মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন কমছে

মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন কমছে

চলছে আমন ধানের মৌসুম। ধানের এ বাড়ন্ত সময়ে পোকা দমনে উদ্যোগী না হলে ফলন বহুলাংশে হ্রাস পায়। আমন ধানে যতো ধরনের পোকার আক্রমণ হয়, তার মধ্যে হলুদ মাজরা পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর।

হলুদ মাজরা পোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় আমন মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হলেও পানিতে অনায়েসে বেঁচে থাকতে পারে। এ পোকা যে গাছে আক্রমণ করে সেই গাছের শীষ সম্পূর্ণভাবে চিটা হয়। পোকা দমন করা খুবই কষ্টসাধ্য। এর ফলে ফলন কমে যায় শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত। অনেক সময় ফলন নেমে আসতে পারে শূন্যের কোটায়।

এই পোকা সম্পর্কে বাংলানিউজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

ধানের হলুদ মাজরা পোকা আক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান,

শীষ বের হওয়ার আগে: ধানের গোছার মাঝখানের ডিক পাতা হলুদ হয়ে যায়। পোকাটি লার্ভা অবস্থায় কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেতে শুরু করে। একপর্যায়ে যখন ডিক পাতা গোড়া থেকে বিছিন্ন হয়ে গেলে পাতাটি মরে যায়। এই মরা ডিগ পাতাটি টান দিলে সহজেই উঠে আসে। যাকে ডেড হার্ট বলে।

শীষ বের হওয়ার পরে: শীষ আসা অবস্থায় আক্রমণ হলে ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে যায়। এ পোকার আক্রমণে শীষের দানাগুলোতে পুষ্টি সরবরাহ হয় না। ফলে শীষের সব দানা চিটায় পরিণত হয়। জুলাই (আষাঢ়) থেকে অক্টোবর (আশ্বিন) মাস পর্যন্ত আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

বিরতিহীন ধান চাষ এ পোকার বংশ বাড়াতে উল্ল্যেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বন্য ধান গাছ ও অন্যান্য ধান জাতীয় আগাছাও বিকল্প পোষক হিসেবে কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগে এ পোকার প্রার্দুভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। জলি আমনে এ পোকার ছয়বার পর্যন্ত বংশ বিস্তার করে।

এ পোকার আক্রমণে দমন ব্যবস্থা সম্পকে তিনি বলেন, জমিতে শতকরা ১০-১৫ ভাগ মরা ডিগ অথবা শতকরা পাঁচ শতাংশ সাদা শীষ দেখা দিলে অতি দ্রুত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অনুমোদিত কার্যকরী কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ফুরাডান ৫জি, ফিপরোনিল ৩জি। যা প্রতি হেক্টরে ১০ কেজি দিতে হবে।

এছাড়া প্রতি হেক্টরে পাঁচ কেজি থায়ামেথোক্সাম ও ক্লোরানট্রানিলি (০.৬ জি) প্রয়োগ করেও এ পোকা দমন করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে ঘাসফড়িং হলুদ মাজরা পোকার ডিম খেয়ে থাকে। এছাড়া পরজীবী ট্রাইকোগ্রামা হলুদ মাজরা পোকার ডিম থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। ফলে ওইসব ডিম থেকে লার্ভা জন্মাতে পারে না।

আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা যায়। এরা গাদা করে ডিম পাড়ে। তাই ডিমের গাদা সংগ্রহ করে এদের ভালোভাবে দমন করা সম্ভব। হলুদ মাজরা পোকা থেকে প্রতিরোধের উপায় প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান জানান, বীজতলায় চারা গাছের পাতার আগার দিকে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে। তাই রোপা ধান খেতে চারা গাছ রোপণ করার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বীজ তলায় চারা গাছের পাতার আগা কাঁচি দিয়ে ছাটলে ডিমগুলো আর মূল মাঠে যেতে পারে না। এভাবে প্রায় ৫০ ভাগ হলুদ মাজরা পোকার ডিম ধ্বংস করা যায়।

সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪

Top
%d bloggers like this: