জ্বালানী তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক -সে অনুপাতে গণপরিবহনে ভাড়া কমনো উচিত

জ্বালানী তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক – সে অনুপাতে গণপরিবহনে ভাড়া কমনো উচিত

জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনে অকটেন ও পেট্রোল ১০ টাকা হারে এবং কেরোসিন ও ডিজেল এর দাম ৩ টাকা হারে কমানো সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে দাবী করে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলে দাম নিন্মমুখী হবার ২ বছরের মাথায় সরকারের এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলছে দেশের ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)। কারন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন পণ্যের দাম বাড়লে আর কমে না। একই সাথে জ্বালানী তেলের দাম অনুসারে গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর জন্য সরকারী কঠোর ব্যবস্থা দাবী করে ক্যাব বলছে যখনই জ্বালানী তেল বা অন্য কোন পণ্যের দাম বৃদ্ধি হয় তখন পরিবহন ব্যবসায়ীসহ সকল ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য ও সেবার দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় হিডিক পড়ে যায়। আর দাম কমলে তখনই বলে উঠে এটা বেশী দামে কেনা, অন্যান্য পণ্য ও সেবার মুল্য বেড়েছেসহ ইত্যাদি নানা খুড়া অযুহাত।

জ্বালানী তেলের দাম কমনোর ঘোষনায় এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন পেট্রোল ও অকটেনে যেভাবে ১০ টাকা কমানো হয়েছে সেভাবে ডিজেল ও কেরোসিনে ১০ টাকা কমানোর দরকার ছিল বলে মতপ্রকাশ করে বলা হয় কেরোসিন ও ডিজেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশী, তাই অধিক গ্রাহকের কথা গুরুত্ব না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে বলা হয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারনীতে প্রান্তিক নাগরিকদের বিষয়গুলি অগ্রাধিকার না পেলে এ দাম কমানোর বিষয়টি সাধারন মানুষের জীবন যাত্রায় তেমন প্রভাব ফেলবে না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের যে উর্ধ্বগতি পাগলা ঘোাড়া বাজারের আগুন ছড়াচ্ছে যা মধ্যবিত্তজনগনসহ সর্বস্থরের সাধারন নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে ভয়াবহ দুর্বীসহ করে তুলেছে, কেরোসিন ও ডিজেল এর দাম আরো কমানো হলে খাদ্য উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, গণপরিবহন, ব্যবসা বানিজ্য ইত্যাদি খাতে প্রভাব ফেলতে পারতো। যেখানে গণপরিবহন খরচ কমবে, বিদ্যুতের পরিবর্তে ডিজেল চালিত জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কমে যেতো। যা সাধারন জনগনের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন সাধারন জনগনের দুর্দশা লাগবে সরকারে শীর্ষ পর্যায়ের অতিআগ্রহ থাকলেও নীতি নির্ধারন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষনে বারংবার সিদ্ধান্ত প্রদান করে যাচ্ছে। ফলে মুষ্ঠিমেয় অসৎ ব্যবসায়ী ও মুজদদাররা নানা টালবাহনায় ও অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়িয়ে, বিনা নোটিশে সারা দেশে বাস ও গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, সকল প্রকার ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, সাময়িক সংকট তৈরী করে, জনজীবনে দুর্বীসহ অবস্থা তৈরী করলেও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলেন এতে সরকারের কিছুই করনীয় নেই। সরকার দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে করে সাধারন জনগনের উপর বাড়তি মুল্যের চাপটি তুলে দিয়ে জনগনের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। পিয়াজ, আদা, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীরা বেপোরোয়া হয়ে বাড়তি মুল্যে বিক্রি করে আগুন ছড়ালেও সেকারনে সরকারের বানিজ্য মন্ত্রনালয় দিবা স্বপ্নে বিভোর, কোন বাজার মনিটরিং এবং বিকল্প বাজার সৃষ্ঠি নেই। অন্যদিকে সিএনজি বাস ও ট্যাক্সির ভাড়া পুনঃ নির্ধারন করা হলেও কোন বাস, ট্রাক ও সিএনজি ট্রেক্সির মালিকরা তা মানছে না।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।

(জহুরুল ইসলাম)
ক্যাব চট্টগ্রাম।

Top
%d bloggers like this: