মৎস্য হ্যাচারীতে কপাল খুলছে নুরুদ্দিনের

মৎস্য হ্যাচারীতে কপাল খুলছে নুরুদ্দিনের

ভোলার লালমোহনের গজারিয়ার বাসিন্দা নুরুদ্দিন মৎস্য হ্যাচারীর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। আট ভাই এবং চার বোনের মধ্যে নুরুদ্দিন আট নম্বরে। পরিবারের সবাই শিক্ষিত,তার বাবা মাছের দালাল ছিলেন এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এতো বড়ো সংসারে সব সদস্যের ভরণ পোষণ এবং লেখাপড়ার খরচ তার পিতার পক্ষে মোটেও সহজ ছিলোনা তবুও তিনি হাল ছাড়েননি, উচ্চ শিক্ষিত করিয়েছেন ছেলে মেয়ে সবাইকে। নুরুদ্দিনও স্থানীয় কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি, গজারিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম,ঢাকার সরকারি কবি নজরুল কলেজ থেকে দর্শনে বিএ এবং ঢাকা কলেজ থেকে দর্শনে এমএ ডিগ্রী লাভ করেছেন ২০১০ সালে।

ঢাকায় লেখাপড়ার সুবাধে বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রতি দৌঁড় ঝাঁপ অনেক করেছেন, কিছুতেই কিছু হলোনা। প্রতারিতও হয়েছেন চাকরির জন্য টাকা দিয়ে, নিজের দুখো কষ্টের কথা গুলো এভাবেই তার মৎস্য হ্যাচারির পাড়ে বসে বললেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

বললেন একটি চাকরির জন্য কতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি তার হিসাব নেই। অবশেষে চাকরি পেয়েছি ভোলা আলতাজের রহমান ডিগ্রী কলেজে সেটাও আবার তৃতীয় কোটায়। বেতন নেই অনেক বছর যাবৎ। নিজ পকেট আর বাবা ও ভাইদের টাকায় কতোদিন চলবে। দুশ্চিন্তায় চোখে ঘুম আসতোনা রাতে।

অবশেষে বড়ো ভাই বশির উল্লাহ্‌র পরামর্শ আমার কাছে ভালো লাগছে। এরপর আমার চারটি পুকুরে বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছের ডিম ছেড়েছি। এখন ডিম ফুটে বাচ্চা অনেক বড়ো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের আরও তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে তাতে বড়ো হওয়া মাছের বাচ্চা গুলো ছাড়ছি। এখন বিভিন্ন দূর থেকেও মাছ চাষিদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি মাছ দেবার জন্য। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও মাছের রেনু ছেড়ে মাছ চাষ করছেন দেখে এলাকার অনেকেই প্রথম প্রথম খারাপ মন্তব্য করতেন এখন আর কেউ করেনা,নুরুদ্দিনের বাবা হাজি নুরুল ইসলামও এ ব্যাপারে প্রশংশায় তার ছেলের সুনাম কুড়াচ্ছেন। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু ইউছুফ এ ব্যাপারে বলেন ঢাকা থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও নুরুদ্দিন অন্য আর দশটা ছেলের মতো নই,ঘুষ দিয়ে চাকরি করার দরকার নেই অথচ যে টাকা দিয়ে চাকরি নিবে তা দিয়ে সে আজ মৎস্য হ্যাচারী করে নিজেই নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন তা জেনে আমি খুব আনন্দিত।

আমি মনে করি দেশের সব ছেলে মেয়ের যদি নুরুদ্দিনের মতো প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতো তাহলেই এদেশের চিত্র পাল্টে যেত। আমি নুরুদ্দিনের এ শুভ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। নুরুদ্দিনের মতো উপজেলায় আরও অনেকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবার প্রবণতা বাদ দিয়ে মৎস্য চাষ, পৌল্ট্রি, শাক সবজি, গবাদি পশু ,ছাগল, হাঁস সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। নিজেরায় বেক্তিগত ভাবে পরের উপর ভরশা না করেই স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসজ্ঞে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো:সাহাবুদ্দিন বলেন উপজেলায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণী ইত্যাদি সম্পদের চাষা বাদের প্রচুর ক্ষেত্র আছে। ভোলার চারপাশে নদী থাকায় জোয়ার আসলেও কিছুক্ষণ পর পানি নেমে যায়। যারা এসব ক্ষেত্র আবাদ করার জন্য নিজ উদ্যোগে আমাদের কাছে এসে পরামর্শ চায় আমরা তা দিতে প্রস্তুত,এসব ক্ষেত্রে উপজেলায় কৃষদের বীজ,সার ইত্যাদি উপকরণ বিতরণ করা হয়।