​তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী দুই বন্ধু

তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী দুই বন্ধু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তরমুজ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দুই বন্ধু। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল তরমুজ এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সারা বছরই চাষ হচ্ছে। ফরমালিন ও  বিষমুক্ত এই তরমুজের বাজারে চাহিদাও রয়েছে ভালো। তরমুজ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের দুই বন্ধু জামাল উদ্দিন এবং মহিউদ্দিন। এদের মধ্যে জামাল উদ্দিন বিদেশ ফেরত আর মহিউদ্দিন গ্রামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। গত দুই বছর ধরে তারা গ্রামে তরমুজের চাষ করছেন। এতে তারা সাফল্যও পেয়েছেন। বছরে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। তাদের খামারে  কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামের ১৫-২০ জনের। 

জানা গেছে, সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন ও মহিউদ্দিন গত দুই বছর ধরে তরমুজের চাষ করছেন। বছরে তিনবার ফলন হয়। তাদের তরমুজ রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরে তারা ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করছেন। প্রতি বিঘায় ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। তারা আশা করছেন, ফলন ভালো হলে ১২-১৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। তরমুজ চাষের পর তারা ওই জমিতে টমেটো, লাউসহ অন্যান্য সবজিও চাষ করেন। এতেও প্রচুর লাভ হয়। 

জামাল উদ্দিন জানান, তরমুজ চাষ খুবই লাভজনক। ৩ মাসেই গাছ রোপণ ও তরমুজ বড় হয়ে বাজারে পাঠানো যায়। তাদের ফলানো তরমুজ ওজনে প্রতিটি ৩-৪ কেজি হয়। তারা এতে কোনো প্রকার ফরমালিন বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। ফলে তরমুজ টাটকা থাকে। পাকলে ট্রাকে ভরে ঢাকার কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তে পাঠানো হয়। বাজারে তাদের তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি। মহিউদ্দিন জানান, তাদের দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন তরমুজ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। তারা যৌথভাবে তিতাস এগ্রো ফার্ম লি. নামে একটি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। সেখানে এলাকার ১৫-২০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পেরেছেন তারা। 

 সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম বদরুল হক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বীজতলা থেকে শুরু করে ফল পাঁকা পর্যন্ত ৩ মাস লাগে। ওজনে প্রতিটি তরমুজ ৩ থেকে ৪ কেজি হয়। কৃষি বিভাগ তাদের সহায়তা করছে।