মালিকের কাছে এসএমএস পাঠাতে পারে গরুও

মালিকের কাছে এসএমএস পাঠাতে পারে গরুও

মালিকের কাছে এসএমএস পাঠাতে পারে গরুও

জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের একটা পশু খামার৷ সেখানে কৃষক ভেস্টরুপের মোবাইল ফোনটি একটু পর পরই বেজে উঠছে৷ এতে অবশ্য বিরক্ত নন তিনি৷ বরং খামারের পশুদের হালনাগাদ বিষয়ক তথ্য মোবাইলে পাওয়ায় সন্তুষ্টই তিনি৷
উলরিশ ভেস্টরুপের মোবাইলে বারাবার রিং বাজার কারণ আসলে একটি প্রযুক্তি পণ্য৷ নিরিহ পশুগুলো জানেই না যে, এই বিশ্বস্ত মালিকটি আসলে তাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করছেন৷ খামারে কি ঘটছে মুহূর্তের মধ্যেই সেটা জেনে যাচ্ছেন মালিক৷
অনেকে পছন্দ না করলেও, ভেস্টরুপ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবাদি পশুর খবরাখবর রাখার পক্ষে৷ তিনি বলেন, ‘‘যন্ত্রটি গরুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি, তাদের গতিবিধিও পরিমাপ করতে পারে ৷”

তবে গাভির অনেক আচরণের মধ্যে একটি বিশেষ দিকেই ভেস্টরুপের আগ্রহ বেশি৷ মাসে মাত্র একবার গর্ভধারণের উপযুক্ত ঋতুকাল পার করে তারা৷ ভেস্টরুপ বলেন, ‘‘পশুগুলি কোনো অস্বাভাবিক আচরণ করলে সেন্সর তা রেকর্ড করে৷ একটি পশু অপর একটি পশুর উপরে মাথা এলিয়ে দিলে বা অন্যের উপর উঠতে চেষ্টা করলে, বুঝতে হবে যে সে উত্তেজিত৷ কম্পিউটার তখন একে গর্ভধারণের ইঙ্গিত মনে করে৷ সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পৌঁছে যায় আমার মোবাইলে ৷”

মাঝে অবশ্য আরেকটি পর্যায় রয়েছে৷ গরুর গলায় থাকা সেন্সর থেকে তথ্য প্রথমে চলে যায় ফ্রান্সের পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেদ্রিয়া-য়৷ এরপর জার্মান টেলিকমের মাধ্যমে এসএমএস আকারে তা পৌঁছায় ভেস্টরুপের মতো কৃষকের কাছে ৷

ভেস্টরুপের কাছে ষাড়ের হিমায়িত শুক্রাণু রয়েছে৷ এগুলো বেশ দামি৷ কোনো গরু গর্ভধারণের জন্য তৈরি হলে একটি নলের সাহায্যে গরুর দেহে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে দেন তিনি ৷

গবাদি পশুর উপর নজর রাখার এই প্রযুক্তি সস্তা নয়৷ একমাত্র যাঁদের একশো’র বেশি পশু রয়েছে, তাঁরা এটি ব্যবহারের সক্ষমতা রাখেন৷ ভেস্টরুপের পশুর সংখ্যা প্রায় ছয়শো৷ তিনি তাঁদের গর্ভকাল পর্যবেক্ষণে সেন্সরের সহায়তা নিতে এক বছরে খরচ করেছেন বিশ হাজার ইউরোর মতো৷ তবে এই বিনিয়োগের সুফলও আসতে শুরু করেছে ৷

Top
%d bloggers like this: