যশোরের মৎস্য চাষী মফিজুরের উৎপাদিত কৈ আর শিং মাছ ব্যাপক সাঁড়া ফেলেছে

যশোরের মৎস্য চাষী মফিজুর রহমান তরফদারের ঋৎপাদিত উন্নত জাতের কৈ আর শিং মাছ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ মাছ চাষি হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার।
জানাযায়,গত ২৭ বছর আগে যশোর শহরতলীর চাঁচড়ার বাসিন্দা মফিজুর রহমান তরফদার পৈত্রিক ব্যবসার হাত ধরে মাছ চাষ শুরু করেন। মফিজুর রহমানের পিতা মুজিবার রহমানও ছিলেন একজন আদর্শ চাষি। আধুনিক পদ্ধতির ধান ও সবজির চাষাবাদ করে তিনিও রাষ্ট্রীয় পদক লাভ করেন। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় করেন বিদেশ ভ্রমণ। এক পর্যায়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৯৯০ সালে মফিজুর রহমান লেখা পড়া ছেড়ে পৈত্রিক ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। প্রথমে তিনি বর্মণ পাড়ায় পৈত্রিক জমিতে ২/৩টি পুকুর খনন করে কার্প জাতীয় মাছের চাষ শুরু করেন।
এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মৎস্য চাষি মফিজুর রহমান তরফদারকে। বর্তমানে তিনি চঁচড়া বর্মণ পাড়ায় নিজস্ব ৬ হেক্টর জমিতে ছোট বড় ১০টি পুকুর খনন করে সেখানে উন্নত জাতের কৈ ও শিং মাছের চাষ করছেন। এছাড়া সারা বছরই তিনি সাদা মিশ্র জাতের মাছ চাষ করে থাকেন।

তার উৎপাদিত কৈ আর শিং মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা শহরে রপ্তানি করেন তিনি। তরফদার মৎস্য চাষ প্রকল্প থেকে গত বছর আড়াই শ’ মেট্রিক টন কৈ ও শিং মাছ উৎপাদন করেছেন মফিজুর রহমান। উৎপাদিত এসব মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে  দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। তার দেখাদেখি অনেকেই এখন উন্নত জাতের কৈ আর শিং মাছ চাষ ঝুঁকে পড়ছেন।
এৎস্য চাষী মফিজুর রহমান তরফদার আমাদের এ প্রতিবেদককে বলেন তিনি এর আগে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ অন্যান্য দেশি জাতের মাছের চাষ করতেন। ৭ বছর আগে তিনি উন্নতমানের কৈ ও শিং মাছের চাষ শুরু করেন। স্থানীয় বাজারে কৈ ও শিং মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তার খামারের উৎপাদিত মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি নিয়ত রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী, মাগুরা, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ কমপে ২০ জেলায় সরবরাহ করা হয়। মফিজুর রহমানের স্বপ্ন, বাংলাদেশের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করে যাতে দেশের চাষিরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জণ করতে পারে সে ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।তার মৎস্য খামারে নিয়মিত ২ জন নারী শ্রমিক ও ৪ জন পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া মৌসুমে আরো ১০/১২ জন শ্রমিক তরফদার মৎস্য চাষ প্রকল্পে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এদিকে চাঁচড়ার মৎস্য চাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল করিম আনু বলেন, কৈ ও শিং মাছের চাষ লাভজনক হওয়ায় মফিজুর রহমান তরফদারের মতো আরো অনেক চাষি কৈ ও শিং মাছ চাষের প্রতি অধিক হারে ঝুঁকে পড়ছেন।

Top
%d bloggers like this: