প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চাষাবাদে ভাগ্য বদল

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চাষাবাদে ভাগ্য বদল

 

‘মাছে ভাতে বাঙ্গালি’ এই প্রবাদটি হাজার বছরের। আর এই মাছ ভাতের যোগান আসে আমাদের কৃষি থেকেই। দিন যত যাচ্ছে ততটাই ভোগবাদী মানুষের চাহিদা বাড়ছে ক্রমাগত। বাড়ছে দেশের জনসংখ্যা, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দিন দিন কমছে আবাদি জমি। তবুও আমাদের এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন কৃষক। শুধু তাই নয়, চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর নেপথ্যে মূলত: দেশে চাষাবাদে আদিম প্রথার বদলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এর ফলে কৃষিতে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেকেলের কাঠের লাঙ্গলের বদলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ‘কলের লাঙল’ ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার প্রভৃতি। প্রযুক্তির ব্যবহারে ফলন বেড়েছে কয়েকগুণ। এ কারণে চাষাবাদে খরচ, শ্রম, সময় সবই কমেছে। আর বাড়ছে ফসল উৎপাদন, বদলাচ্ছে মানুষের ভাগ্যের চাকা, দেখা দিচ্ছে সৌভাগ্যের আলো। কৃষিতে সাম্প্রতিক বিপ্লব, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা বিশ্বখাদ্য সংস্থা এজন্য বাংলাদেশকে পুরস্কৃত করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করর্পোরেশন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষিকাজে সেকেলে যন্ত্রপাতির বদলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কেবল জমি চাষই নয়, জমিতে নিড়ানি, সার দেওয়া, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ধান থেকে চালসহ সবই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট আবাদি জমির ৯০ ভাগ চাষ হচ্ছে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে। যতদূর জানা যায়, চীনে ২০২ থেকে ২২০ খ্রিস্টাব্দে মানুষ প্রথম লাঙল ব্যবহার করে জমি চাষ শুরু হয়। কাঠ দিয়ে লাঙল তারাই প্রথম তৈরি করে। লাঙলের ফলা তৈরিতে ব্যবহার করে লৌহদণ্ড। জোয়াল তৈরিতে ব্যবহার করত কাঠ। সেই থেকে কৃষি প্রযুক্তিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন কৌশল ও যন্ত্রপাতি, বালইনাশক, সার বীজ প্রভৃতি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে যে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা আল্লাহ মুলুম। যাক এনিয়ে কিশোরগঞ্জের মরমি কাব, সাধক ও গীতিকার ইবনে সালেহ মুনতাসির রচিত কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’ শীর্ষক লিরিকটি যথার্থ বলে মনে হয়। লিরিকটি হচ্ছে: মান্ধাতার আমলের কৃষি চাষাবাদ পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে/ গরুর লাঙ্গল জোয়াল টানার দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে/ গরুর লাঙ্গল জোয়ালের পরিবর্তে আধুনিক যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতি এসেছে/ দোন পদ্ধতিতে কুন উরির পরিবর্তে যান্ত্রিক সেচ পদ্ধতি অনেক আগেই এসেছে। প্রচলিত সাধারণ বীজের পরিবর্তে উফশী হাইব্রিড বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে/খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে/ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে/ সার কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন অনেক বেড়েছে সময় কম লাগছে/ খাদ্য উৎপাদন মজুদকরণ বাজারজাত করণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। গ্রাম আজ আর গ্রাম নেই শহরে পরিণত হয়েছে/ উন্নত যোগযোগ ব্যবস্থায় গ্রামের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটেছে/ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎ গ্রামে গ্রামে পৌঁছেছে/  ফ্রিজ টিভি ইন্টারনেটসহ আধুনিক সকল প্রকার উপকরণ গ্রামে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ আজ বিশ্ব নেতৃত্বের কাতারে দাঁড়িয়েছে/ সম্মান আর মর্যাদার বিবেচনায় বিশেষায়িত হয়েছে/ সময়ের পালায় যুগ পরিবর্তনের ঠেলায় ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছে/ পোশাক আর কৃষি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের রোল মডেল। বাংলাদেশের উন্নয়নের কাহিনিতো সাধারণের অসাধারণ গল্পের কাহিনী/ সারাবিশ্বের টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোল মডেলের যামিনী/ আধুনিক চিন্তাচেতনায় সক্ষমতায় কর্মসংস্থান পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আদরিনী/সাবাস বাংলাদেশ এগিয়ে যাও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই কামিনী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশির দশকের শুরুতে কৃষিতে ধীরে-ধীরে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ৯/১০ বছর আগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিজ্ঞানীরা কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনের কাজ হাতে নেন। বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। লাগসই প্রযুক্তির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন সম্ভব। বর্তমানে দেশে যে সব কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে তার অন্যতম হচ্ছে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ফসল কাটা, খোসা হতে ফসলের দানা আলাদা করার কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট জমি চাষের জন্য পাওয়ার টিলার, বড় জমি চাষে ট্রাক্টর বা হুইল ট্রাক্টর, বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর জন্য ব্রডকাস্ট সিডার, নির্দিষ্ট অবস্থানে বীজ বপনের জন্য সিড ড্রিল, গভীরভাবে কঠিন স্তরের মাটি কর্ষণের জন্য সাব ব্রয়লার, ধান/বীজ শুকানোর যন্ত্র ‘ড্রায়ার’, ধান, গম, ভুট্টা শুকানোর যন্ত্র ব্যাচ ড্রায়ার, পাওয়ার রিপার মেশিন (শস্য কাটার যন্ত্র), ঝাড়ার যন্ত্র ইউনারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চাষাবাদে ব্যবহার হচ্ছে। ইতোমধ্যে