কেন খাবেন ডালিম রস? পাতা থেকে শিকড় সবই উপকারী

কেন খাবেন ডালিম রস?

ডালিম মোটামুটি সবারই পছন্দের ফল। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে অনেকেই নিয়মিত ডালিম খান। ডালিমদানা খাওয়ার পাশাপাশি এর জুসও খেতে পারেন। কারণ, ডালিমের জুসও অনেক উপকারী। জেনে নিন এর উপকারিতা সম্পর্কে: রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে: ডালিম রসে ফ্রুক্টোজ থাকলেও এটি অন্য ফলের রসের মতো রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডালিম রস খেলে রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক থাকে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: শরীর থেকে মুক্ত ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই মুক্ত উপাদান অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করে। তাই রোগব্যাধি দূর করতে ডালিম রস উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণাগুণ আছে ডালিমে। শরীরের ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ডালিমের রস।

হজমশক্তি বাড়ায়: ডালিমে আছে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ। দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্রের নড়াচড়া নিয়মিত করে।

হিমোগ্লোবিন বাড়ায়: আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ ডালিম রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডালিমের রস খান।

পাতা থেকে শিকড় সবই উপকারী :

ডালিম নিয়ে নানা গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ডালিম শুধুমাত্র একটি মাজাদার ফল নয়, বরং মানব শরীর গঠন ও সুরক্ষায় ডালিমের রয়েছে বহুমুখি ঔষধি গুণ। এতদিন আমরা ডালিমের স্বাদ নিয়েছি, কিন্তু পাতা থেকে শিকড় পর্যন্ত পুরো ডালিম গাছিটিই যে মানুষের পরম উপকারী বন্ধু তা আমাদের অনেকেরই আজানা। অথচ উদ্ভিদ বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় ডালিম গাছের নানা ভেষজ গুণের কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশে বর্তমানে এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই এদেশে এলোপ্যাথির ব্যাপক প্রসার শুরু। পাশাপাশি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিও দিন দিন প্রসার ঘটছে। কিন্তু এমন একটা সময় ছিল, এদেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা বলতে বুঝতেন ইউনানী এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসা। গাছপালা, লতাপাতা অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদানই ইউনানী এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল উৎস। এখনো দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক উপাদান নির্ভর চিকিৎসার উপর নির্ভর করে থাকেন। প্রকৃতির সৃষ্টি ডালিম গাছ মানুষের বহুরকম জটিল ও কঠিন রোগের আরোগ্য বিধানে সক্ষম। নিম্নে তার কয়েকটির বিবরণ তুলে ধরা হল।

রক্তপাত বন্ধ করতে ডালিম ফুল অত্যন্ত কার্যকরী। হঠাৎ দুর্ঘটনায় শরীরের কোন অংশ ছিঁড়ে গেলে, থেঁতলে গেলে বা কেটে রক্তপাত হলে ডালিম ফুল কচলিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে চেপে ধরলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। ফুল না পেলে পাতাও ভাল কাজ করে।

হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া রোগের মহৌষধ ডালিম ফুলের রস। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা রক্ত ঝরা একটি সাধারণ রোগ। বহু মানুষের এরকম হয়। অনেকের বিনা কারণে নাক দিয়ে রক্ত যায়। শিশুদের মাঝেও এটা লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করেই এরকম হয়। আঘাত, পলিপ বা কোন কারণ ব্যতীত যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়ে বা রক্ত যায় ডালিম ফুল কচলিয়ে রস নিয়ে নাকে শ্বাস নিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের খোসা। যারা আমাশয়ের রোগী, ডালিমের খোসা সিদ্ধ করে সেবন করলে আমাশয় নিরাময়ে ভল ফল পাওয় যায়। আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের কাঁচা খোসা এবং শুকনা খোসা দুটোই কার্যকরী। তাই ডালিম খেয়ে খোসা ফেলে না দিয়ে শুকিয়ে ঘরে রেখে দেয়া ভাল।

ডালিম গাছের ছাল গুড়ো করে ছড়িয়ে দিলে শরীরের যে কোন স্থানের বাগি বা উপদংশ নিরাময়ে ভাল কাজ করে। মহিলাদের প্রদররোগ নিরাময়ে ডালিম ফুল উপকারী। প্রদর একটি জটিল মেয়েলি রোগ। প্রদর দু প্রকার। শ্বেতপ্রদর ও রক্তপ্রদর। উভয় প্রকার প্রদরে ৪/৫টি ডালিম ফুল বেটে মধুর সাথে মিশিয়ে কিছুদিন সেবন করলে রোগ সেরে যায়।

গর্ভপাত নিরাময়ে ডালিমের গাছের পাতা উপকারী। বহু মহিলার গর্ভসঞ্চারের দুই তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাত হয়ে যায়। কোন কোন মহিলার একাধিকবার এরকম হয়। ডালিম গাছের পাতা বেটে মধু ও দধি একসাথে মিশিয়ে সেবন করলে গর্ভপাতের আশংকা দুর হয়।

ডালিম গাছের শিকড় ক্রিমি নাশক। ক্রিমির সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যা। ক্রিমির কারণে শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই নানাবিধ জটিলতায় ভোগেন। ডালিম গাছের মূল বা শিকড় থেকে ছাল নিয়ে চূর্ন করে চুনের পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে আনায়াসেই ক্রিমিনাশ হয়। বয়স ভেদে ১৩ গ্রাম পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। শিশুদের পেটের রোগ নিরাময়ে ডালিম গাছের ছাল। শিশুরা বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে। যেসব শিশু পেট বড় হওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে তাদেরকে জন্য ডালিম গাছের শিকড় থেকে ছাল নিয়ে গুড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করতে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ডালিম গাছফল, ফলের খোসা, পাতা থেকে শুরু করে শিকড় পর্যন্ত কোনটাই ফেলনা নয়। আগাগোড়া মানুষের উপাকরী। ডালিম গাছের চাষ কোন কঠিন কাজ নয়, এর জন্য বেশি পরিশ্রম এবং অধিক যত্নও প্রয়োজন হয় না। যে কোন রকম মাটিতেই ডালিমের চাষ হয়। এর জন্য বড় জায়গাও লাগে না। ঘরের আঙ্গিনা এমনকি বাড়ির ছাদেও সহজে ডালিমের চাষ করা যায়। ঘরে একটি ডালিম গাছ থাকা মানে ঔষধের একটি ফ্যাক্টরি থাকা।

 

Related posts

Top
%d bloggers like this: