বন্যাপ্রবণ এলাকায় কৃষক ভাইদের করণীয়

বন্যাপ্রবণ এলাকায় কৃষক ভাইদের করণীয়

রোপা আমনঃ

  • পানিতে ডুবে যাবার পর যেসব ক্ষেতে ধানের চারা বেঁচে আছে, সেসব ক্ষেতের পানি নামার সাথে সাথে হালকা ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করুন। চারার পাতায় পলিমাটি লেগে থাকলে পানি ছিটিয়ে ধুয়ে দিন।
  • আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির এক পাশের চারা তুলে নিয়ে অপর পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো পূরণ করে দিন। সৃষ্ট খালি জায়গায় পানি সরে গেলে পুনরায় ধানের চারা লাগিয়ে দিন।
  • বন্যামুক্ত উঁচু জায়গায় বীজতলা তৈরি করে নাবি জাতের ধান বিআর২২/বিআর২৩/বিনাশাইল/নাইজারশাইল জাতের বীজ ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজতলায় বপন করতে পারেন।
  • উফশী চারা না পাওয়া গেলে স্থানীয় জাতের আমন ধান (গাইঞ্জা, সাইটা, গড়িয়া) এর গজানো বীজ আশ্বিনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিটিয়ে বপন করুন।
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু জমির অভাবে ভাসমান বীজতলা তৈরি করতে পারেন।
  • নাবী রোপণের বেলায় প্রতি গুছিতে ৬/৭ টি করে বয়স্ক চারা রোপণ করুন।

আউশ ধান ও পাটঃ

  • আউশ ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে সংগ্রহ করা যায়। ডুবে গেলে বা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে আউশ ধান ও পাট কেটে নিন।

আগাম রবি ফসলঃ

  • পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পাতা জাতীয় সবজি যেমন-গিমাকলমি, লালশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক এসবের চাষ করুন;
  • চারা রোপণ উপযোগী সবজির জমিতে, বাড়ির আঙ্গিনায় বা বাঁধের ধারে সবজির চারা উৎপাদন করুন। শুকনো জায়গার অভাব হলে টব, মাটির চাড়ি, কাঠের বাক্স, কাটা ড্রাম, ভাসমান কচুরীপানার স্তুপ, কলার ভেলা এসবে আগাম শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা যায়।
  • বন্যার পানি সরে গেলে জো আসার পর বিনা চাষে ভুট্রা ও সরিষার বীজ এবং আলু, চীনাবাদাম, রসুন বুনা যায়
  • বন্যার পানি নেমে গেলে ভেজা মাটিতে মাসকলাই, খেসারি, ভুট্রা বীজ বুনে দিতে পারেন। পরে একই জমিতে অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ করা যাবে;
  • রোপিত ফলের চারার গোড়ায় পানি জমে থাকলে নালা কেটে পানি নিকাশের ব্যবস্থা নিন;
  • আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য ফসলী জমির রস কমানোর জন্য মাটি আলগা করে ছাই মিশিয়ে দিন এবং সামান্য ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রয়োগ করুন;
  • বেডে তৈরি শিম, লাউ প্রভৃতি সবজি চারার গোড়ায় পানি এলে চারাগুলো মাটির পাত্রে বা কলাগাছের খোলে ভাসিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন, যাতে পানি সরে গেলে আবার মাটিতে লাগানো যায়;
%d bloggers like this: