সাভারে বাড়ির ছাদে বাড়ছে ফুল-ফলের বাগান

সাভারে বাসাবাড়ির ছাদে ফুল ও ফলের বাগান করা হয়েছে। সেই ছাদে লাগানো হয় আম, লেবু, কমলালেবু, মালটা, কলা, আখ, পেয়ারা, আমড়া, স্ট্রবেরি, ডালিম, জাম্বুরাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। তার সাথে গোলাপ, পাতাবাহার, বেলিসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ। এখন অনেক বাড়ির ছাদেই গাছে গাছে ঝুলছে বড় আকারের জাম্বুরা আর ডালিম। অন্য যে ফল রয়েছে সেগুলো দেখলেও মন জুড়িয়ে যায়। কিছু ফলগাছ আছে যেগুলো সারা বছর ফল ধরে। ছাদের বাগানে চাষ করা বিষমুক্ত ফল নিজেরা খাচ্ছেন, আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীদের বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন।

সাভার পৌর এলাকার মধ্য রাজাশনের ব্যবসায়ী আব্দুর রব জানান, ২০০৯ সালে তিনি পাঁচ শতাংশ জায়গায় বাড়ি করেন। ২০১২ সালে আড়াই শতাংশের মধ্যে দুই তলা বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন আব্দুর রব। আর বাকি জায়গার মধ্যেও ফুল-ফলসহ বিভিন্ন সবজির বাগান তার। তার বাড়ির চার পাশে সবুজ সতেজ পরিবেশ। তিনি তার ছেলে ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া নাতি পারভেজ শত ব্যস্ততার মধ্যেও বাগানের পরিচর্যা করতে ভোলেন না। 

আব্দুল রব জানান, তার বাড়ির ছাদের বাগানে ফলের মধ্যে ডালিম, জাম্বুরা, মাল্টা, কমলালেবু, করমচা, আম ও আমড়া গাছ আছে। এ ছাড়া তিনি টব ও ড্রামের মধ্যে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে বাগানে মোট গাছ আছে শতাধিক।

মানুষ খোলামেলা উঠানের বাড়িগুলোর বদলে এখন গড়ে তুলছে আকাশছোঁয়া বহুতল সব ভবন। 

ফলে বাড়ির উঠানের পাশ দিয়ে লাগানো বিশালাকৃতির গাছগুলো এখন আর দেখা যায় না। তাই বলে মানুষের মন থেকে কিন্তু হারিয়ে যায়নি সবুজের হাতছানি পাওয়ার আশা। এ কারণেই আধুনিক ফ্যাট বাড়িগুলোর ছাদে সাভার পৌর এলাকার অনেকেই গড়ে তুলছেন চমৎকার বাগান।

আব্দুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ির বাগান থেকে ফল খেতাম। এখনকার শিশুদের গাছ থেকে সরাসরি ফল পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। ছাদে বাগান করায় গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়া যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজনদের বিষমুক্ত ফল খাওয়ানো যায়।

সাভার বাজার রোডের ব্যাংক কলোনির আরেকটি বাড়ির ছাদের বাগান দেখে চোখ আটকে যায়। চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে সবুজ লতা দেয়াল বেয়ে নেমেছে নিচতলা পর্যন্ত। ছাদেও বোঝা যাচ্ছিল বাগানের অস্তিত্ব। পুরো বাড়িতেই সবুজের সমারোহ। ওই বাড়ির মালিক মনিরুজ্জামান জুয়েলের আশুলিয়া এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

তিনি বলেন, ইট-কংক্রিটের শহরে সবুজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কষ্ট। তাই বাড়ি করার পর ছাদে বাগান করার পরিকল্পনা শুরু করি। তিনি জানান, তাদের বাগানে কমলালেবু থেকে শুরু করে প্রায় সব ফলই আছে। প্রতিটি পিলারের গোড়ায় ড্রামের মধ্যে গাছগুলো লাগানো হয়েছে। তার বাগানে ১২ মাসই আমড়া ধরে। গত বছর তাদের গাছে প্রচুর আম ধরেছে। নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও অনেক ফল বিতরণ করেছেন।

ইদানীং বাসার ছাদে বাগানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই ফুল-ফলের পাশাপাশি রীতিমতো শাকসবজিও চাষ করছেন। যারা ভাড়া বাসায় থাকেন বা ছাদে বাগান করার সুবিধা নেই, তারা টবে গাছগাছালি রোপণ করেছেন বারান্দায়, চিলেকোঠায়, সিঁড়ির কিনারায় অথবা জানালার পাশে। এতে একচিলতে জায়গাও সবুজ হয়ে উঠেছে। পরিবেশবাদীরা বেশ কিছু দিন ধরেই শহরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রা, স্বাস্থ্য সুরা এবং বিষমুক্ত সবজি প্রাপ্তিতে ছাদে বাগান কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করে নীতিমালা করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিবেশ দিন দিন বিষিয়ে উঠছে।

নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাভারের সিনিয়র সহসভাপতি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, ছাদে বাগান শুধু শ্যামলিমা আনে না, ভবনের তাপমাত্রাও কমে। এ ক্ষেত্রে নার্সারি মালিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছাদে বাগান করাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।