এলাচ বা এলাচী চাষ ও পুষ্টিমান বা উপকারিতা

এলাচ বা এলাচী চাষ ও পুষ্টিমান বা উপকারিতা

এলাচ বা এলাচী। মিষ্টি বা ঝাল সব রকম খাবারেই এটির ব্যপক ব্যবহার লক্ষিত হয়। এর বোটানিকাল নাম এলেটারিয়া কার্ডামোমাম (Elettaria cardamomum)ইংরেজিতে বলা হয় কার্ডামন (Cardamon)এটি মূলত আদা জাতীয় একটি গাছ যার গোড়ার দিক থেকে লম্বা ফুলের স্টিক বের হয়। এই ফুলের ফলই হচ্ছে আমাদের পরিচিত এলাচ।

এলাচ দু রকমের বড় ও ছোট। বড় এলাচ এশিয়া, আফ্রিকা, অষ্টেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের শীত প্রধান অঞ্চলে প্রচুর জন্মায়। বড় এলাচের ৫০ প্রজাতির মধ্যে এই উপমহাদেশে বহু আগে থেকে বেশ কয়েকটি প্রজাতি ফলন হয়। সিলেট অঞ্চলে যে এলাচ জন্মায় তার নাম মোরঙ্গ এলাচ। আমাদের দেশে ঝোপ জঙ্গলে যে আদা গাছ জন্মায় বড় এলাচ গাছ দেখতে অনেকটা সে রকম। গাছে এলাচগুলো সাধারণত: গাছের গোড়ায় মাটি সংলগ্ন হয়ে গুচ্ছাকারে জন্মে। আষাঢ় মাসে ফুল হয় ও পরে ফল ধরে। ভাদ্র আশ্বিন মাসেন এলাচ পাকে। ফলগুলো দেখতে কালচে লাল হয়।

এলাচ একটি স্পর্শকাতর গাছ। ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ছায়ার মধ্যে এই গাছ ভালো হয়। যেহেতু আমাদের দেশে বৃষ্টি কম, সে কারণে এখানে এলাচ গাছ বেড়ে উঠে না।

সাধারনত:রোদ্র-ছায়া যুক্ত জায়গায় এলাচ গাছ ও ফলন ভালহয়।যেমন মেহগ্নি , লম্বু .,আকাসমনি বা এ জাতীয় বাগানের ভিতর। ছোট এলাচ গাছ দেখতে আদা মত। তবে পাতাগুলো একটু বেশি লম্বা ও চওড়া। ভারতের বিভিন্ন স্থানে। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে এই এলাচ প্রচুর জন্মে। তাছাড়া আদ্রতা যুক্ত পাহাড়িয়া জঙ্গল ও এই এলাচ চাষের উপযুক্ত।

এলাচের রং হলুদ ভাবাপন্ন হলে এই এলাচ সংগ্রহ করতে হয়। মশলা পাতির মধ্যে এই দুই ধরনের এলাচ অন্যতম। এই এলাচ শুধু মশলাই নয় এর ঔষধিগুণও কিন্তু অনেক। ওষুধ জগতে এলাচের খুব গুরুত্ব রয়েছে।

 

দেশের মাটিতে উন্নত জাতের এলাচ মসলা চাষঃ
বাংলাদেশের এলাচের চাহিদার শত ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটাতে হয়। মসলার জগতে এলাচ যেমন আবশ্যক তেমনি মূল্যবান। এটা ভেবেই দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা এলাচ আমাদের দেশে কেন ফলন হয় না এর উত্তর ছিল অজানা। প্রতিবেশী দেশের মাটিতে উৎপাদন হলে আমাদের দেশের মাটিতে এলাচ কেন হবেনা? আমাদের দেশে এলাচের গাছ অনেক আগে থেকেই পাওয়া যেত । পূর্বে যে এলাচের গাছ প্রায় গ্রামেই লোকের বাড়ীর আঙ্গীনায় দেখা যেত সেগুলোতে 2-3 বছরের মাথায় ফুল আসত গাছের শাখায় কিন্তু কখনও ফল ধরতে দেখা যেত না যুগের পর যুগ পার হলেও। আমার পিতা মহের বাড়ীতেও ছিল এমন গাছ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখে আশছি এলাচের গাছ কিন্তু কখনও ফল দেখতে পেতাম না সেখান থেকে আমর শিক্ষা লাভের সূচনা হয় এবং একসময় জানতে পারি ফলন্ত এলাচ আর এই এলচের জেনেটিক জাত ই আলাদা। তার পর থেকে প্রচেষ্টা ভাল জেনেটিক জাত সংগ্রহ করা। আর এরই সূত্র ধরে আলাপ হয় জনাব শাহজাহান ভাই এর সাথে। তার সফল প্রচেষ্টায় আমরা আজ আমাদের প্রতিটি জাতের এলাচের গোড়ায় ফলন হয় বাছাই করে বিদেশ থেকে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় 2011-2012 অর্থ বৎসরে অনেক যাচাই বাছাই করে গাছের গোড়ায় ফলন হয় এমন জাত দেশে এনে চাষ করা শুরু করা হয়। 2013-2014 সালে এলাচ ব্যাপক ভাবে ধরতে শুরু করে। আপনারা টিভি নিউজ ও চ্যানেলে আমাদের বেশকিছু প্রতিবেদন হয়তো দেখে থাকবেন। আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু জংলী এলাচের গাছ পাওয়া যায়, যার শাখায় ফুল হয় কিন্ত কোন ফল হয় না। কিন্ত আমাদের এলাচের জাতের মত গাছের গোড়ায় শিকড়ের মাধ্যমে ফুল ও ফল হয় এমন কোথাও দেখা যায়নি ইতিপূর্বে। আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতপ্রাপ্ত যে জাতগুলো আছে সেগুলোর প্রতিটি জাতেরই গাছের গোড়ায় ফলন হয়। এদেশে আমদানী নির্ভরতা কমাতে নিজেদেরকে এলাচ চাষে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এলাচ চাষে দেশ এগিয়ে যাবে। একমাত্র এলাচ ছাড়া বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোন ফসল নেই যেটা বিঘা প্রতি বৎসরে 10 লক্ষ টাকা কৃষক আয় করে পারে ।

এলাচের জাতঃ
এলাচ 2 ধরনের হয়, বড় ও ছোট। উভয় জাতের এলাচ এশিয়া, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দীপপুঞ্জের নাশিশীতষ্ণ এলাকায় হালকা ছায়া হালকা রোদ্দে অথবা স্যাডো জায়গায় প্রচুর জম্নে। এলাচের 50 টি জাতের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে বহু আগে থেকে বেশ কয়েকটি প্রজাতির ফলন হচ্ছে। আমাদের প্যাটেন্ট 8টি জাত এবং প্যাটেন্ট ছাড়া 2 টি জাত সহ মেট 10 টি জাত আছে। তার মধ্যে 2টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য।

গাছ প্রতি ফলনঃ
রোপনের 2য় বৎসরে কিছু গাছে এলাচ ধরা শুরু করলেও রোপনের 3য় বৎসর থেকে এলাচের গাছে ফলন হয়। প্রায় প্রতি ঝোপে 800 থেকে 900 গ্রাম এমনকি 1 কেজি উপরে পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

বাজার মূল্যঃ
প্রতি কেজি এলাচের বর্তমান বাজার মূল্য 1300/- টাকা পাইকারী দরে এলাচ বিক্রয় যদি ধরা হয় 1000 টাকা তবে প্রতি বিঘায় উৎপাদান হয় সর্বনিম্ন 600 কেজে এবং সর্বোচ্চ 1000 কেজি। সেই হিসবে 1000×1000=10,00,000/- (দশ লক্ষ টাকা) প্রতি বিঘায়। পাঠক বন্ধু বলতে পারেন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোন ফল বা ফসল আছে যা কিনা বিঘা প্রতি 10 লক্ষ টাকা আয় হবে। একমাত্র অর্থকরী ফসল এলাচ ছাড়া?

 

জমি তৈরী ও চারা রোপন পদ্ধতিঃ
জমি তৈরী বড় আকারে করলে 1 বিঘা বা তার উপরে হলে অবশ্যই মাটির 3টি পরীক্ষা করে নিতে হবে । প্রতিটি জেলায় সরকারী মাটি পরীক্ষা কেন্দ্রে মাটি টেষ্ট করাতে পারেন। মাটি পরীক্ষা কৃষক পরর্যায়ে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য 30/- টাকা ফি দিতে হয়। সেই হিসাবে 3 টি পরীক্ষা মোট 90/- টাকা খরচ হবে।(1) মাটির পিএইচ কত ? (2) মাটিতে বলি বা স্যান্ড এর পরিমাণ কত? (3) মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমান কত সেটাও জানতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক পরিমাণ মত থাকলে এলাচ উৎপাদনে তেমন কোন খরচ হয় না অবশ্য 1ম বারের চারা কেনার খরচ ছাড়া পরের বছরগুলোতে। মাটিতে পিএইচ এর পরিমাণ 6 এর বেশী হলে মটির সাথে চুন মিশাতে হবে পরিমাণ মত। জমিতে বালির পরিমাণ কম থাকলে অতিরিক্ত বালি মেশাতে হবে যদি এটেল মাটি হয়। দোয়াশ মাটিতে কোন কিছু করতে হয় না। মাটিতে জৈব উপদানের পরিমাণ কম থাকলে পচা গোবর সার বা কেঁচো কম্পষ্ট সার অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও জমি তৈরীর সময় চাষের সঙ্গে টিএসপি, প্রতি শতকে মাটিতে 500 গ্রাম, পটাশ প্রতি শতকে 500 গ্রাম। জেঞ্জার বা ফুরাডান বা কার্বফুরান যা দানাদার কিটনাশক নামে পরিচিত (33 শতক জমিতে 2 কেজি পরিমাণ দিতে হবে।1দিন পর সেচ দিয়ে জমি ভাল ভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যাতে জমির সাথে সারগুলো ভালভাবে মিশে যেতে পারে। ভাল ফলন পেতে হলে এর 2 সপ্তাহ পরে 2 ফিট চওড়া ও দেড়ফিট গভীর গর্ত করে গোবর সার বা জৈব সার প্রয়োগ করে সাথে দানাদার কিটনাশক অবশ্যই দিতে হবে প্রতি গর্তের গোবরের সাথে 200 গ্রাম। রোপনের পর জমিতে সেচ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত পানি যেন গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।

শতর্কতাঃ
জমিতে পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না। ঘন বর্ষায় চারা লাগানো যাবে না। চারা রোপনের পর পর গোল্ডাজিম লিকুইড স্কয়ার এর ছত্রাক নাশক পানির সাথে পরিমাণমত মিশিয়ে গাছের একেবারে গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।গোল্ডাজিম এলাচের গাছের জন্য ভাল কাজ করে। অতিরিক্ত পানি জমিতে লেগে থাকলে ড্রেনের ব্যবস্থা করে পানি নিস্কাশন করতে হবে।

জমি প্রতি চারা রোপনের হারঃ-
1 বিঘায় চারা রোপন করা যায় 460 টি । প্রতি শতকে লাগে 14টি চারা এবং 33 শতকে চারার পরিমাণ হলো 460 টি । 33 শতক জমি থেকে 3 বৎসর পরে ফলন হবে 900 থেকে 1000 কেজি বা 1 টন। অর্থাৎ 10 লক্ষ টাকার এলাচ বছরে উৎপাদন হবে।

পরিচর্যাঃ
রোপনের 3য় বৎসর পর শীতকালে ফলনের পর পুরাতন গাছ ছাটাই করতে হবে। অবাঞ্চিত মরা গাছ ছাটাই না করলে গাছে ভাল ফলন হয় না। শীতকালে এলাচ গাছে ফুল ও ফল হয়না বিধায় শীতকালে মরা গাছ ও দূর্বল গাছ ছাটাই করা জরুরী।

