নাটোরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রসুনের জমিতে তরমুজ চাষ

2016-04-06_2_483900

নাটোরে রসুনের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে তরমুজের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলনবিল এলাকার দু’ ফসলী জমিতে সাথী ফসল থাকায় তিনটি ফসলের আবাদ কৃষকদের ঘরে উঠছে। কৃষকরা পাচ্ছেন বাড়তি মুনাফা।

গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুলী গ্রামের কৃষক নান্নু মিয়া ২০০৯ সালে তার দুই বিঘা জমিতে প্রথম রসুনের সাথে তরমুজ আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও তত্বাবধানে নান্নু মিয়া প্রতি বিঘাতে রসুন থেকে মুনাফা পেয়েছিলেন ২৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, তরমুজ থেকে বাড়তি মুনাফা আসে ১৪ হাজার টাকা। নান্নু মিয়ার পরীক্ষামূলক সাথী ফসলের চাষাবাদে অর্জিত মুনাফা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন এলাকার কৃষকরা।

গত বছর উদবাড়িয়া এলাকার কৃষক তহিদুল মিয়া চার বিঘা জমিতে রসুনের সাথে তরমুজ আবাদ করে দুই লাখ টাকা মুনাফা করেছেন। একই এলাকার জব্বার আলী ১০ বিঘা জমিতে দুই বছর ধরে সাথী ফসল চাষ করে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা করে মুনাফা থাকছে বলে জানিয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে সাথী ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েছে। ২০০৯ সালে উদ্ভাবিত সাথী ফসলের জমি দুই বিঘা থেকে বর্তমানে ৫২০ হেক্টরে পরিণত হয়েছে।

চলনবিল এলাকার প্লাবিত এসব জমিতে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর নরম মাটিতে রসুনের কোয়া বোনা হয়। প্রায় দুই মাস পরে ওই একই জমিতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তরমুজের বীজ রোপণ করা হয়। বর্তমানে জমি থেকে রসুন ওঠা প্রায় শেষ হয়েছে। এরপর চৈত্রের শেষার্ধ থেকে তরমুজ উঠতে শুরু করবে।

গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুলী, বিন্নাবাড়ী, ধারাবারিষা গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ। সদ্য জমি থেকে ওঠা রসুনের স্তুপ বাড়ির আঙিনায় পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক বধূরা। আর জমিতে ডালপালা হয়ে ছড়িয়ে পড়া তরমুজের গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। সিধুলী গ্রামের কৃষক বধূ শাহনাজ খাতুন জানান, এই সময়টা বাড়ির সবাই মিলে কাজ করি, জমি থেকে রসুন ঘরে তুলি। একই এলাকার কৃষক বিমল কুমার সরকার চলতি বছর সাত বিঘা জমিতে রসুনের সাথে তরমুজ আবাদ করেছেন।

বিঘা প্রতি গড়ে ২৫ মণ করে রসুনের উৎপাদন হয়েছে জানিয়ে বিমল সরকার বলেন, প্রতি বিঘায় ৪৫০টি গর্তের প্রতিটিতে দুইটি করে তরমুজের চারা লাগানো আছে। রসুন উঠার পর এখন একটি সেচ ও পরিচর্যার পর তরমুজ উঠা শুরু হবে। তিনি বলেন, তরমুজ চাষে বিঘা প্রতি মোট খরচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। আর তরমুজ বিক্রি করে গড়ে ২৫ হাজার টাকা আয় আসে। অর্থাৎ মুনাফার পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। এই হিসেবে এলাকার কৃষকদের ঘরে যাবে বাড়তি ছয় কোটি টাকার ওপরে।

সিধুলী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন কুমার গুহ বলেন, সাথী চাষাবাদে ফলনের কোন কমতি হয় না, বরং জমিতে শস্য বিন্যাস অর্থাৎ প্রতি বছর একই শস্য চাষাবাদ না করে শস্য পরিবর্তন করা হলে বরং বাড়তি ফলন পাওয়া যায়।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, শস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ আনতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সেবা দেয়া হচ্ছে।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আলহাজ্ব উদ্দিন আহমেদ বাসস’কে বলেন, তরমুজের মুনাফা দিয়ে কৃষকরা রসুনের খরচ মেটাতে পারে অনায়াসে। ফলে উৎপাদিত রসুনের পুরোটাই মুনাফা হিসেবে থাকে কৃষকের ঘরে। দ্বিফসলী এসব জমিতে সাথী ফসল চাষ করে কৃষকরা তিন ফসলের সুফল পাচ্ছেন।

Top