শীতে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু

তীব্র শীতে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশুও

কৃষি বিষয়ক সংবাদ সাম্প্রতিক পোষ্ট

ঘনকুয়াশা আর হিমশীতল বাতাস বাড়াচ্ছে শীতের তীব্রতা। প্রকৃতির এমন প্রতিকূল আবহাওয়া জেকে বসেছে গবাদি পশুগুলোর ওপরও। প্রতিনিয়তই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাঁস, মুরগী, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু।

শীতে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু
শীতে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু

তীব্র শীতে ছাগলে প্লেগরোগ (পিপিআর), হাঁস-মুরগী রানীক্ষেত, গরু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিসহ কৃষকরা।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রচন্ড শীতে গবাদিপশু ও পক্ষিকুল ঝিমিয়ে পড়েছে। শীতের কারণে গড়ে প্রায় দশভাগ ছাগল প্লেগরোগে, দশভাগ হাঁস-মুরগী রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে কিছু গরু ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি খামারি মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গবাদিপশুকে শুকনো খাবার, গোয়ালে তাপের ব্যবস্থা রাখাসহ পশুর গায়ে চটের বস্তা জড়িয়ে রাখতে হবে। খামারগুলো নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখাগেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খামারিরা গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখেছেন। প্রচন্ড শীতে এসব পশুগুলো শুকিয়ে গেছে। শীতের কবল থেকে রক্ষা করতে পশুগুলোকে চটের বস্তা জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরের হিমশীতল বাতাসে পশুগুলো কাঁপছে। তারচেয়ে বেশী কষ্টে রয়েছে গৃহপালিত ছাগলগুলো। হাতে গোনা কিছু মানুষ তাদের ছাগলকে পুরাতন কাপড় পড়িয়ে রক্ষার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ছাগলকেই যত্ন নিতে পারছে না। এসব কারণে পশুগুলো শীতকালীন নানা সমস্যায় ভুগছে।

অপরদিকে, উপজেলার অন্তত ৮২টি খামার মালিক শীতে তাদের মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চাঁচকৈড় তালুকদার পাড়া মহল্লার মুরগির খামারের মালিক আব্দুল কাদের জানান, শীতে তার খামারের প্রায় দেড় হাজার মুরগি ঝিমিয়ে পড়েছে। ঘনকুয়াশা আর শীত থেকে মুরগিকে বাঁচাতে খামারের চারদিকে ঘিরে রাখার পাশাপাশি ভেতরে গরম রাখতে বিদ্যুতের বাল্ব জ্বালিয়ে দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পরও মরছে মুগি।

এদিকে, এই তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে পক্ষিকুলও। বিভিন্ন গাছে আশ্রয় নেওয়া বাদুর, কাক, শালিক, বকসহ পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে।

ধারাবারিষা নয়াবাজারের বাসিন্দা আ.মজিদ জানান, সেখানকার একটি বাঁশ বাগানে কয়েক হাজার কাক, বক, শালিক আশ্রয় নিয়ে বছর ধরেই থাকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ডাকাডাকি করে এলাকা মুখর করে রাখলেও শীতের কারণে এখন তাদের শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না।