৫০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি

৫০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি

৫০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি

দেশের বন্যাও বৃষ্টির অজুহাতের কারন দেখিয়ে রাজধানীর নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। গত দুই সপ্তাহে ঘন ঘন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে আলু ও কচুরমুখি বাদে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দাম ৫০ টাকার নিচে মিলছেনা। সবচেয়ে বেড়েছে সবজির দাম।

শুক্রবার (০৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে কাঁচামালের সরবরাহ কমে গেছে -এ অজুহাতে সবজিসহ কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও আলুর দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাছের দরও বেশ চড়া। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বাড়তি দামের কারণে কাক্ষিত পণ্য কিনছেন না।

বিক্রেতারা বলছেন, অতি বর্ষণে রাজধানীর বড় বড় পাইকারি বাজারগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারেনি। অনেক স্থানে কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এসব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আবার কিছু সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বাজারে সব থেকে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া টমেটো ১২০ চাকা থেকে ১৪০, ঢেঁড়স ৪০-৫০, করলা ৫০-৬০, পটোল ৪০-৫০, কচুরমুখী ৪০ টাকা, ধুন্দল ৪৫-৫০, ঝিঙ্গে ৪০-৫০, পেঁপে ৩০-৪০, বরবটি ৫০-৬০, কাঁকরোল ৪০-৬০ নতুন শিম ১০০-১২০ টাকা টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে আরও জানা যায়, দেশি পিঁয়াজ দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৪০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজ ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা; শিম ১২০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শসা ৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটোল ৫০-৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা; করলা ৫০-৫৫ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৩০-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পিরেরবাগের বাজারের সবজি বিক্রেতা হায়দার হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরেই পটোল, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, করলা, ঢেঁড়সসহ প্রায় সব সবজির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, সব ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষদের। একদিকে বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে; অন্যদিকে বর্ষার কারণে সবজির দাম বেড়ে গেছে। কোনো দিকেই স্বস্তি নেই। এভাবে চললে জীবনযাপন করাই কঠিন।

মুদিবাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন পণ্য আগের দরেই রয়েছে। তবে বেড়েছে বোতলজাত তেলের দাম। রূপচাঁদা পাঁচ লিটারের বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ৫৩০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তীর ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতলে সর্বোচ্চ খুচরামূল্য এখন ৫৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৫২০ টাকা।

এ ছাড়া এক লিটারের বোতলের দাম বাড়িয়ে তীর ১০৭ ও রূপচাঁদা ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগের দরের থেকে প্রতি লিটারে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি। এদিকে কয়েক সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া মাছের দাম কমেনি। উল্টো আরও বেড়েছে। বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ২৫০-৩৫০, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০, কাতল ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, সিলভারকার্প ২০০-২৫০, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০, টেংরা ৬০০, মাগুর ৬০০-৮০০, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১ হাজার ২০০ টাকা এবং কেজি হিসেবে প্রতি কেজি মাঝারি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা।