মানিকগঞ্জে শসা চাষে সফল কৃষক মুন্নাফ

13209-sosaamaar

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চঙ্গশিমুলিয়া গ্রামের কৃষক মুন্নাফ খান। সরকারী কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন চাকুরীর জন্য চেষ্টা করেও তার ভাগ্যে ধরা দেয়নি চাকুরী নামক সোনার হরিণ। অবশেষে নিরুপায় হয়েই তিনি আত্মনিয়োগ করেন কৃষিকাজে। আধুনিক চিন্তাধারা আর যুগপযোগী কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার ফলে প্রথম বছরেই তিনি লাভের মুখ দেখেন। সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরো উদ্দোমে বনে যান সফল কৃষকে। বর্তমানে নিজের ২ বিঘা ও অন্যের ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শসার চাষ করছেন।

মুন্নাফ খান জানান, বীজ, সার, কীটনাশক আর পরিচর্যার মজুরি মিলিয়ে খরচ পড়েছে আড়াই লক্ষাধিক টাকা। বীজ লাগানোর দেড় মাসের মধ্যেই হাইব্রীড (অল রাউন্ডার-২) প্রজাতির শসা গাছে ফলন ধরে। কার্তিক থেকে শুরু করে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত শসা বিক্রি করে লাভ হবে ৫ লক্ষাধিক টাকার ওপরে। উৎপাদিত শসা ঢাকার কারওয়ান বাজার ও আশুলিয়ার বাইপাইল কাঁচা বাজারে পাইকারী বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

পাশের ৮০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন কৃষক গোপাল ও দীলিপ সরকার। তারাও বাম্পার ফলনে বেশ লাভবান। দীলিপ সরকার জানান, সরকারী পর্যায়ে কৃষি ঋণ ও কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করেন তাহলে শসা চাষে আরো অনেকেই এগিয়ে আসবে। ফলনও বৃদ্ধি পাবে।

মুন্নাফ খান অনেকটা অভিযোগের সুরে বলেন, বীজ লাগানো থেকে বিক্রি পর্যন্ত কোনো কৃষি কর্মকর্তা শসা ক্ষেত পরিদর্শনে আসেননি। বালাই দমনে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশা ও সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির কারনে শসার ডগায় ও জালিতে পঁচন ধরে ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়াও শালিক, ফিঙে পাখির অত্যাচার থেকে ফলন রক্ষা করতে শসার মাচায় জাল দিয়ে আবৃত করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফউজ্জামান বলেন, মুন্নাফ খানের সফলতায় এলাকার অনেক চাষি শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শশা চাষে তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান অন্যান্য শস্য ফলনেও কাজে লাগবে। কোন সমস্যার ব্যাপারে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবো।

Top