হারিয়ে যাচ্ছে মিরকাদিমের সাদা গরু

হারিয়ে যাচ্ছে মিরকাদিমের সাদা গরু

দেশব্যাপী সুনাম অর্জনকারী মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের ঐতিহ্যবাহী সাদা গরু এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। মিরকাদিমের গরু পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ হাটে বেশ সুনামের সঙ্গে কোরবানির ঈদে জনপ্রিয়তা লাভ করে আসছে। এসব গরুর বেশ দামও হাকিয়ে থাকেন বিক্রেতারা।

জানা গেছে, সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তা এখন আর নেই বললেই চলে। ঈদ এলেই পুরান ঢাকার লোকজন মিরকাদিম থেকে ভুট্টা গরু, বাজা, হাঁসা, পশ্চিমা, সিন্ধি, নেপালি গরু কিনে নিয়ে যান। কিন্তু ক্রমাগত লোকসান, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ভারতীয় গরুর প্রবেশ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের কারণে খামার মালিকরা এখন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

মিরকাদিমের আসমা আক্তার বলেন, এবারের ঈদে ছয়টি ধবল গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব গরু প্রতিটি লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হতে পারে। নিজের সন্তানের মতো করে গরুগুলো যত্ন করে লালন-পালন করা হচ্ছে। যত্ন করে গরুগুলো বড় করে তোলা হয়। মশা-মাছি যেন কামড়াতে না পারে, সে জন্য মশারির ভেতরে রাখা হয়।

আসমা আক্তার আরো বলেন, গরমে বৈদ্যুতিক পাখা আর ঠান্ডার জন্য গরম কাপড় গরুর শরীরে জড়িয়ে রাখতে হয়। কোনো গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে সারারাত জেগে থেকে তাদের পরিচর্যা করতে হয়। অত্যন্ত যত্ন নিয়ে এসব গরু বড় করে তোলা হয়। যে কারণে এই গরু সবার পছন্দের। ধবধবে সাদা এসব গরু এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মিরকাদিমের খামার মালিক মাসুম জানান, গাভি গরু গৃহের লক্ষ্মী। এখানে চালের মিল থাকলেও খৈল, ভুষি, কুড়ার দাম বেশি। ৫০ কেজি চালের কুড়া ৮০০ টাকা, ৫০ কেজি চালের খুদ এক হাজার ৭৫০ টাকা, ৩৫ কেজি গমের ভূষি এক হাজার ৩০০ টাকা। এতে প্রতিটি গরু কিনতে দাম পড়ে ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। মোটাতাজা করতে খরচ পড়ে আরো ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তাই গরু মোটা তাজা করার হার অনেক কমে গেছে। কয়েকটি পরিবার বর্তমানে পেশা ধরে রেখেছে। এ ছাড়া পরিবারগুলোর সদস্যরা বেশিরভাগই অন্য পেশায় জড়িত হয়ে পড়ায় গরু পালন কমে এসেছে।

গরু পালনকারী সাত্তার হোসেন জানান, কোরবানি ঈদের ছয়-সাত মাস আগে থেকে তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট ও বাছাই করা গরু কিনে নিয়ে আসেন। বিশেষ করে বাজা গাভি, খাটো জাতের বুট্টি গরু, নেপালি, সিন্ধি জাতের গরু আনা হয়। এ গরুগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, এগুলোর বেশির ভাগের গায়ের রঙ সাদা ও নিখাদ হয়।

সাত্তার আরো জানান, পাঁচ বছর আগেও কোরবানির ঈদগুলোতে মিরকাদিমের বেশিরভাগ ঘরেই ১০-৩০টি গরু পালন করা হতো। এখন সারা মিরকাদিমে ৩০টিও গরু খুঁজে পাওয়া যাবে না বললেই চলে। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাপ-দাদার এ ব্যবসায় কিছু খামারি কোনো মতে টিকে আছে। গরুর মাংস বিশেষ স্বাদের হওয়ায় বহু মানুষ এ মাংস নিতে আসেন শখের বসে। তবে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এসব খামারের গরু এখন হারাতে বসেছে।

 

সোর্স- এন টি ভি