সহজেই করুন গাঁদা ফুলের চাষ

7c5d6c5ae3c204d29ebe8a1ef14c71a8

গাঁদা একটি শীতকালীন ফুল। তবে বর্তমানে গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষ করা যায়। এটি বিভিন্ন জাত ও রংয়ের হলেও উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা হলুদ রংটাই বেশি দেখা যায়। শুধু বাগানের শোভা বর্ধন নয় পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পূজা, গৃহসজ্জার কাজেও এই ফুল ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। ফুলটির উৎপত্তি মেক্সিকোতে। বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes erecta.

বাংলাদেশের ফুলের বাগান গাঁদা ফুল ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। এদেশে ১৯৯০-এর দশক থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই ফুল চাষাবাদ হতে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত দুইটি জাতের গাঁদা পাওয়া যায়।

  • আফ্রিকান গাঁদা: হলুদ রংয়ের ফুল, গাছটি প্রায় ৩ ফুট উঁচু হয়।
  • ফরাসি গাঁদা: কমলা হলুদ রং, তাই অন্য নাম রক্তগাঁদা। গাছটি ছোট, ঝোপযুক্ত, সাধারণত ১ ফুটের চেয়ে উঁচু হয় না।

এগুলো ছাড়াও সাদা, জাম্বো, হাইব্রিড, রক্ত বা চাইনিজ গাঁদারও চাষ হয়ে থাকে।

গাঁদা ফুলের বীজ ছিটানো এবং পরিচর্যা:
চারা উৎপাদনের জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করা যায়। যেমন:

  • ঘরের বাহির: দেশের যে কোন নার্সারিতেই বসন্তের শেষের দিকে গাঁদা ফুলের চারার টব বা ট্রে পাওয়া যায়। তবে বাসায় খুব সহজেই এই ফুল চাষ করা যায়। বসন্তের শেষদিকে অর্থাৎ অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে জমি চাষ দিয়ে বীজ ছিটিয়ে ঝুরঝুরে মাটি দ্বারা ঢেকে দিতে হয়। বীজ ছেটানোর পূর্বে গোবর সার দিতে পারলে ভাল। এঁটেল দো-আঁশ মাটি ফুল চাষের জন্য নির্বাচন করা উত্তম।
  • ঘরের ভিতর: ঘরের ভিতর চারা উৎপাদনের জন্য, একটি টব বা ট্রেতে বীজ ছিটিয়ে ঝুরঝুরে মাটি দ্বারা ঢেকে আর্দ্র স্থানে রেখে দিতে হয়। টব বা ট্রে উষ্ণ স্থান যেমন, রেফ্রিজারেটরের উপর রাখতে হয়। চারাগাছ বের হলে ২ ইঞ্চি করে পাতলা করে দিতে হয়। অতঃপর চারাগুলো রৌদ্রৌজ্জ্বল স্থানে নিয়ে নিয়মিত পানি সেঁচ দিতে হয়।

চারাগাছ রোপণ:
শীতকাল শুরুর ৮-১০ সপ্তাহ পূর্বে যথাস্থানে চারা গাছ লাগাতে হবে। স্থানটিতে কমপক্ষে ৬-৮ ঘন্টা সূর্যের আলো পৌঁছতে হবে। চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ৬-৮ ইঞ্চি। পানি সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে অন্তত একবার সেচ দিতে হবে। মাটি সামান্য আর্দ্র রাখতে হয় কিন্তু পানি জমে থাকবে না। প্রতি ৩ সপ্তাহ পরপর সার পানিতে গুলিয়ে পাতলা দ্রবণ তৈরি করে দিতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিতে হয়। লম্বা প্রজাতির গাছগুলোকে বৃষ্টি এবং বাতাসে হেলে পড়া থেকে রক্ষা করতে খুঁটি দিতে হয়।

সম্ভাব্য রোগ-বালাই:
এই গাছ সাধারণত রোগ-বালাই মুক্ত এবং অল্প পরিচর্যাতেই চাষ করা যায়। সৌন্দর্য এবং সহজেই চাষ করা যায় বলেই বাসার বাগানে শতশত বছর ধরে এই ফুল শোভা পাচ্ছে।

Leave a Reply

Top