এলাচের ফলনের স্থানঃ
আমাদের জাতের এলাচগুলোর সবগুলোই গাছের গোড়ায় মাটি সংলগ্ন হয়ে গুচ্ছ আকারে ফুল গজায় লতের মত সেই ফুল গুলো থেকে ফল হয় গুচ্ছ আকারেই। প্রতিবেদনে ছবি সংযুক্ত করা হলো। বাংলাদেশে আমরাই একমাত্র এলাচ উৎপাদনকারী ও সম্প্রসারণকারী যাদের জাতগুলো সঠিক জাত ও আন্তর্জাতিক মানের চারা এবং যা প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে ফলন হয়। আমাদের পূর্বে বাংলাদেশের কোন লোক বা প্রতিষ্ঠান দেখাতে পারবে না যে, তারা গাছের গোড়া থেকে এলাচের ফলন করেছেন। দেশের আনাচে কানাচে অনেক জাত আছে যে গুলো ফুল হয় কিন্তু কোনদিনও ফল হয় না। ফলে উৎপাদনকরী কৃষক হয় বঞ্চিত এসব জাতের গাছ লাগিয়ে আর এ কারনে আমাদের দেশে এতদিন এলাচ চাষ সম্প্রসারণ করতে পারেনি সঠিক জাতের অভাবে। বাংলায় আষাঢ় মাসে এই জাত গুলোর ফুল আসে এবং ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের শেষের দিকে এলাচ পরিপক্ক হয়। তখন বাগান থেকে কাঁচা এলাচ সংগ্রহ করে রোদে শুকাতে হয় অথবা বেশী পরিমাণে উৎপাদন করলে ড্রায়ার মেশিনের সাহায্যে শুকাতে হয়। বর্ষায় হয় বলে এলাচ না শুকিয়ে ঘরে রাখলে পচন ধরবে। এলাচ ফল পরিপক্ক হলে ফলগুলো দেখতে কিছুটা সবুজের উপর লালচে হবে। এলাচের মান উন্নত করতে হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটে স্থান করার জন্য কিছু নিয়ম পালন করতে হবে।

 

কোন কোন অঞ্চল এলাচ উৎপাদন করে এবং বাগানের ধরন কেমন হবেঃ-
পৃথিবীর মধ্যে ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্থান, ইরাণ, আমেরিকার কিছু অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এলাচ প্রচুর জম্নে। এলাচ ভাল হয় পাহাড়ী ও পতিত উচূ ভূমিতে যেমনঃ আমাদের দেশে আমের বাগান বা মেহগনির বাগান বা কাঠাল বাগানে অথবা আঙ্গুরের বাগানের নীচে সারিবব্ধভাবে এলাচের চাষ করা যায়। ছায়াযুক্ত বা স্যাডো জায়গায় এলাচ ভাল উৎপাদন হয়। যেমন ধরুনঃ সিলেটের চা বাগনগুলো যে ভাবে ছায়াবৃক্ষের নীচে তৈরী হয়েছে, তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাদের পতিত ভূমি বা আম কাঠাল, মেহগনীর বাগান আছে যেখানে আধো আলো আধো ছায়া পড়ে এমন স্থানে এলাচ চাষ করলে অধিক লাভ জনক হয়। তা ছাড়া যারা নতুন বাগান করতে চান। তাদের সেডট্রি তৈরীতে অনেক সময় লাগবে তার চেয়ে আঙ্গুরের বাগান করে একই সাথে নীচে এলাচ চাষ করলে সময় কম লাগবে। একই সাথে মিশ্র ফলের নতুন বাগন তৈরী হবে। একই জমি থেকে আঙ্গুর ও এলাচ দুটোই পাওয়া যাবে। নতুন জমিতে আঙ্গুর ও এলাচের মিশ্র বাগান করতে চাইলে আঙ্গুর বাগানের 2 সারির মধ্যে গ্যাপ থাকতে হবে কম পক্ষে 20 ফুট। এতে 2টি সারি আঙ্গুর থাকবে এবং দুই সারি করে এলাচের গাছ থাকবে। উচ্চতা হবে প্রায় 8-9 ফিট। ছবিতে আঙ্গুর বাগানে গ্যাপে গোল চিহ্নিত স্থানে এলাচ চাষ করতে পারেবেন এতে উৎপাদন কারী একই সাথে 2টি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। উৎপাদন কারী এতে অর্থনৈতিক ভাব বেশী লাভবান হতে পারবেন। প্রতিটি মিশ্র বাগানে ক্ষেত্রে পরামর্শ সহ সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে যা একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে, ফলন আসা পর্যন্ত 3 বছর। আমার একক ভাবে সংগৃহীত উন্নত মানের 50টি মিষ্টি আগুরের জাত আছে যা আমাদের দেশের জন্য যুগান্তকারী সাফল্য। প্রায় 20 বছরের প্রেচেষ্টায় এই জাতগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে দেশে উৎপাদনের জন্য। আর এই জাতগুলো সম্প্রসারনের জন্য এলাচ চাষ এবং আঙ্গুর চাষ একই স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের দেশে অনেকের এখনও ধারনা বাংলাদেশের মাটিতে আঙ্গুর মিষ্টি হয় না। এই ধারনাকে চ্যলেঞ্জ করার জন্য বা মানুষের ভুল ধারনা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এলাচের স্যাডো প্লেস তৈরী করার জন্য একই স্কিমে আঙ্গুর ও এলাচ চাষ নিয়ে অগ্রসর হয়েছি। জয়পুর হাটে আঙ্গুরের সাথি ফসল হিসাবে কাল এলাচ চাষ শুরু হয়েছে। তাই আমাদের প্রচেষ্ট এলাচের সাথে 50 জাতের আন্তর্জাতিক মানের মিষ্টি আঙ্গর চাষ। এটা নির্ভর করে উৎপাদনকরীর চাহিদার উপর কোন জাতের আঙ্গুর তিনি চাষ করতে পছন্দ করেন। তার রুচি এবং আর্থি ক সামথ্যের উপর।বাগানের মাঝখানে বাগানের আগাছা পরিস্কার করার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে আঙ্গুর গাছগুলো সময়মত স্প্রে করতে অসুবিধা না হয়। একটি আঙ্গুর গাছ প্রায় 70 থেকে 100 বছর বাছে। প্রথমে গাছে 10 থেকে 20 থোকা আঙ্গুর ধরলেও গাছের বয়স এবং স্বাস্থ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে এটার ফলন বৃদ্ধি পায়। একটি পরিপূর্ণ গাছে বছরে 40 কেজির উপরে আঙ্গুরের ফলন হয়। বিশেষে করে থমসন, ক্রিমসন, সুলতানা জাতগুলোতে। এগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্যাটার্ণ করা জাত, যে মাটিতে লাগানো হোক না কেন তার ফল মিষ্টি হবেই কারন এগুলো জেনেটিক ভাব মিষ্টি জাত বা টেবিল গ্রেপ

