সুপারিতে আয় ৩০০ কোটি টাকা

untitled-1-copy_17706

আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে লক্ষ্মীপুরের কৃষক সুপারি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় বেজায় খুশি এ জেলার চাষিরা। স্বল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় এ জেলায় দিন দিন বাড়ছে সুপারি চাষের জনপ্রিয়তা। এখানকার উৎপাদিত সুপারি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এ জেলার সুপারির কদর বাড়ছে। এখানকার সুপারি রফতানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বছর জেলায় সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যা থেকে আয় হবে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ লোকজন নিজেদের বসতভিটায় সুপারি বাগান করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় এখানকার চাষি বেজায় খুশি। বর্তমানে জেলার দালালবাজার, মোল্লারহাট, রাখালিয়া বাজার, জকসিন বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার ও ভবানীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সুপারি কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এখানকার উৎপাদিত সুপারি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু দেশে নয়, এ জেলার সুপারির বিদেশেও ব্যাপক কদর রয়েছে। এখানকার সুপারি রফতানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কাওন (১৬ পোন) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, যার পাইকারি বাজার মূল্য ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রায়পুর উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৭৫ হেক্টর, কমলনগরে ৩৫০ ও রামগতি উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমি। এ বছর জেলায় সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে গেল বছরের তুলনায় সুপারির বাজারদর কম হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র সিন্ডিকেট করে সুপারির দাম কমিয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় উৎপাদিত সুপারি থেকে এ বছর ৩০০ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে। এখানে প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থাকলে সুপারি বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। সরকার এ অঞ্চলে সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলে সুপারি ব্যাবসাকে আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করে তুলবেন- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Top