

ছাদে  ঘরে মাশরুম চাষ : ঘরে বসে আয়

 

ভুমিকা

 

যেকোনো সমান জায়গায় কম আলোয় মাশরুম চাষ করা যায়। বীজ বোনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ফলন। আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুম ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১৭০-১৮৫ টাকা এবং গুঁড়া ১৭০-১৮৫ টাকা বিক্রি করা যায়। তাই বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে পারেন মাশরুম চাষ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন একসময় মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা বলে কত হাসাহাসিই না করেছি আমরা। সেই মাশরুম আজ হয়ে গেছে অর্থকরী সবজি। মাশরুম হলো একধরনের ছত্রাক। পৃথিবীর সর্বত্র এই ছত্রাক সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গ্রিক, রোমান ও চীনারা মাশরুমকে দেবতার খাবার হিসেবে মনে করেন। প্রাচীন দেব-দেবীদের এটি দিয়ে পুজো দেওয়া হতো। এমনকি রাজা-মহারাজাদেরও মাশরুম উপহার হিসেবে পাঠানো হতো। যেকোনো সবজির চেয়ে এর খাদ্যগুণ বেশি। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। সুস্বাদু এই খাবারের স্বাদ অনেকটা মাংসের মতো। মাশরুম দাঁত ও হাড়ের গঠনে বিশেষ উপযোগী। রক্তহীনতা, বেরিবেরি ও হূদরোগ প্রতিরোধে এবং বহুমূত্র রোগে বিশেষ কার্যকরী। প্রায় তিন লাখ ছত্রাকের মধ্য থেকে মাত্র ১০ প্রজাতির ছত্রাক খাওয়ার উপযোগী।

মাশরুম চাষ কিভাবে করা যায়, চাষ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কিনা, এক বিঘা জমির উৎপাদন খরচ, এর পুষ্টিমান এবং সর্বোপরি এর মাধ্যমে কিভাবে বাড়তি আয় করা সম্ভব, সেই বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘‘মাশরুম” ব্যাঙের ছাতার মতো এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় গাছ। মাশরুম ও ব্যাঙের ছাতা দেখতে একই রকম হলেও এদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া কোন কোন মাশরুম বিষাক্ত হয় এবং সেগুলো খাওয়া যায় না। সূর্যের আলোয় প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারে না তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের জন্য বেশি করে মাশরুম পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে অনেক স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষকরা মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় বিশেষ করে ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর প্রভৃতি স্থানে এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। মাশরুম চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। মাশরুম চাষ করতে আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না।

বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেল ও চাইনিজ হোটেলগুলোতে মাশরুমের চাহিদা আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মাশরুমের বাজার মূলত শহরে গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। মাশরুম শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এজন্য যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিদেশে সবজি ও কাঁচামাল পাঠায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাশরুম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

প্রয়োজনীয় মূলধন

মাশরুম চাষ করার জন্য ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার প্রয়োজন হবে। যদি ব্যক্তিগত পূঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।

ব্যাংকঃ
সোনালী ব্যাংকঃ http://www.sonalibank.com.bd/
জনতা ব্যাংকঃ http://www.janatabank-bd.com/
রূপালী ব্যাংকঃ http://www.rupalibank.org/rblnew/
অগ্রণী ব্যাংকঃ http://www.agranibank.org/
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকঃ www.krishibank.org.bd/

এনজিও
আশাঃ http://asa.org.bd/
গ্রামীণ ব্যাংকঃ http://www.grameen-info.org/
ব্রাকঃ http://www.brac.net/
প্রশিকাঃ http://www.proshika.org/

আয়-ব্যয় ও লাভের হিসাব

অয়েস্টার মাশরুমের পাপড়ি বেশি ছড়ানোর আগেই তুলে গোড়া থেকে সামান্য কেটে ফেলতে হবে। পলি প্রোপাইলিনের প্যাকেটে কয়েকটা ছিদ্র করে এর মধ্যে মাশরুমগুলো ভার মুখ বন্ধ করে এই প্যাকেট বাজারজাত করতে হবে। প্রতিটি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। সুতরাং ২০০টি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ৪০ কেজি মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মাশরুমের দাম প্রায় ১২০ টাকা।

৪০ কেজির দাম

৪৮০০ টাকা।

কাঁচামাল ও অন্যান্য খরচ প্রায়

২৫০০ টাকা।

সুতরাং ৪০ কেজি মাশরুম বিক্রয় করে লাভ প্রায় ২৩০০ টাকা।

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান

স্থায়ী উপকরণ

উপকরণ পরিমাণ আনুমানিক মূল্য (টাকা প্রাপ্তিস্থান
গামলা ১টা ৬০-৮০ থালা-বাটির দোকান
ছোট চা-চামচ ১টা ১০-১৫ থালা-বাটির দোকান
ব্লেড ১টা ২-৫ মুদি দোকান
ছুরি ১টা ২০-৩০ থালা-বাটির দোকান
পলিপ্রোপাইল ব্যাগ ১০টা ২০-৩০ মুদি দোকান
মোট খরচ=১১২১৬০ টাকা

কাঁচামাল

উপকরণ পরিমাণ আনুমানিক মূল্য (টাকা প্রাপ্তিস্থান
মাশরুম বীজ বা স্পন ২০০ টা বা ১০০ কেজি ২০০০ ঢাকা জেলার সাভার
যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ ৫০০
মোট খরচ=২৫০০ টাকা

 

 

মাশরুমের উপকারিতা

মাশরুমে প্রচুর প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। তাই খাদ্য হিসেবে এটা খুবই পুষ্টিকর। এর উপকারিতাসমূহ হল-

  • রক্তে চিনির সমতা রক্ষা করে ফলে ডায়াবেটিক রোগী এবং যারা স্থুল বা স্বাস্থ্যবান তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার।
  • মাশরুম দেহের ক্ষয়পূরণ, হাড় গঠন ও দাঁত মজবুত করে।
  • রক্তহীনতা, বেরিবোধ, হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

খাবারের উপযোগী মাশরুম

আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয় –

  • স্ট্র মাশরুম : ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চাউলের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্র মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।
  • ইয়ার মাশরুম: সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙের। ইয়ার মাশরুম সারাবছর চাষ করা গেলেও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।
  • অয়েস্টার মাশরুম: আমাদের দেশে এই জাতের মাশরুম চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারাবছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত ও বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়।

মাশরুম উৎপাদন কৌশল

চাষের উপযোগী স্থান

মাশরুম খোলা জায়গায় চাষ করা যায় না। তাই এর জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। মাশরুম চাষ করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় ছন বা বাঁশের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। মাটির দেওয়াল দিয়েও ঘর তৈরি করা যায়। আবার বাঁশের বেড়াও দেওয়া যায়। ঘরের ভেতর যাতে আলো ঢুকতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়ায় মাটি লেপে দিতে হয়।

অয়েস্টার মাশরুম চাষ পদ্ধতি

অয়েস্টার মাশরুম বীজ বা স্পন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে মাশরুম চাষ শুরু করা যাবে। ধাপে ধাপে মাশরুম চাষ করতে হয়।

১ম পদ্ধতি

  • মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে মাশরুমের বীজ বা স্পন প্যাকেট সংগ্রহ করতে হবে। বীজ বা স্পনের দুই পাশে কিছুটা গোল করে কেটে চেঁছে নিতে হবে।
  • মাশরুমের প্যাকেট পানিতে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। ৩০ মিনিট পরে পানি থেকে মাশরুমের প্যাকেট উঠিয়ে নিতে হবে।
  • অতিরিক্ত পানি ঝরানোর জন্য মাশরুমের প্যাকেট ৫ থেকে ১০ মিনিট উপুড় করে রাখতে হবে। পানি ঝরে গেলে ঘরের নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিতে হবে। প্রতিদিন এর উপর তিন থেকে চারবার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন পর কাটা জায়গা থেকে অঙ্কুর গজায়। অঙ্কুর গজানোর পর মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • খাওয়ার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হতে ৫ বা ৬ দিন সময় লাগে। খাবার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হলে তা গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
  • বীজের যে জায়গা কাটা হয়েছিল তা ব্লেড দিয়ে একটু চেঁছে দিতে হবে। এই বীজ থেকে আবার মাশরুম গজাবে।
  • একটা আধা কেজি ওজনের বীজ বা স্পন প্যাকেট থেকে ৩-৪ বার মাশরুম পাওয়া যায়। এতে মোট ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যাবে।

২য় পদ্ধতি

  • মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে বীজ বা স্পন সংগ্রহ করতে হবে। এক কেজি ওজনের একটি বীজের পলিথিন খুলে ভিতরের কম্পোস্ট গুঁড়ো করে নিতে হবে।
  • দুই কেজি পরিমাণ ধানের পরিষ্কার ও শুকনো খড় সংগ্রহ করতে হবে। খড়গুলোকে এক ইঞ্চি মাপে কেটে টুকরা করতে হবে।
  • পরিমাণ মতো পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। খড়গুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটন্ত পানিতে খড়ের টুকরোগুলো এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • খড়গুলো পানি থেকে তুলে চিপে পানি শূন্য করে একটি পাত্রে রাখতে হবে।
  • পাঁচটি পলিব্যাগ নিয়ে পলিব্যাগের ভেতরে প্রথমে কিছু খড় বিছিয়ে নিতে হবে। খড়ের উপর মাশরুম বীজের গুঁড়ো দিতে হবে। এভাবে একটি পলিব্যাগে চার স্তরে খড় আর মাশরুম বীজের গুঁড়ো বিছিয়ে দিতে হবে। শেষ স্তরে আবার খড় বিছিয়ে দিতে হবে।
  • খড় বিছানো শেষ হলে খুব শক্ত করে পলিব্যাগ বাঁধতে হবে। এভাবে প্রতিটি পলিব্যাগ বাঁধতে হবে।
  • পলিব্যাগের চার দিকে ১০-১২টি ছিদ্র করতে হবে। এরপর ব্যাগগুলোকে বীজে পরিণত হওয়ার জন্য ১৫-১৮ দিন রেখে দিতে হবে।
  • ১৫-১৮ দিন পরে পলিব্যাগগুলো খুলে বীজের দলাগুলো বের করে নিতে হবে।
  • প্রতিটি বীজের দলা শিকায় করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ৪-৫ বার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • ৩-৪ দিন পর চারদিক দিয়ে মাশরুমের অঙ্কুর গজাতে শুরু করবে। ৪-৬ দিন পর খাওয়ার উপযোগী মাশরুম গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
  • এভাবে মাশরুম চাষে লাভ বেশি হবে। কারণ প্রতিটি পলিব্যাগ থেকে প্রায় আধা কেজি মাশরুম পাওয়া যাবে। সুতরাং পাঁচটি ব্যাগ থেকে প্রায় আড়াই কেজি মাশরুম উৎপন্ন হবে।

সাবধানতা

  • বীজ বা স্পনে কোনভাবেই সূর্যের আলো পড়তে দেওয়া যাবে না। সবসময় ঘরটি ঠান্ডা রাখতে হবে। খুব বেশি গরম পড়লে ঘরের চারদিকে বস্তা ঝুলিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • মাশরুম ঘর ও ঘরের বাইরের চারদিক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় মাশরুম ফ্লাই নামের পোকা মাশরুমের ক্ষতি করে।
  • কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না।

প্রশিক্ষণ

সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা জেলার সাভারে অবস্থিত ‘মাশরুম চাষ কেন্দ্র’ আছে। এছাড়া বাংলাদেশের নানা স্থানে “মাশরুম চাষ কেন্দ্রের” ১৬টি শাখা আছে। মাশরুম চাষ করে ব্যবসা করার জন্য এসব মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে নেওয়া যাবে। এছাড়া মাশরুম চাষ সম্পর্কে বাজারে অনেক বই পাওয়া যায়। এসব বই পড়ার মাধ্যমেও মাশরুম চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে মাশরুম চাষের বিস্তারিত জেনে নিলে চাষ করতে সুবিধা হবে এবং উন্নতমানের মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা:

ব্রাকঃ http://www.brac.net/

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরঃ www.dyd.gov.bd

বিসিকঃ http://www.bscic.gov.bd/

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরঃ http://www.dwa.gov.bd/

মাশরুম মূল্যবান সবজি। বিদেশে এর যথেষ্ট চাহিদা আছে। মাশরুমের পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কথা বলে সাধারণ মানুষকে মাশরুম খাওয়ার জন্য উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। তাহলে সাধারণ বাজারেও এর চাহিদা বাড়বে। আমাদের দেশে এখনও যে খাদ্য ঘাটতি আছে, মাশরুম কিছুটা হলেও তা পূরণ করতে পারে।

কিছু উল্লেখযোগ্য কেস স্টাডি

নারীদের কর্মসংস্থান হতে পারে মাশরুম

http://www.public-post.com/wp-content/uploads/2011/06/women-cultivating-mushroom-Bangladesh.jpg

এবার শিরোনাম প্রসঙ্গে আসা যাক। মানে কিভাবে নারীরা মাশরুম চাষ করে আয় করতে পারে এবং সাবলম্বি হতে পারে সে প্রসঙ্গ। উপরের আলোচনা থেকেই জানা গেছে যে মাশরুম চাষ খুবই সহজ একটি পদ্ধতিতে করা যায়। জায়গা কম লাগে এবং মাত্র আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই মাশরুম চাষ শুরু করা যেতে পারে। তবে ব্যবসা শুরুর আগে এ women-cultivating-mushroom-Bangladesh বিষয়ে অবশ্যয় প্রতিক্ষন নিতে হবে। নারীদের জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে প্রশিক্ষন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করা হচ্ছে। গ্রামের বেশিরভাগ নারীই গ্রিহিনী কেউ কেউ হয়ত হস্তশিল্প বা এ জাতীয় কিছু কাজের সাথে জড়িত। এসব বেকার নারীরা খুব সহজেই মাত্র কিছু দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষের ব্যবসা শুরু করতে পারে।

ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় মাশরুম চাষ একটি জনপ্রিয় ব্যবসা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর এবং রাজশাহীসহ অনেক জায়গায় মাশরুম চাষ অত্যন্ত জনপ্রিয়। ঢাকা শহরেও বিভিন্ন এলাকায় যেমন গোড়ান, কোর্ট কাচারি, রামপুরা, বনশ্রী, সাভার এবং টঙ্গীতে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ হচ্ছে। এসব জায়গায় পুরুষদের পাশাপশি নারীরাও এগিয়ে। তবে একটি রিপোর্ট থেকে মহিলাদের মাশরুষ চাষের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা জানা যায়। এগুলো বস্তুত অন্যান্য সমস্যার মত পিছিয়ে থাকা মহিলাদের গতানুগতিক সমস্যার সমরূপ। সমস্যগুলোর দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিন; সমাধানের চেষ্টা করুন।

কেস স্টাডি

ঝালকাঠিতে মাশরুম চাষে ১০ পরিবারের সাফল্য

http://www.ajkerbangladesh24.com/wp-content/uploads/2013/12/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%87.jpg

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় দ্বিতীয় শস্য বহুমূখী প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলক মাশরুম চাষে সফলতা অর্জন করেছে ১০ টি পরিবার। প্রান্তিক চাষিরা জানান, সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ মাশরুম চাষ করা হয়। সদর উপজেলার গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মাশরুম চাষী মেরিনা বেগম জানান, কৃষি বিভাগের অধীনে ঢাকার সাভারে মাশরুম সেন্টারে গিয়ে মাশরুম চাষ পদ্ধতির বিষয়ে ১ দিনের প্রশিক্ষন দিয়েই আমরা মাশরুম চাষ শুরু করি।

ঝালকাঠি থেকে মেরিনাদের সাথে প্রশিক্ষনে অংশ নেয় ৩৫ জন নারী। সেখান থেকে প্রশিক্ষন শেষে তারা ১০ জনে মাশরুমের ৫শ’ স্পন (প্যাকেট) নিয়ে প্রত্যেকে ৫০ টি করে স্পন নিয়ে ঘরের বারান্দায় তাকে সাজিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করে।

চাষের ১০ দিনের মাথায় মাশরুম ফলে শুরু। ৫০ স্পনে ২ থেকে আড়াই কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়। কৃষি বিভাগের অফিসার, শিক্ষিত ও সচেতনরাই চাষীদের কাছ থেকে কিনে নেয়।’ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহম্মেদ খান জানান, মাশরুম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পুষ্টিকর সবজি জাতীয় একটি খাবার।

মাশরুম চাষে কোন আবাদি জমির দরকার হয় না এবং স্বল্প সময়ে ৭-১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায়। মাশরুমের প্যাকেটে শীতে ২ বার, বর্ষার দিনে ২/৩ বার এবং গরমে ৪/৫ বার স্প্রে করে ভিজা ভিজা ভাব রাখতে হবে। প্যাকেটের বাইরে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ তাপমাত্রার আর্দ্রতা রাখা দরকার।

তাহলেই ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদটি সবজি আকার ধারণ করে উৎপাদন হতে থাকবে। ১০/১৫ দিন পর পর মাশরুম সংগ্রহ করা যাবে।’ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় রায় জানান, ‘মাশরুমে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল উঁচু মাত্রায় রয়েছে। এতে আমিষ, শর্করা, সবজি, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে।

ফলে দেহের ইম্যুন সিস্টেম উন্নত করে। এই প্রোটিনে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ৯ টি এমাইনো এসিডই প্রশংসনীয় মাত্রায় আছে।’ ঝালকাঠিতে মাশরুম চাষে সফলতা অর্জনকারী চাষীরা হল নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের পেরন্ডা গ্রামের ফরিদ বাবুল, চাচৈর গ্রামের আবুল বাশার শরীফ, গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম, সাচিলাপুর গ্রামের মেরিনা বেগম, যোগেশ্বর গ্রামের পেয়ারা বেগম, বাসন্ডা ইউনিয়নের খোকন শরীফ, চামটা গ্রামের মাহমুদা বেগম, কেওড়া ইউনিয়নের পিপলিতা গ্রামের মনোয়ারা বেগম, বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানপাশা গ্রামের কহিনুর বেগম, নবগ্রাম ইউনিয়নের বেতরা গ্রামের আশিষ কুমার দাস।

 

পুঁজি যখন এক লাখ

সাধারণত ১৬ ফুট বাই ৩২ ফুট এবং ১০ ফুট উচ্চতার ঘরে সমতলে ছয়টি মাচা বা তাক (১ ফুট অন্তর অন্তর) তৈরি করত হবে। ৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩ ফুট প্রস্থের একটি তাকে ৮০০-১০০০ বীজ চাষ করা যায়। চাষের জন্য বীজ পাওয়া যাবে পুরনো চাষিদের কাছে এবং সাভারে সোবহানবাগের মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে। বিভিন্ন জাতের মাশরুমের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার প্রয়োজন। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী। তা ছাড়া মিল্কী মাশরুমও চাষ করা যায়। মাশরুম চাষের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ২০-৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ছনের চালা বা টিনের ঘরে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ঘরটি গাছের নিচে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। আর তাক তৈরির সময় যাতায়াত, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য নূ্যনতম জায়গা রাখতে হবে। বীজের পরিচর্যা, ফলন তোলা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের উপকরণের প্রয়োজন হবে।

কম সময়ে দ্রুত ফলন

প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সব ঠিক করে বীজ আনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে প্রথম ফলন পাওয়া যাবে। একটি বীজ থেকে তিন-চার দিন অন্তর অন্তর ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি বীজ থেকে দু-তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এভাবে প্রাথমিক অবস্থায় আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তবে বীজ পুরনো হলে ধীরে ধীরে ফলন কমতে থাকে। তখন নতুন বীজ সংযোজন করলে আবার ফলন বেড়ে যায়।

