আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি

আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি

 

আধুনিক পদ্ধতিতে লালন পালন করে দেশি জাতের মুরগির কাছ থেকে বছরে দুই শতাধিক ডিম পাওয়া যাবে। এই নতুন দেশি জাতের মুরগির উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

আজ রোববার সকালে খুলনার ডুমুরিয়ায় দেশি মুরগি সংরক্ষণ  ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো নারীদের মধ্যে মুরগি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন  প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডুমুরিয়া উপজেলার  ৫০টি  পরিবারের গৃহিণীদের চারটি করে নতুন দেশি জাতের মুরগি প্রদান করা হয়।

দেশি জাতের এই মুরগি লালন-পালন করে অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে। বাংলাদেশে এই প্রথম ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলো।

দেশী মুরগি পালন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ:

ডুমুরিয়া, খুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে “দেশী মুরগি পালন শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ’’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় জনাব অজয় কুমার রায় এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মহোদয় ড. তালুকদার নুরুন্নাহার ।

“দেশী মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ণ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিসেস শাকিলা ফারুক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ উপস্থিত সকল স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে- উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন করে দেশের মুরগি ও ডিমের চাহিদা মিটিয়ে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নতিকল্পে ডুমুরিয়া, খুলনা-সহ দেশের ৬ টি জেলায় উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন দেশী মুরগির চাহিদা অতি প্রাচীনকাল থেকেই ছিল বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অনেক মানুষের কাছে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ব্রয়লার মাংসের তুলনায় দেশী মুরগি অধিক গ্রহণযোগ্য যার ফলে বাজারে ক্রেতা সাধারণ অধিক মূল্যে দেশী মুরগি ক্রয় করতে ইচ্ছুক। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার, তাই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নে এবং জনসাধারণের পুষ্টির যোগান দেওয়ার জন্য এই গবেষণা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন চলমান প্রকল্পটির পরিকল্পিত কার্যক্রমগোলো সফলভাবে সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভার সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহার মহোদয় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আমাদের নিজস্ব মুরগির জাতগুলো বিলীন হওয়ার পথে। এই মূল্যবান জেনেটিক রিসোর্সগুলো সংরক্ষণ এবং এর উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন বিষয়ক আলোচনায় তিনি ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন; যেমন- মুরগির জাত, ডিম উৎপাদন, ডিমের ওজন ও প্রথম ডিম পাড়ার বয়স। তিনি বলেন যে দেশী মুরগি উন্নয়নের জন্য উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহ বিবেচনায় আনতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন বেড়ে যাবে এবং এভাবে দেশের ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পরিশেষে, সভাপতি মহোদয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

এবার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে

বার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে। শুধু তাই নয়, ব্রয়লারের গোশত হবে দেশি মুরগির মতো শক্ত ও সুস্বাদু। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রয়লার উৎপাদনেও কমবে খরচ, বাড়বে উৎপাদন। এমন গুণাগ