ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন – আদর্শ খামার পদ্ধতি

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন -আদর্শ খামার পদ্ধতি

ভূমিকাঃ এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ধরণের খামারীরা। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী। এসব গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাণিজ্যিক উৎপাদন এদেশে এখনো চোখে পরার মত প্রসার লাভ করেনি। এর অন্যতম কারণ ইন্টেনসিভ বা সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব। সরকারী – বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনিহা । সার্বিক কৃষির উপরে আমাদের বিরূপ মনোভাব বা অবহেলা ।

যে ভাবে একটি আদর্শ ছাগল খামার শুরু করবেন —–
ঘর নির্মাণ —— ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও গন্ধময় পরিবেশে ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে। সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।
ঘর নির্মাণের স্থান —– পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ, বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন, ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ৪/৫ ফুট এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৬-৮ ফুট হতে হবে। মল মুত্র পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নিচ থেকে সহজে মল মুত্র সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা রাখতে হবে এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট দিতে হবে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ৩/৪ ফুট ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপরের দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাচার উপর ৪/৫ ইঞ্চি পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরণের ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে রাখা উচিৎ। পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃ্থক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রাখতে হবে। ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা —– ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে, চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।

ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানো —- সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা। এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত। ছাগলের বাচ্চার দানাদার খদ্যের মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।
ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো —— ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়। ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে। অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়। এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃতি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।

বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা —– ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়। এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে। এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে। এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।

ব্লাক বেঙ্গল বাড়ন্ত ছাগলের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো —-
ছাগলের ওজন (কেজি)—দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)–ঘাস সরবরাহ(কেজি)
৪————————————১০০————————————০.৪
৬————————————১৫০————————————০.৬
৮———————————–২০০————————————-০.৮
১০———————————-২৫০————————————-১.৫
১২———————————-৩০০————————————-২.০
১৪———————————-৩৫০————————————-২.৫
১৬———————————-৩৫০————————————-৩.০
১৮ কেজি বা তার উপরে——–৩৫০————————————-৩.৫

প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা — পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই। তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন। একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাকে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়। ২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।
দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থথাক —- দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বা ১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত। যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।

ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ নিন্মরুপ—–
গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল—————————————————-১২.০০%
গমের ভূষি/আটা কুড়া————————————————৪৭.০০%
খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি——————————১৬.০০%
সয়াবিন খৈল———————————————————-২০.০০%
শুটকি মাছের গুড়া—————————————————–১.৫০%
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট——————————————-২.০০%
লবণ———————————————————————১.০০%
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স ——————————————-০.৫০%


মোট ——————————————————————১০০.০০%

ছাগলের চরানো ——– ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

প্রজনন ব্যবস্থাপনা ——- একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ ,সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট। ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত। ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে- মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি। ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ——- ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়। বছরে দুবার বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) কৃমিনাশক যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স অথবা ফেনাজল ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন, ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত। তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার ব্যবস্থাপনা —— * বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া, বাচ্চা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে। ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।
* যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।
* শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
* বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
* যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।

ছাগলের টিকা প্রদান কর্মসূচি

কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগঃ

সকল ছাগলকে নির্ধারিত মাত্রায় বছরে দুইবার কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে। কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুসরণের জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ ছাগলকে রাস্তার ধার, পুকুর পাড়, জমির আইল, পতিত জমি বা পাহাড়ের ঢালে বেঁধে বা ছেড়ে ৮-৯ ঘন্টা ঘাস খাওয়াতে পারলে খুব উপকার হবে। এ ধরনের সুযোগ না থাকলে প্রতি ২০ কেজি ওজনের ছাগলের জন্য দৈনিক ০.৫-১ কেজি পরিমাণ কাঠাঁল, ইপিল ইপিল, ঝিকা, বাবলা পাতা অথবা এদের মিশ্রণ দেয়া যেতে পারে। প্রতিটি ছাগলকে দৈনিক ২৫০-৩০০ গ্রাম ঘরে প্রস্তুতকৃত দানাদার খাদ্য দেয়া যেতে পারে। ১০ কেজি দানাদার খাদ্য মিশ্রণে যেসব উপাদান থাকা প্রয়োজন তা হচ্ছেঃ চাল ভাঙ্গা ৪ কেজি, ঢেঁকি ছাঁটা চালের কুড়া ৫ কেজি, খেসারি বা অন্য কোনো ডালের ভূষি ৫০০ গ্রাম, ঝিনুকের গুড়া ২০০ গ্রাম এবং লবণ ৩০০ গ্রাম। ইউরিয়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত খড় ও সাইলেজ খাওয়ালে ভাল হয়। কারণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে এবং পরিপাকও ভালোভাবে হয়। জন্মের পর থেকেই ছাগল ছানাকে আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন কাঁচা ঘাস ইত্যাদিতে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর পর ছাগলকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার পানি খেতে দিতে হবে। বাড়ন্ত ছাগলকে দৈনিক প্রায় ১ লিটারের মতো পানি পান করা উচিত। কাঁচাঘাস কম বা এর অভাব ঘটলে ছাগলকে ইউরিয়া-চিটাগুড় মেশানো খড় নিম্নোক্ত প্রণালীতে বানিয়ে খাওয়াতে হবে। উপকরণঃ ২-৩ ইঞ্চি মাপের কাটা খড় ১ কেজি, চিটাগুড় ২২০ গ্রাম, ইউরিয়া ৩০ গ্রাম ও পানি ৬০০ গ্রাম। এবারে পানিতে ইউরিয়া গুলে তাতে চিটাগুড় দিয়ে খড়ের সাথে মিশিয়ে সরাসরি ছাগলকে দিতে হবে। খাসীর ক্ষেত্রে তিন-চার মাস বয়সে দুধ ছাড়ানোর পর নিয়মিত সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাওয়ালে দৈনিক ৬০ গ্রাম করে দৈহিক ওজন বাড়ে ও এক বছরের মধ্যে ১৮-২২ কেজি ওজন প্রাপ্ত হয়ে থাকে। খাসীকে দৈহিক ওজনের উপর ভিত্তি করে মোট ওজনের ৭% পর্যন্ত পাতা বা ঘাস জাতীয় খাদ্য দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ (চাল ভাঙ্গা ৪০%, কুড়া ৫০%, ডালের ভূষি ৫৫, লবণ ৩% এবং ঝিনুকের গুড়া ২%) ১০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ গ্রাম ও ভাতের মাড় ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত খেতে দেয়া যেতে পারে। খাসীর ওজন ২০ কেজির বেশি হয়ে গেলে এদের দেহে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এ সময়েই এদেরকে বাজারজাত করা উচিত। ছাগল খামারের খাদ্য খরচ মোট খরচের ৬০-৭০% হওয়া আবশ্যক। বাণিজ্যিক খামারের লাভ-লোকসান তাই খাদ্য ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। নিম্নে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ প্রদত্ত হলঃ ছাগলের বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ

এ রোগটি প্রোটোজোয়া দ্বারা হয়ে থাকে। ছাগল মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে

নিমড়বলিখিত সাধারণ লক্ষণসমূহ দেখা যায়-

১। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
২। চামড়ার লোম খাড়া দেখায়।
৩। খাদ্য গ্রহণ ও জাবরকাটা বন্ধ হয়ে যায়।
৪। ঝিমাতে থাকে ও মাটিতে শুয়ে পড়ে।
৫। চোখের পানি ও মুখ দিয়ে লালা নির্গত হয়।
ছাগল ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হলে এদের মৃত্যু হতে পারে। ভাইরাস রোগের 
আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করে সুফল পাওয়া যায় না। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত
 রোগেও ছাগলের মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে অনেক ক্ষেত্রেই 
সুস্থ করে তোলা যায়। ছাগলের রোগ প্রতিরোধের জন্য ছাগল
খামারে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করতে হবে-
১। ছাগলের ঘর ও এর চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা।
২। ছাগলকে সময়মতো টিকা দেয়াও কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো।
৩। ছাগলকে তাজা খাদ্য খেতে দেয়া।
৪। ছাগলকে সুষম খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা।
৫। ছাগলের ঘরের মেঝে শুষ্ক রাখার ব্যবস্থা করা।
৬। ছাগলের বিষ্ঠা খামার থেকে দূরে সংরক্ষণ করা।
ছাগলের খামারে রোগ দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ 
করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-
১। অসুস্থ ছাগলকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করা ও চিকিৎসা দেওয়া।
২। প্রয়োজনে ছাগলের মলমূত্র পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
৩। মৃত ছাগলকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া।

দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে ছাগল পালনের মাধ্যমে 
স্বাবলম্বী হতে পারে। ছাগল ভূমিহীন কৃষক ও দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের
 একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেশের দরিদ্র 
জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। লিখেছেন- কৃষিবিদ
 মোঃ নিয়ামুল কবীর

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ছাগলের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় অর্থনীতিতে
 ছাগলের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বল্প পুঁজি 
বিনিয়োগ করে ছাগল পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে। ছাগল ভূমিহীন কৃষক 
ও দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। ছাগলের মাংস 
উন্নতমানের প্রাণিজ আমিষের উৎস। ছাগলের দুধ সহজে হজম হয়। আদিকাল 
থেকে গ্রামবাংলার নারীরা বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে ছাগল পালন করে আসছেন।
 তাই বলা যায়, ছাগল বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর
 দারিদ্র্য মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। ছাগল পালনের তেমন কোনো কারিগরি 
দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। ছোট প্রাণী, দাম কমÑ তাই প্রাথমিকভাবে স্বল্প পুঁজি
 বিনিয়োগ করা যায়। ছাগলের রোগবালাই তুলনামূলক কম। ১২ মাসে দু’বার 
বাচ্চা পাওয়া যায়। প্রতিবারে ১-৪টি বাচ্চা দেয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রোগপ্রতিরোধ
 ক্ষমতা বেশি। চামড়া খুবই মূল্যবান, যা বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা
 অর্জন করা সম্ভব। ছাগল লালন-পালন ও চিকিৎসা খরচ অন্যান্য পশুর তুলনায় 
অনেক কম।

ছাগলের জাত পরিচিতি

পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে। বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল, যমুনাপারি, 
বারবারি জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের আবহাওয়ায়
 বেশি উপযোগী। এদেশে কালো রঙের যে ছাগল পাওয়া যায় সেটি ব্ল্যাক বেঙ্গল
 বা বাংলার কালো ছাগল নামে পরিচিত। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল শুধু কালো রঙের হয়
 না। কালো রঙ ছাড়াও সাদা ও ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের 
মাংসের চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল-দেশি জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্য

আকারে ছোট কিন্তু মোটাসোটা ও একসঙ্গে দুই থেকে চারটি বাচ্চা দেয়। গায়ের
 লোম ছোট ও মসৃণ।

পাঁঠার ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি। ছাগীর ওজন ১৫ থেকে ২৫ কেজি। খাসির 
ওজন ২০ থেকে ৩৫ কেজি।

ছাগীর শিং ছোট (৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার) এবং সরু ও ঊর্ধ্বমুখী। কিছু কিছু
 পাঁঠা ও ছাগীর দাঁড়ি থাকে।

কিন্তু পাঁঠার শিং তুলনামূলকভাবে বড় (১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার) মোটা এবং 
পেছনের দিকে বাঁকানো।

ছাগলের বাসস্থান

ছাগল পালনের জন্য খুব উন্নতমানের বাসস্থানের প্রয়োজন হয় না। বাসস্থানের জন্য
 সাধারণ ব্যবস্থাই যথেষ্ট। ছাগল সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া, পরিষ্কার, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ
 ও প্রচুর আলো-বাতাস চলাচলকারী পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। ভিজা স্যাঁতসেঁতে,
 গোবরযুক্ত, দুর্গন্ধময়, বদ্ধ ও অন্ধকার পরিবেশ ছাগলের রোগবালাইয়ের উৎস
 হিসেবে কাজ করে। নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি সংক্রামক ও পরজীবী
 রোগ হতে পারে। ফলে ছাগলের ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন
 ক্ষমতা কমে যায়। আমাদের দেশে গ্রামেগঞ্জে সাধারণত পারিবারিক পর্যায়ে ছাগল
 পালন করা হয়ে থাকে, যার জন্য আলাদা বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয় না। 
গোয়ালঘরের এক কোণে বা ঘরের বারান্দায়, রান্নাঘরের এক কোণে এমনকি নিজের
 শোয়ারঘরে রাতে ছাগল থাকার ব্যবস্থা করে থাকেন অনেকে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য
 আছে তারা ছাগলের জন্য আলাদা ঘর তৈরি করে থাকেন। এসব ঘর নির্দিষ্ট কোনো 
মাপে তৈরি করা হয় না। ছাগী, পাঁঠা, বাচ্চা একই ঘরে রাখা হয়। ছাগলের খামারের
 জন্য আলাদা ঘর তোলার সময় বিবেচনা করতে হয়Ñ

ঘরের আয়তন বা মাপ

একটি ছাগলের জন্য কমপক্ষে চারদিকে ১.৫ মিটার বর্গাকার জায়গা প্রয়োজন 
(১.৫ মিটারÍ১.৫ মিটার)। দোচালা বা চারচালা ঘর হলে দেয়াল কমপক্ষে ২ থেকে
 ২.৫ মিটার উচ্চতা হতে হবে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যাতে ঘরে প্রবেশ করতে পারে
 সে ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ছাগল প্রায় সব ধরনের লতাপাতা খেতে পছন্দ করে। সব সময় একই ধরনের খাবার
 খেতে পছন্দ করে না। অন্য পশুর ফেলে দেয়া বা নোংরা করা খাবার ছাগল পছন্দ
 করে না। ছাগল মাঠে অতি ক্ষুদ্র ঘাসের মধ্যেও চরে খেতে পারে। কাঁঠালপাতা,
 কলাপাতা, ইপিল-ইপিলপাতা, পেয়ারাপাতা, বরইপাতা ছাগলের প্রিয় খাদ্য। ছাগলকে
 প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি তৈরিকৃত সুষম-দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

ছাগলের বাচ্চাকে খাসিকরণ

ছাগলের বাচ্চার বয়স ২ থেকে ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ থেকে ২৮ দিন বয়সের মধ্যেই
 খাসি করানোর উপযুক্ত সময়। উপযুক্ত সময়ে ছাগলের বাচ্চাকে খাসিকরণ করা
 হলে তুলনামূলক দাম বেশি পাওয়া যায়। বাজারে খাসির চাহিদা বেশি। লগ্নিকৃত অর্থ
 লাভসহ সহজে উঠে আসে। পারিবারিক সচ্ছলতা আনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। খাসির মাংস পাঁঠার চেয়ে উৎকৃষ্ট। খাসিকরণে তেমন কোনো খরচ হয় না।

ছাগীকে পাল দেয়ার নিয়ম ও সময়

ছাগী গরম হওয়ার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল দিতে হয়। সকালে গরম 
হলে বিকালের মধ্যে পাল দিতে হবে। বিকালে গরম হলে পরদিন সকালের মধ্যে
 পাল দিতে হবে। সম্ভব হলে ১২ ঘণ্টা ও ২৪ ঘণ্টা সময়ের মাথায় দু’বার পাল দিতে
 হবে। পাল দেয়ার ৫ মাসের (১৪০ থেকে ১৫০ দিন) মধ্যে ছাগী সাধারণত বাচ্চা
 দেয়।

ছাগলের দাঁত দেখে বয়স নির্ণয়

অস্থায়ী-দুধের দাঁত সবগুলো থাকলে ছাগলের বয়স ১২ মাসের নিচে। মাঝের
 এক জোড়া স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের বয়স ১২ থেকে ১৫ মাস। দুই জোড়া
 স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের বয়স ১৬ থেকে ২৪ মাস। তিন জোড়া স্থায়ী দাঁত 
উঠলে ছাগলের বয়স ২৫ থেকে ৩৬ মাস। চার জোড়া স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের 
বয়স ৩৭ মাস থেকে ঊর্ধেŸ হবে।

ছাগলের পরিচর্যা

প্রতিদিন দুপুরে ছাগলকে প্রয়োজনমতো টাটকা ও পরিষ্কার পানি পান করাতে হবে।
 ছোবড়া জাতীয় খাবার যেমনÑ ঘাস, লতাপাতা, শুঁটিজাতীয় গাছ দিতে হয়। ছাগলকে
 প্রতি বছর নিয়মিত দুই থেকে তিনবার কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। ছাগলকে 
নিয়মিত সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।

পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত বা নোংরা খাবার না দেয়া। বাসস্থান উঁচু, শুকনা ও পরিষ্কার-
পরিচ্ছন্ন জায়গায় তৈরি করতে হবে। নিয়মিত বাসস্থানের মেঝের মলমূত্র পরিষ্কার
 করা এবং মেঝেতে চুন ছড়িয়ে দিয়ে জীবাণু সংক্রমণ কমাতে হবে। মাঝে মাঝে
 পরিষ্কার পানি দিয়ে ছাগলের শরীর পরিষ্কার বা গোসল করিয়ে দেয়া।

বাংলাদেশে ছাগলের রোগ-ব্যাধি

ছাগলের বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি হয়ে থাকে। তবে গবাদিপশু অপেক্ষা ছাগলের রোগ-ব্যাধি কম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ছাগলের বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এর মধ্যে কৃমি, উকুন, নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়, পেট ফাঁপা, মূত্রনালিতে পাথর, পিপিআর, গোটপক্স, চর্মরোগ (মেইজ), ছাগলের ক্ষুরা রোগ, চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস এবং একথাইমা রোগ অন্যতম। নিম্নে ছাগলের পিপিআর ও গোটপক্স রোগের লক্ষণ ও তার প্রতিকার প্রদত্ত হলোÑ

পিপিআর রোগের লক্ষণগুলো

এটি ভাইরাসঘটিত একটি রোগ, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম দেখা যায়। হঠাৎ 
ছাগলের শরীরের তাপ বেড়ে যায় (১০৪ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি) ও ক্ষুধামন্দা 
দেখা যায় এবং কাশতে থাকে। মুখের লালা ঝিল্লিতে রক্ত জমে লাল দেখা যায় এবং 
নাক দিয়ে সর্দি ও পানি ঝরে। নাকের ছিদ্রের পর্দায় ঘা দেখা যায় ও চোখে পিচুটি
 হয়, অনেক সময় চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়। রোগ শুরুর ৫ থেকে ১০ দিনের
 মধ্যেই ছাগল মারা যায়।

প্রতিরোধ : আক্রান্ত ছাগলকে বের করবেন না। ছাগল সুস্থ অবস্থায় টিকা দিয়ে
 এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। ছয় মাস বয়সের ছাগলকে ১সিসি টিকা চামড়ার
 নিচে প্রয়োগ করতে হবে।

গোটপক্স রোগের লক্ষণগুলো

মুখের চারপাশে, মুখগহ্বরে, কানে, গলদেশে, দুধের বাঁটে এবং পায়ুপথে ব
সন্তের গুটি দেখা যায়। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, কিছু খায় না, জাবর কাটে 
না এবং ছাগলের পাতলা পায়খানা হয়।

প্রতিরোধ : এই রোগ হলে অন্যান্য সুস্থ ছাগলকে এন্টিপক্সসিরাম ইনজেকশন ও
 টিকা সহজলভ্য হলে টিকা দিতে হবে। আক্রান্ত