যেখানে বিক্রি করবেন

বিভিন্ন চেইন শপে (যেমন আগোরা, নন্দন, স্বপ্ন, মিনাবাজার) মাশরুম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। উত্পাদনকারীরা প্যাকেটজাত করে সরাসরি চেইন শপগুলোতে পাইকারি দরে সরবরাহ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন চায়নিজ রেস্তোরা, ফাস্টফুড খাবারের দোকান এবং রাস্তার ধারে মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের দোকানে মাশরুম বিক্রি করা যায়। অনেক ক্রেতা সরাসরি খামারে এসেও মাশরুম কেনেন। তিনভাবে মাশরুম বিক্রি হয়- ফ্রেশ বা কাঁচা মাশরুম, শুকনা মাশরুম এবং পাউডার মাশরুম। কাঁচা মাশরুম ১০০ গ্রাম প্যাকেট হিসেবে ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১০০ গ্রাম ১৭০-১৮৫ টাকা এবং পাউডার ১০০ গ্রাম হিসেবে ১৭০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়।

ঝুঁকি

সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে না পারলে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। সঠিক তাপমাত্রার অভাব ছাড়াও বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- তেলাপোকা, মাছি, ইঁদুর, মাকড়সা ইত্যাদি আক্রমণের শঙ্কা আছে। এসব ক্ষতিকর পোকামাকড়কে সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিকার করতে হবে।প্রশিক্ষণ সরকারিভাবে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষের জন্য বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা করে থাকে। আর প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং খামার তো রয়েছেই। যোগাযোগ মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয় সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা। ফোন-০২-৭৭৪২৪৯৬, ০২-৭৭১০৬৪৬
সাক্ষাৎকার

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়

সালেহ আহম্মদ
প্রকল্প পরিচালক, মাশরুম উন্নয়ন জোরদার প্রকল্প জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র মাশরুম চাষের ওপর আমরা নিয়মিতই তিন থেকে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা করছি। পুরনো উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা, খামারিদের এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আর সবগুলো প্রশিক্ষণই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। আগ্রহী যে কেউ এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। সাভার ছাড়াও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে আমাদের আরো ১৬টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। সারা বছরের মধ্যে শীতকালে মাশরুমের ভালো ফলন হয়। ১০০ গ্রাম মাশরুমের উত্পাদন খরচ যেখানে মাত্র ২০ টাকা, সেখানে বিক্রয় মূল্য ১১০ টাকা। তাই বাড়তি আয়ের জন্য যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন।

ব্যবসা ভালো হওয়ায় শিক্ষকতা ছেড়ে মাশরুম চাষ শুরু করি
মো. ইলিয়াছ স্বত্বাধিকারী,

ডেইনটি মাশরুম খামার, মিরপুর, ঢাকা জগন্নাথ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করি। এর পাশাপাশি ছোট আকারে মাশরুম চাষেও জড়িত হই। ২০০৬ সালের দিকে ব্যবসা ভালো হওয়ায় শিক্ষকতা ছেড়ে মাশরুম চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে তিন লাখ টাকা নিয়ে শুরু করলেও এখন প্রায় ১৫ লাখ টাকার ব্যবসা। বর্তমানে খামারে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন কর্মী কাজ করছে। বেতন বাবদ ২০-২৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আর পরিচর্যা, সরবরাহ, বিক্রয়, ব্যবস্থাপনা, ভাড়া, বিভিন্ন বিলসহ ৩০-৩২ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৫ হাজার টাকা লাভ থাকে

প্রতিদিন ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন পাচ্ছি
সাইফুল ইসলাম

সফল মাশরুম চাষি, সাভার, ঢাকা ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম। সে বছরেরই জুন-জুলাইয়ের দিকে প্রথমে মাশরুম চাষ সম্পর্কে জানতে পারি। সাভারে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ থেকে স্বল্পমেয়াদি একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নেমে পড়ি। প্রথমে আমার মূলধন ছিল মাত্র দুই হাজার টাকা। স্বল্প পরিমাণে চাষের কারণে এর বাজারজাতকরণ বেশ সমস্যা হচ্ছিল। ২০০৪ সালে ২৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নতুন করে আবারও মাশরুম চাষ শুরু করি। বর্তমানে আমার মূলধন বেড়ে হয়েছে তিন লাখ টাকা। আট-দশ হাজার বীজ থেকে প্রতিদিন ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন পাচ্ছি।

 

মাগুরার মাশরুম সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি

Mashroom2014

মাগুরা জেলার মাশরুম চাষিদের উৎপাদিত ২ কোটি টাকার মাশরুম রপ্তানি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলা মাশরুম ফাউন্ডেশন ও কাজী মাশরুম ফার্মের উদ্যোগে এই রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।

এ মাশরুম সংগৃহীত হবে জেলার শতাধিক মাশরুম চাষির কাছ থেকে। প্রতি মাসে রপ্তানিযোগ্য মাশরুমের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড় টন। ইতিমধ্যে রপ্তানির সমস্ত প্রক্রিয়াই শেষ হয়েছে বলে জেলা মাশরুম ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী ইব্রাহিম জানান।

কাজী ইব্রাহিম জানান, জেলায় দিন দিন মাশরুম চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে হাতে গোনা কয়েকজন শোখিন চাষি মাশরুম আবাদ করতেন। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বাজার চাহিদা না থাকায় তারা এ চাষ লাভজনক করতে পারেননি। এতে অনেকেই চাষ ছেড়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে কৃষি বিভাগের সহায়তায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষের উদ্যোগ নেয় মাশরুম ফাউন্ডেশন। মানসম্মত মাশরুম উৎপাদন করায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি  তারা বিদেশের বাজারে মাশরুম রপ্তানির সুযোগ পান। ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় খুলে যায় মাশরুম চাষের নতুন দিগন্ত। মাগুরা সদরেই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম আবাদে নেমে পড়েন।

মাশরুম চাষিরা বলেন, অল্প পুঁজি ও কম বিনিয়োগ করে মাশরুম চাষে বেশি লাভ করা যায়। বাড়ির আশপাশে সামান্য জায়গা ব্যবহার করে মাশরুম চাষ করা যায়। এটা চাষের জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য। ঘরের তাক বা যেকোনো সমান জায়গায় কম আলোয় মাশরুম চাষ করা যায়। বীজ বোনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়।

১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুম ২০-২৬ টাকা, শুকনা ১৭০-১৮৫ টাকা এবং গুঁড়া ১৭০-১৮৫ টাকা বিক্রি করা যায়। তাই বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে মাশরুম চাষ। অন্যান্য সবজির তুলনায় বাজারে এর দাম অনেক বেশি।

আমাদের দেশে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। বিদেশে মাশরুমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাগুরা থেকে মাশরুম বিদেশে রপ্তানি হবে এটা অত্যন্ত আশার কথা।

 

ছাদে বাগান করার বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি ও পরিচর্যা করার উপায়

ছাদে বাগান করার বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি ও পরিচর্যা করার উপায়

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ নগরে বসবাস করে। ১৯৫০ সালে এর হার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। ভবিষ্যতে নগরমুখী মানুষের স্রোত আরো বেগবান হবে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর প্রায় ৬৬ শতাংশ লোক নগরে বসবাস করবে। ততদিনে আরও অনেক শহর ও মেগা শহর গড়ে উঠবে। তাই বর্তমান নগরগুলোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। অতিরিক্ত মানুষের বসবাসের উপযোগী রাখতে নগর উন্নয়নে যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি নগরায়ণ হচ্ছে উত্তর আমেরিকায়। সেখানে বর্তমানে ৮২ শতাংশ মানুষ নগরে বসবাস করে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে ৮০ শতাংশ লোক নগরে বাস করে। সেই তুলনায় আফ্রিকা ও এশিয়ায় নগরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম, যথাক্রম ৪০ও ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি লোক নগরে বসবাস করে। ২০২০ সালে শতকরা ৫০ ভাগ অর্থাৎ সাড়ে আট কোটি লোক নগরে বাস করবে এবং ২০৫০ সালে ১০০% অথাৎ ২৭ কোটি লোক নগরে বসবাস করবে। তখন গ্রাম ও নগর মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে। এমন প্রেক্ষাপটে নগরকে পরিকল্পিত আকারে গড়ে তুলতে হবে। আর তাই ছাদে বাগান অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।Roof Gardening 300×211 ছাদে বাগান করার বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি ও পরিচর্যা করার উপায়
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
* একটি খালি ছাদ;
* হাফ ড্রাম, সিমেন্ট বা মাটির টব, ষ্টিল বা প¬াস্টিক ট্রে;
* ছাদের সুবিধা মত স্থানে স্থায়ী বেড ( ছাদ ও বেডে মাঝে ফাঁকা রাখতে হবে।);যা
* সিকেচার, কোদাল, কাচি, ঝরনা, বালতি, করাত, খুরপি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি;
* দোঁআশ মাটি, পঁচা শুকনা গোবর ও কম্পোষ্ট, বালু ও ইটের খোয়া ইত্যাদি;
* গাছের চারা / কলম বা বীজ ।
চাদে চাষ উপযোগী গাছ ঃ
* আমঃ বারি আম-৩ (আম্রপালি), বাউ আম-২ (সিন্দুরী)
* পেপে, কলা
* পেয়ারাঃ বারি পেয়ারা-২, ইপসা পেয়ারা-১
* কুলঃ বাউ কুল-১, ইপসা কুল-১ (আপেল কুল), থাই কুল-২
* লেবুঃ বারি লেবু -২ ও ৩, বাউ কাগজি লেবু-১
* আমড়াঃ বারি আমড়া-১, বাউ আমড়া-১
* করমচাঃ থাই করমচা
* ডালিম (দেশী উন্নত)
* কমলা ও মাল্টাঃবারি কমলা-১, বারি মাল্টা – ১
* জামরুলঃবাউ জামরুল-১ (নাসপাতি জামরুল), বাউ জামরুল-২ (আপেল জামরুল) ইত্যাদি।
* সবজিঃলাল শাক, পালং শাক, মুলা শাক, ডাটা শাক, কলমী শাক, পুইঁশাক, লেটুস, বেগুন, টমেটো, মরিচ ইত্যাদি।
পদ্ধতিঃ
* হাফ ড্রাম এর তলদেশে অতিরিক্ত পানি নিস্কাশনের জন্য ১ ইঞ্চি ব্যাসের ৫ / ৬ টি ছিদ্র রাখতে হবে।
* ছিদ্র গুলোর উপর মাটির টবের ভাঙ্গা টুকরো বসিয়ে দিতে হবে।
* ড্রামের তলদেশে ১ ইঞ্চি পরিমাণ ইটের খোয়া বিছিয়ে তার উপর বালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
* সমপরিমাণ দোঁআশ মাটি ও পঁচা গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ড্রামটির দুই তৃতীয়াংশ ভরার পর হাফ ড্রাম অনুযায়ী ড্রাম প্রতি মিশ্র সার আনুমানিক ৫০-১০০ গ্রাম প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভাল ভাবে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সম্পুর্ণ ড্রামটি মাটি দিযে ভর্তি করে নিতে হবে।

  • ১৫ দিন পর ড্রামের ঠিক মাঝে মাটির বল পরিমাণ গর্ত করে কাংখিত গাছটি রোপন করতে হবে। এ সময় চারা গাছটির অতিরিক্ত শিকড়/ মরা শিকড় সমূহ কেটে ফেলতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে মাটির বলটি যেন ভেঙ্গে না যায়।
  • রোপিত গাছটিতে খুটি দিয়ে বেধে দিতে হবে।
  • রোপনের পর গাছের গোড়া ভালভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।
  • সময়ে সময়ে প্রয়োজন মত গাছে পানি সেচ ও উপরি সার প্রয়োগ, বালাই দমনব্যবস্থা নিতে হবে।
  • রোপনের সময় হাফ ড্রাম প্রতি ২/৩ টি সিলভা মিক্সড ট্যাবলেট সার গাছের গোড়া হতে ৬ ইঞ্চি দুর দিয়ে মাটির ৪ ইঞ্চি গভীরে প্রয়োগ করতে হবে।
  • গাছের বাড়-বাড়তি অনুযায়ী ২ বারে টব প্রতি ৫০/১০০ গ্রাম মিশ্র সার প্রয়োগ করে ভাল ভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • গাছের রোগাক্রান্ত ও মরা ডালগুলো ছাটাই করতে হবে এবং কর্তিত স্থানে বোর্দপেষ্ট লাগাতে হবে।

পরিচর্যাঃ
ডাল-পালা ছাঁটাই ঃ
কুল খাওয়ার পর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি গাছের সমস্ত ডাল কেঁটে দিতে হবে। তাছাড়াও মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল গুলো কেটে বোর্দ পেষ্ট লাগাতে হবে।
কুল গাছ ছাটাই
টব বা ড্রামের মাটি পরিবর্তনঃ
প্রতি বছর না হলেও ১ বছর অন্তর অস্তর টবের পুরাতন মাটি পরিবর্তন করে নতুন গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টবটি/ ড্রামটি ভরে দিতে হবে। এ সময় খেয়াল বাখতে হবে গাছ যেন বেশী ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। তাই এক স্তর বিশিষ্ট ড্রামের পরিবর্তে দ্বিস্তর বিশিষ্ট ড্রাম ব্যবহার করা উত্তম।
বালাই দমন ঃ
বালাই দমনে পরিবেশ বান্ধব আইপিএম বা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব রাসায়নিক বালাই নাশক যেমন- নিমবিসিডিন, বাইকাও-১ ব্যাবহার করা যেতে পারে।

মিলি বাগ ঃ
পেয়ারা, কুল, লেবু, আম, করমচা, জলপাই, বেগুন প্রভৃতি গাছে এ পোকার আক্রমন দেখা যায়।
লক্ষনঃ
* পাতার নিচে সাদা তুলার মত দেখা যায়।
* পোকা উড়তে পারেনা।
* টিপ দিলে হলুদ পানির মত বের হয়ে আসে।
* গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা লাল হয়ে যায়, পাতা ও ফল ঝরে পড়ে, ফলের আকার বিকৃত হয়ে যায় ।
* অনেক সময় পাতায় শুটি মোল্ড রোগের আক্রমন হয়।

দমনঃ
হাত বাছাইয়ের মাধ্যমে পোকা দমন করতে হবে। প্রয়োজনে জৈব বালাই নাশক প্রয়োগ করতে হবে।
পেয়ারায় মিলি বাগ লেবু গাছে মিলি বাগ কুল গাছে মিলি বাগ

সাদা মাছি ঃ
পেয়ারা, লেবু, জলপাই, বেগুন প্রভৃতি গাছে এ পোকার আক্রমন দেখা যায়।
লক্ষনঃ
* পাতার নিচে সাদা তুলার মত মাছি পোকা দেখা যায়।
* পোকা উড়তে পারে।
* গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা লাল হয়ে যায়, পাতা ঝরে পড়ে, পরবর্তী
মৌসুমে ফলের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পায়।
* পাতায় শুটি মোল্ড রোগের আক্রমন হয়।
দমনঃ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হুইল পাউডার মিশিয়ে পাতার নিচে স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
সাদা মাছি স্যুটি মোল্ড
শুটি মোল্ডঃ
ছত্রাক দ্বারা সংগঠিত হয়। পাতার ওপর কাল কাল পাউডার দেখা দেয়। গাছের ফলন ব্যহত হয়। আক্রমর ব্যাপক হলে পাতা ও ফল ঝরে যায়।

দমনঃ
টিল্ট-২৫০ ইসি, প্রতি লিটার পানিতে ০.৫০ মিঃলিঃ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ছাদ থেকে সতেজ সবজি

ছাদ থেকে সতেজ সবজি

ছাদে বাগান করার শখ রয়েছে অনেকেরই। ফ্ল্যাটে বা বাসা-বাড়িতে সব সময় শখ পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকে না। থাকলেও ফুলের টবে কয়েকটি ফুল গাছ—ব্যস, এ পর্যন্তই। শাকসবজি করার কথা তাঁরা ভাবতেই পারেন না। ভাবেন, নিশ্চয় বড় জায়গা লাগবে। আর পরিচর্যাই বা কীভাবে করবেন।

সঠিক প্রক্রিয়া জানা থাকলে এই ভেজাল ও ফরমালিনের দিনে ঘরেই পেতে পারেন সতেজ সবজি। মডেল ও অভিনয়শিল্পী ফারিয়াদের বাসার কথাই ধরা যাক। তাঁর মা এম এ জাহান সারা বছর ছাদেই সবজি ফলান।মৌসুমের প্রায় সব শাকসবজি তাঁর বাগানে রয়েছে।

তিনি নিজে জৈব সার তৈরি করেন তাঁর বাগানের জন্য। এম এ জাহান বলেন, ‘এখনকার বাজারে যেসব শাকসবজি পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই রাসায়নিক পদার্থ ও ফরমালিনযুক্ত। পরিবারের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবেই এই বাগান করা। শুধু শাকসবজি নয়, নানা ধরনের ফলের গাছও রয়েছে আমাদের বাগানে।’ ফারিয়াও সময় পেলে মাকে বাগান পরিচর্যার কাজে সাহায্য করেন।

কীভাবে করবেন ছাদের বাগান

প্রশিকার প্রকল্প সমন্বয় সহযোগী ও কৃষিবিদ হাসি রানি বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়ির ছাদের ৩০০ বর্গফুট জায়গায় সারা বছরের সবজি উৎপাদন করা যায়। এতে ছাদের কোনো ক্ষতি হয় না। বাগানের পেছনে প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় দিলেই হবে।’

ছোট ছোট বেড তৈরির মাধ্যমে অনেক ধরনের সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। আর একটা বেডে তিন ধরনের সবজি চাষ করা সম্ভব। যেমন যদি কেউ চান তাহলে একটা বেডে টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ করতে পারেন।

বেডগুলো তৈরি করার জন্য ৮ x ২ ফুট আকারের বাঁশের ফ্রেম তৈরি করে নিতে হবে। এবার তা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে তাতে ৮ ইঞ্চি পরিমাণ জৈব মাটি দিতে হবে। জৈব মাটির সঙ্গে জৈব সার মিশিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চারা রোপণ বা বীজ বপন করা হয়। গ্রীষ্মকালে এক দিন পর পর পানি দিতে হবে। সকালে বা দুপুরে পানি দেওয়া যাবে না। শুধু বিকেলে পানি দিলেই হবে। চারা লাগানোর এক মাস পর প্রতি গাছে ২৫০ গ্রাম জৈব সার এবং ১০০ গ্রাম ছাই দিতে হবে। যাঁরা টবে করতে চান, তাঁরাও একইভাবে জৈব মাটি দিয়ে বাগান করতে পারেন। মাটি দিয়ে টবের সম্পূর্ণ ভরাট করা যাবে না। টবে করলে দুই দিন পর পর নিড়ানি দিয়ে হালকাভাবে খুঁচিয়ে মাটি আলাদা করে দিতে হবে। বাড়ির আবর্জনা দিয়ে জৈব মাটি তৈরি করা যায়।

বর্তমানে ঢাকায় প্রশিকা নামক একটি সংস্থা কম খরচে বাড়ির ছাদে অরগ্যানিক ফসল চাষের জন্য প্যাকেজ-সেবা চালু করেছে। এতে প্রতি বেডের তিন বছরের জন্য খরচ পড়বে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি মৌসুমে চারা বাবদ খরচ ১৩০ টাকা।