বাংলাদেশে ডেইরী সেক্টর নিয়ে কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা

বাংলাদেশে ডেইরী সেক্টর নিয়ে কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা।

স্বপ্ন তা সে যেটাই হোক, আমরা ছোট নয়, অনেক বড় করে স্বপ্ন দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি হাতেহাত রেখে এগিয়ে গেলে কোন বাধাই বাধা নয়, যার অসংখ্য প্রমান রেখে গিয়েছেন আমাদের বাংলাদেশের অনেক বড় বড় উদ্যোগক্তারা। কৃষিপ্রধান এই বাংলাদেশে অনেক দেরী করে হলেও ডেইরী সেক্টরে যে বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে তা সবাই একবাক্যে মেনে নেবে। এই বিল্পবের পেছনে যেমন রয়েছে তথ্য প্রযুক্তির উতকর্ষের সাধন, ঠিক তেমন রয়েছে দেশের শিক্ষিত এবং প্রবাসী বেকার জনগোষ্ঠীর নতূন উতসাহ এবং বিনিয়োগ। আমরা সবাই এক হতে পেরেছি এটাই এই মূহুর্তের সব থেকে বড় পাওয়া। সবাই সংবদ্ধ হয়ে যেকোন একটা কাজে উদ্যোগ নিলে সেখানে সফল হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। একটা দেশের ভিত মজবুতের জন্য ক্ষুদ্র এবং মাঝারী বিনিয়োগ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। একটা দেশ তখনই সাবলম্বী হবে যখন দেশের প্রতিটা পরিবার, প্রতিটা জনগন জিডিপিতে তাদের ভূমিকা রাখবে। ডেইরী সেক্টর এমনই একটা সম্ভাবনাময় শিল্পখাত যা পরনির্ভরতা দূর করে একটা পরিবারে আর্থিক সাচ্ছন্দ এনে দেবে, পরিবারে সুখ আসবে, সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে এবং দেশের পুষ্টিহীনতা দূর করে সুস্থ সবল জাতিও তৈরী করবে।

বর্তমান ডেইরী সেক্টরের সার্বিক অবস্থান বিবেচনা করে যে প্রধান সমস্যা চোখে পড়ে, যে সমস্যার কারনে খামারীরা ডেইরী সেক্টরের প্রতি উতসাহ হারিয়ে ফেলে তা হলো দুধের ন্যায্য দাম। আমাদের দেশে মোট চাহিদার ৮০% দুধ যেখানে আমদানী নির্ভর সেখানে কি সমস্যার কারনে খামারীরা দুধের দাম থেকে বঞ্চিত এটাই এখন ভাবার বিষয়। প্রতি বছর ৬৫-৭০ হাজার মেট্রিক টন গুড়াদুধ আমদানী হয় যা ১৭ লাখ লিটার তরল দুধের সমপরিমান এবং এর আনুমানিক মূল্য ২.৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন ১৮ মিলিয়ন লিটার দুধ আমাদের দেশে উতপাদন হচ্ছে যার মাত্র ৭% যাচ্ছে মিল্ক প্রসেসরদের কাছে, বাকীটা লোকালি ব্যবহারিত হচ্ছে। এত বিপূল পরিমান চাহিদা থেকে সত্তেও খামারীরা দুধের দাম থেকে বঞ্চিত এটা অত্যান্ত দুক্ষের এবং পরিতাপের বিষয় শুধু সরকারের জন্য নয় বরং জাতিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের ও। আমরা কেউই পারিনি এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঠিক পথ দেখাতে এবং তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে। যা হবার হয়েছে এখন আমরা আর অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাইনা, আমরা চাই ডেইরী সেক্টর নিয়ে একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন। এই লক্ষ্যে দুগ্ধ খামারী থেকে শুরু করে ট্রেডার, কালেকটর, প্রসেসর, সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থাসমুহের সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।

দুধের দাম এলাকা অঞ্চলভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে একজন খামারীকে বিক্রয় করতে হয় যা খাদ্যের দাম বা সার্বিক ব্যায়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের উচ্চমূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করলে দুগ্ধ খামারীদের অবস্থান অত্যান্ত নাজুক। আমরা স্বপ্ন দেখি আবার গ্রামের প্রতিটা ঘরে ঘরে একটি খামার থাকবে, মানুষ পরনির্ভরশীলতা দূর করে সাবলম্বী হবে, দেশে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

ঠিক এই অবস্থায় আমাদের এবং সরকারের কি করনীয় হতে পারে এটাই ভাববার বিষয়। সরকার এবং খামারীদের একত্র হয়ে কাজ করতে হবে এর কোন বিকল্প নেই, তারপর যে যার অবস্থানে কিছু কাজ করার আছে। রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে বর্তমান যে অবকাঠামো আছে সেটেকে ব্যবহার করেই সরকারকে নেমে পড়তে হবে উন্নয়নমূলক কাজে। সরকারের সহযোগি মনোভাব এবং সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাবেই এই সেক্টরের উন্নতি সাধিত হবেনা। বিশেষ যে কাজগুলোর প্রতি এখনই সরকারের গুরুত্ত দেয়া উচিত তা হলো:

সবার প্রথম সরকারের উচিত হবে দুগ্ধ খামারীদের দুধ বিক্রির বাজারের যে অবকাঠামো আছে তা পুনরায় ঢেলে সাজানো। মিল্ক ভিটা, আড়ং, ফার্মফ্রেস সহ যারা যারা দুগ্ধ প্রসেসর কোম্পানী এবং কালেক্টর আছে তারা তরল দুধের যে দাম দিচ্ছে তা বাজারের মূল্যস্ফীতি, উচ্চ দ্রব্যমূল্য, জীবন যাত্রা ব্যয় এসবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুনরায় একটি দাম সবার জন্য নির্ধারন করে দেয়া। প্রতিদিন দুধ তাদের কালেক্ট করতে হবে, যদি না করে এই কোম্পানীগুলোর পক্ষ থেকে খামারীদের ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করার আইন করা। এখানে সরকারের মিল্ক ভিটাকে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নিতে হবে। মিল্কভিটাকে সারা দেশে প্রতিটা গুরুত্তপূর্ন বিভাগীয় শহর গ্রাম পর্যায়ে কুলিং প্লান্ট এবং কালেকশন পয়েন্ট করে দিতে হবে যেন খামারীদের দুধ বিক্রি করতে অসুবিধা না হয়।

বিগত ২০০০ সনে বাংলাদেশে বছরে দুধ উতপাদন হতো ২ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে ২০১৭ তে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২-৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন। এত পরিমান উতপাদন বাড়ার পরও সরকার আমদানীকৃত গুড়া দুধের উপর শুল্ক কর বাড়াতে পারেনি। দেশে খামারীরা যদি না বাচে, ধংস হয়ে যায় কত মানুষ বেকার হবে, কত পরিবার না খেয়ে থাকবে সরকারের কাছে অবশ্যই সেই হিসাব আছে। সরকারের উচিত গুড়া দুধের উপর শুল্ক পরিমান কিছুটা বাড়ানো এবং উন্নত বিশ্বে আমদানী করা গুড়া দুধ যে তেজষ্ক্রিয়াতার মাত্রায় আমদানীর অনুমতি আছে তা আমাদের দেশেও মেনে চলা। আমরা কেন অধিক তেজক্রিয় মাত্রার আমদানী করা দুধ খেতে যাবো, যা অন্যকোন দেশ করেনা? গত ৫ বছরে দুগ্ধ শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নয়নের পরও যদি আমদানী কমানো না হয়, অধিক তেজক্রিয়তার মাত্রার দুধ আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হয় তা সরকার ও দেশের জন্য হবে আত্মঘাতী।

দেশে গুড়াদুধের আমদানী কমানোর সাথে সাথে নিজের দেশের ভিতরেই কি করে কম দামে গুড়াদুধ তৈরী করা যায় তার দিকে বিশেষ গুরুত্ত আরোপ করতে হবে। শুধু মিল্কভিটা এবং আড়ং আমাদের দেশে গুড়া দুধ তৈরী করছে। ধীরে ধীরে দেশে দুধের প্রোডাকশন বাড়ার সাথে সাথে গুড়া দুধের প্রসেসিং প্ল্যান্টও বাড়াতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন দেরী না করে সর্বপ্রথম মিল্কভিটার গুড়াদুধের প্ল্যান্টকে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করে পুনরায় চালু করে প্রয়োজনে খামারীদের এবং প্রসেসিং কোম্পানীকে ভর্তুকি দিয়ে ধীরে ধীরে আগানোর উদ্যোগ সরকারের নেয়া উচিত। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও খামারীদের এবং মিল্ক প্রসেসিং কোম্পানীদের বিভিন্ন স্কিম এর আওতায় যেমন মেশিনারীজের উপর, নতূন ফার্ম করার উপর ভর্তুকি দিয়ে যদি আসতে পারে আমাদের ও সে ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নত দেশগুলো যেমন আমেরিকা, কানাডা, নিউজিল্যান্ড তাদের খামারীদের সার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনের বেশী উতপাদন হবার পরও তাদের খামারীদের ভর্তুকি দেয় আর আমাদের দেশে দুধের এত চাহিদা থাকা সত্তেও আমরা খামারীদের কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারছিনা। গুড়া দুধের নিজেদের দেশে প্ল্যান্ট তৈরী করা ছাড়া দুগ্ধ শিল্পের বাজার কোনভাবেই ঠিক করা সম্ভব হবেনা।

উপরের এই কাজগুলো যত দ্রুত সম্ভব সরকারের উচিত বাস্তবায়নে যাওয়া। পাশাপাশি আরো যে কাজগুলোকে গুরুত্ত সহকারে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তা হলো:

ডেইরী ভ্যালু চেইন এর রিলেটেড প্রোডাক্টসের উপর অধিক গুরুত্ত আরোপ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত পন্য প্রস্তুতকারক কোম্পানীদেরকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ভ্যাট সহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের অধিক প্রেরনা দিতে হবে যেন তারা মানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য প্রস্তুত করে, জনগনকে দুগ্ধজাত পন্য কেনায় উতসাহ প্রদান করে। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য উতপাদনে আমরা অনেক পিছিয়ে। ক্রেতার নানাবিধ চাহিদা অনুযায়ী নানাবিধ মান সম্পন্ন পন্য ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারলেই দুধের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে কার্যকরী বাজারজাতকরন নীতি গ্রহন না করতে পারলে সকল চেস্টাই ব্যার্থ হবে। প্রথমত, জনগনকে বোঝাতে হবে কেন তারা দুধ খাবে, দুধের উপকারীতা কি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করে তাদের খাদ্য তালিকায় দুধকে প্রাধান্য দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ের উদ্যোগক্তাদের নিয়ে টিভি, পত্রিকা বিজ্ঞপনের মাধ্যমে জনগনের সামনে দুধের উপকারিতা তুলে ধরে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দমত নানাবিধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য তৈরী করতে হবে।

দুগ্ধ খামার বেড়ে ওঠার পাশাপাশি খামারীদের জন্য পশু ডাক্তারদের সংখ্যা আরো অধিক সংখ্যায় বাড়াতে হবে। বর্তমানে যে সংখ্যা আছে তা হলো ১০,০০০ পশুর জন্য ১ জন ডাক্তার। এটা খুবই অপ্রতুল, এটা কোন সেবার পর্যায়ে পরেনা। যার ফলে অনভিজ্ঞ ডাক্তার নামধারী লোকজনের ভূল চিকিতসায় খামারীরা নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। দুগ্ধ খামারীদের জন্য সরকারের এই সেবার মান অধিক মাত্রায় নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন স্বাস্থ্য সেবা, বিনামূল্যে কার্যকরী সকল ভ্যাকসিন, মেডিসিন, চিকিতসা, খামারী দোড় গোড়ায় পৌছে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