 

টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ছোট ও বড় এলাচের চারা উৎপাদন

এলাচকে বলা হয় মসলার রাণী। সুগন্ধযুক্ত এই মসলাটির চাহিদা আমাদের দেশে প্রচুর। রান্নায় স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও এর রয়েছে প্রচুর ঔষুধি গুন।কিন্তু কাংখিত এলাচের জাত আমাদের দেশে না থাকায় প্রতি বছর প্রায় দেড়শ কোটি টাকার এলাচ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। আমদানী নির্ভর এই মসলাটির সম্প্রতি আমাদের দেশে ব্যাক্তিগত উদ্যেগে খুব সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে চারা উৎপাদন ক্ষমতা অপ্রতুল হওয়ায় স্বল্প সময়ে কাংখিত জাতের বিস্তৃতি ঘটাতে টিস্যু কালচার একটি কার্যকরী সমাধান।

 

গুনাগুণঃ

১। এলাচ ক্ষিদে বাড়ায়। দাতের মাড়ি শক্ত করে ও হজম শক্তি বাড়ায়।

২। পিত্ত, কষ, রক্তের দোষ, চুলকানি, হাপানি, বমি ও কাশিতে উপকারী।

৩। এলাচের গুড়ো আমলকির রসের সাথে মিশিয়ে খেলে প্রসাবের জ্বালাপোড়া ও হাত পা জ্বালার উপশম হয়।

৪। এলাচের দানা মুখে রাখলে বমি বমি ভাব এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। বড় এলাচ পেট ফাপা নিবারক ও কফ পিত্ত এবং রক্তদোষ নিবারক। মুখ রোগ ও মাথার রোগেও বড় এলাচ উপকারী।

৫। এলাচ বমি ও শ্বাস কষ্ট দূর করার ক্ষেত্রেও কার্যকর। অনেক সময় খাওয়ার কম বেশিতে পেটে বায়ু জমে।

৬। প্রসাব ভাল হচ্ছেনা। পেটটা কেমন যেন গুম মেরে থাকে। এ ক্ষেত্রে দুটি বড় এলাচ খোসাসহ চন্দনের মত বেটে এক কাপ পানিতে গুলে সকালে খেতে হবে। তাতে যদি অসুবিধা পুরোপুরি দূর না হয় তাহলে বিকেলে অনুরূপভাবে আর এক কাপ খাবেন।

৭। হাত পা কামড়ানিতে বড় এলাচ বাটা একটু পানি দিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৮। চুলকানিতে কোন মলমে যেকোনে কাজ হয় না। সেখানে বড় এলাচ চন্দনের মত করে বেটে গায়ে মাখতে পারেন।

৯। বাতের ব্যথায় অর্ধেক চা চামচ এলাচের গুড়ো পরিমাণ মতে মধু সহ এক মাস পর্যন্ত রোজ একবার খাবেন।

১০। ব্রঙ্কিয়াল এজমা দীর্ঘ দিন হলে গেলে কার্ভিয়াক এজমা যদি তার সাথে যুক্ত হয়, তাহলে সামান্য হাটলে বা কাজ করলে শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দুইটি বড় ও দুইটি ছোট এলাচ এক সঙ্গে বেটে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে ছেকে খেতে হবে। শ্বাস কষ্ট উপশমে এটা অত্যন্ত কার্যকর।

১১। ছোট এলাচ কফ, কাশি, শ্বাস, অশ্বরোগ, মুত্র কচ্ছ ও বায়ু নাশক।

১২। বয়স বাড়লে অগ্নিমান্দ্য দেখা দিতে পারে। আবার খাবার লোভও থাকে প্রবল। এমন পরিস্থিতিতে হজমে গন্ডগোল দেখা দিলে দুইটি ছোট এলাচ বেটে এক কাপ পানি সহ খাবেন।

১৩। জোলাপ নিয়েও যাদের পায়খানা পরিস্কার হয় না, এবং পায়খানা পরিস্কার না হওয়ায় পেটে সামন্য ব্যথা করে। একটি ছোট এলাচ বাটা আধা কাপ হালকা গরম পানিতে গুলে খাওয়া তাদের জন্য ভীষণ উপকারী।

১৪। হৃদ রোগের সঙ্গে হাপানি থাকলে ছোট এলাচ ও পিপুল চূর্ণ সম পরিমাণ নিয়ে গাওয়া ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।

১৫। এ ছাড়া শুলরোগীর কোষ্টবদ্ধতায়। বমনে, খিচ ধরা ব্যথায় এবং খাবারের বিষক্রিয়া জনিত বমিতে এলাচ চুর্ণ পানি দিয়ে গুলে খেতে হবে।

১৬। এলাচ দানার গুড়ো একটু লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে কেলে পেটের গ্যাস ও পেটে ব্যথার উপশম হয়।

তবে অতিরিক্ত এলাচ খাওয়া ক্ষতিকর। গর্ভবর্তী মহিলাদের অতিরিক্ত এলাচ খেলে গর্ভপাতের আশংকা থাকে।

জায়গা/জমি শুকনা থাকলে চাষ/কুপিয়ে প্রতি কাঠায় ৫০০ গ্রাম হারে TSP ও POTASIUM সার ছড়ায়ে অথবা উক্ত সার মিশ্রনে ১ কেজি সার ৩০টা চারা পোতারগর্তে ছড়ায়ে ভিজায়ে দিতে হবে এবং মাটি শুকালে অথবা ৭দিন পর চারা রোপণ করা যাবে।শুকনা মাটিতে চারা রোপণ করলে বিকালে চারা রোপণের পরদিন সকালে ভিজাতে হবে। বীজ থেকে নয় মূল থেকেই জন্ম নেয় এলাচ গাছ।

 

রোপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে একই হারে uria – potasium সার দিতে হবে তবে পরবর্তীতে কেবল dap সার প্রযোজ্য।

Top
%d bloggers like this: