লক্ষ্মীপুরে বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই সয়াবিন কৃষকদের

bad121412af76190899fe82e8f997aa1-57026d6b89e05

 

লক্ষ্মীপুরে বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই সয়াবিন কৃষকদের

দেশের মোট উৎপাদিত  সিংহভাগ সয়াবিন লক্ষ্মীপুর জেলায়  হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ  ব্যাবস্থা না থাকায় দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় সয়াবিন, উৎপাদিত সয়াবিনের পরিমাণ প্রায় এক লাখ টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অর্থকরি এ ফসলের প্রক্রিয়াজতকরণ কারখানা যদি লক্ষ্মীপুর জেলায় করা যেত তাহলে কৃষকরা যেমন পেত ফসলের ন্যায্য মূল্য, তেমনিভাবে এ পণ্যকে ঘিরে এ জেলায় কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতো।দেশের পুষ্টি চাহিদার মেটাতে কার্যকর এ কৃষি পণ্যর উৎপাদন ধরে রাখতে প্রয়োজনে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা করা। যাতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত না হয়।

চলতি রবি মৌসুমে ফসলের মাঠগুলোতে আগাছা পরিচর্চার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লক্ষ্মীপুর জেলার  কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার  সয়াবিনের বাম্পার ফলন হবে এমনই প্রত্যাশা করছে এ জেলার কৃষকেরা। লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়ে থাকে।

সরেজমিনে কমলনগর উপজেলার  চরাকাদিরা গ্রামের সয়াবিনের ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা যায়,  মাঠ জুড়ে সবুজ আবরনে ঘিরে রয়েছে সয়াবিনের ক্ষেত।  অসংখ্য গাছে সয়াবিনের ফুল ও সয়াবিন আসতে শুরু করেছে।  আর পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা পেতে  কিটণাশক ব্যবহার করছে কৃষকরা। অধিকাংশ কৃষক জানায়, খরচের তুলনায় অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন তারা সয়াবিন আবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

চরমনার কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, এ বছর ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সয়াবিনের আবাদ করেছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে গত বছরের চেয়েও এবার ভালো ফসল হবে। তবে এখানে সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা থাকলে আমরা আরও বেশি লাভবান হতাম।

কৃষক সিরাজ মিয়া জানান,  এবার প্রায় ৩ কানি জমিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সয়াবিন চাষ করেছেন তিনি। ভালো ফলনের আশায় তাই পরিবারের লোকজন নিয়ে তিনি সয়াবিন ক্ষেতের আগাছা দমন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার সয়াবিনের ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর, রায়পুর ৭ হাজার ৭শ, রামগতি ১৮ হাজার ৬শ ও কমলনগর ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিসহ এ জেলায় মোট ৫২হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৯শ ৫০ টন।যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০(চারশ) কোটি টাকা। প্রতি একর সয়াবিন উৎপাদনে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। যার বিক্রয় মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এ ফসল জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের  উপ-পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর  জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। এ সয়াবিন থেকে পুষ্টিকর খাবার সয়াদুধ, সয়ানাগের ও সয়াতপুসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি হয়।

কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হানান জানান, প্রতি কেজি সয়াবিনের দাম ৪০-৪৪ টাকা। কিন্তু আমরা যখন ফসল ঘরে তুলি তখন সয়াবিনের দাম পাই মাত্র ২০-২৫ টাকা। শুধুমাত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থা  না থাকার কারণে আমরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই।

 

Top