পশুখাদ্য পন্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময় বাজারে গোখাদ্যের মজুত করে কৃত্রিম গো খাদ্যের সংকট তৈরী করে খামারীদের পকেট থেকে ঠকায়ে অধিকমূল্য নিয়ে যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারকে এদের ব্যাপারে কঠোর আইনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভিতরে সরকারী পতিত যে জমি পড়ে আছে তা এলাকা ভিত্তিক খামারীদের সমিতি আকারে ঘাস চাষের প্রকল্পের আওয়াত সহজ শর্তে লীজ দেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারলে খামারীরা গোখাদ্য খরচ অনেকটা কমিয়ে আনতে পারবে। খামারীদের ঘাস চাষে উতসাহিত করার জন্য সরকার থেকে প্রনোদনা, এবং আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও পশু খাদ্য আমদানীতে সরকারকে বিনা শুল্কে আমদানীকারকদের সহযোগিতা করা খুবই গুরুত্তপূর্ন।

যে শিল্প এখন মাত্র উঠতি অবস্থায় সেখানে আয়ের উপর সরকারী সকল ট্যাক্স প্রত্যাহার না করলে খামারীরা ছোট বড় দুগ্ধ শিল্প গড়ে তুলতে উতসাহিত বোধ করবেনা। এখনও একটা ছোট মাঝারী দুগ্ধ খামারে বিদ্যুৎ বিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিসাবে গন্য করা যা অত্যান্ত দুক্ষজনক। এটাকে অনতিবিলম্বে কৃষিখাতের আওতায় এনে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।

অধিক শংকর জাতের দুগ্ধবান গাভী প্রস্তুতের জন্য সঠিক এবং কার্যকরী প্রজনন নীতিমালা তৈরী করতে হবে। দেশে এমন একটি ব্রিডকে সামনে আনতে হবে যা দিয়ে আমাদের ডুয়েল পারপাস, যেমন দুধ ও মাংস উভয় সার্থই রক্ষা করবে, দেশের আবহাওয়ার সাথে মানানসই হবে। দুগ্ধ খামারীদের সাথে আলোচনা না করে বাংলাদেশে যে ব্রাহমান জাতের আবির্ভাব হয়েছে তা ছিল সরকারের ভূল সিদ্ধ্যান্ত। এই জাত আমাদের দেশের দুগ্ধ শিল্পকে ধংসের পথে নিয়ে যাবে।

একটা নতূন খামার করার জন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খুব অল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী খামার বান্ধব ঋন সহজে দেবার জন্য সরকারী এবং বেসরকারী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমুহকে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা করে দিতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় এই ঋনের ১০% শতাংশ খামারীরা পায়না বরং রাজনৈতিক, এলাকার প্রভাবশালী লোকজন নানান রকম ভূয়া আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজ করে নিয়ে যাচ্ছে এবং এতে করে প্রকৃত খামারীরা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারকে এই খামারীদের ঋন দেবার ব্যাপারে সঠিক যাচাই বাছাই করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুনির্দিষ্ট খামার বান্ধব ডেইরী নীতিমালা অত্যান্ত জরুরী। পুরানো নীতিমালাকে ঘষামাজা করে নয়, আমরা চাই সরকার প্রকৃত ডেইরী খামারীদের সাথে বসে তাদের সমস্যা সমূহ পর্যালোচনার নিরিখে সিদ্ধ্যান্ত নেয়া হোক। আমরা সরকারের দায়িত্তপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দেখি মিল্ক প্রসেসরদের সাথে কথে বলে বাজেট সহ নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচলনা করতে। মিল্ক প্রসেসর কখনই একটা দেশের ডেইরী খামারীদের সমস্যা, দুক্ষ, দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে পারবেনা। আমরা চাই সরকার পরবর্তি সিদ্ধ্যান্তগুলো সঠিকভাবে নেবেন অতীতের সকল ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে। আমরা আর পেছনে পড়ে থাকতে চাইনা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ও জাতির মত আমরাও আমাদের দেশের অবস্থান জানান দিতে চাই, আমরা বলতে চাই শুধু পোষাক শিল্পে নয়, ডেইরীতে আমরা এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

 

ধন্যবাদ

শাহ এমরান
জেনারেল সেক্রেটারি
বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন

Top
%d bloggers like this: