দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন

দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন

পোলট্রি শিল্পের মুমূর্ষু অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেশে এই প্রথম দেশি আবহাওয়া উপযোগী দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ জাতটি অতিসত্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে, এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ  বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী।

পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের দুটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার এই জাতের মুরগিতে।তিনি আরও বলেন, বিদেশি আবহাওয়া উপযোগী ব্রয়লার এ দেশে এনে বাজারজাত করায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। তার গবেষণার ফল পোলট্রি শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যার উত্তরণ সম্ভব।

 

অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী বলেন, বর্তমানে তার গবেষণায় প্রাপ্ত ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহে ওজন হচ্ছে ১১০০ গ্রাম। বাচ্চার ওজন আরও ২০০ গ্রাম বৃদ্ধি করা গেলেই নতুন জাতটি বাজারজাতের জন্য পাঠানো হবে।গবেষকরা আরও জানান, ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে।

এছাড়াও নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশীয় লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সফলতা পান গবেষকরা।অপরদিকে মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালন-পালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। ফলে উৎপাদনে লাভজনক।উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় ওইসব প্যারেন্ট স্টককে লালন-পালন করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি।

অপরদিকে ওইসব স্টকের রোগবালাই বেশি এবং বাইরে থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নতুন নতুন রোগের জীবাণু দেশে বহন করে নিয়ে আসে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জ (বার্ড ফ্লু)।অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত ওইসব ব্রয়লারের মাংস অত্যধিক নরম ও দেশীয় মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করেন না। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমান্বয়ে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য উন্নতমানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ।তিনি আরও বলেন, ‘মজার বিষয় হলো উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালন-পালন করে কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরের প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির।

অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মত