নান্দাইলে কৃষক স্কুল

নান্দাইলে কৃষক স্কুল

উপজেলায় কৃষকের স্কুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সেখানে ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম ম্যানেজমেন্ট কম্পোনেন্ট (আইএফএমসি) প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ইউনিয়নে এই স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। এতে হাতে কলমে আধুনিক প্রযুক্তির কৃষি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ফলে বদলে যাচ্ছে কৃষি উত্পাদনের পুরনো ধরন। নান্দাইলে কৃষক মাঠ স্কুলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন শত শত কৃষক-কৃষাণী। তারা এ স্কুল থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করছেন। এর ফলে কৃষি প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যন্ত এলাকায়। উন্নত হচ্ছে কৃষি সমাজ। বেকার যুব সমাজও খুঁজে পাচ্ছে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন পথ।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইলে আইএফএমসি প্রকল্পের আওতায় ৫টি ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে ৮টি কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। বেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর, নান্দাইল ইউনিয়নের রসুলপুর ও সাভার, চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের লংপুর ও ডাংরি, আচারগাঁও ইউনিয়নের হাওলাপাড়া ও চানপুর এবং খারুয়া ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামে এ ধরনের স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। ডিএই-ডানিডা ডেনমার্ক সরকারের আর্থিক সাহায্যে এই প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুন থেকে চালু হয়েছে। তা চলবে ২০২২ সাল পর্যন্ত। এই স্কুলগুলো ব্যাক স্টপিং এবং মনিটরিং করছে কৃষি বিভাগ, মত্স্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

প্রতি স্কুলে সপ্তাহে দুই দিন ২৫টি কৃষক পরিবারের দুইজন করে (নারী ও পুরুষ) মোট ৫০ জনকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ওই হিসেবে নান্দাইলে ৮টি ইউনিয়নের চারশত কৃষক-কৃষাণী এ সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বসত বাড়িতে সবজি চাষ, ফল গাছের পরিচর্ষা, আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ, পোকামাকড় দমন ও এর উপকার-অপকারিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন আবাদ ও গবাদী পশুর রোগ বালাই সর্ম্পকেও জানতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে কৃষি বিভাগ থেকে বই, খাতা, কলম, ক্যাপ, নারীদের স্কার্ফ, গাছের চারা ও উপকরণ সহায়তা হিসেবে ১৫শ টাকা এবং একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছয়জন কৃষক সহায়তাকারী (এফএফ) ক্লাস নিচ্ছেন। সেখানে টিম লিডার হিসেবে একজন দায়িত্ব পালন করেন। ট্যাগ হিসেবে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কর্মকর্তা। সর্বোপরি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষক স্কুলগুলো তদারকি করেন।

সুবিধাভোগী চরশ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক মো. আবুল মনসুর ও হাওলাপাড়া গ্রামের কৃষাণী মোছা. হারেছা বলেন, ‘কৃষক স্কুলের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনে নিজেদের জমিতে তা প্রয়োগ করছি। এতে আমরা দিন দিন লাভবান হচ্ছি।’ টিম লিডার হিসেবে দায়িত্বরত উপজেলা উদ্ভিদ ও বীজ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বলেন, এ ধরনের প্রকল্প কৃষক-কৃষাণীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিচ্ছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের প্রকল্পে নান্দাইলের কৃষক সমাজ আগ্রহী হয়ে উঠছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও প্রযুক্তি গ্রামের কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্যেই বর্তমান সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

Top
%d bloggers like this: