পেয়াজ আবাদে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

পেয়াজ আবাদে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

কৃষি বিষয়ক সংবাদ

পেয়াজ আবাদে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

দু’দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কৃষকরা পেয়াজ লাগানো মৌসুমে দেরীতে হলেও পেয়াজের চারা রোপন করতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়ার খেকসা উপজেলায় এবার পেয়াজ চাষের লক্ষমাত্র হলো ১হাজার ৬৫৫হেক্টর জমি। এরই মাঝে কৃষকরা সিংহভাগ জমিতে পেয়াজের চারা রোপন করতে সক্ষম হয়েছে। ২৫৮ হেক্টর জমিতে বিজতলা রোপন করা হয়েছিল।

পেয়াজ আবাদে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে
পেয়াজ আবাদে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে

পেয়াজ চাষের উপযোগী আবহাওয়া হওয়ায় পেয়াজের বীজতলার ফলনও ভাল হয়েছে। বেশিরভাগ পেয়াজের জাত রয়েছে তাহেরপুরী ও উপসি কিং এর জাত অন্যতম। উপজেলায় এবারের পেয়াজের কিং জাতের বীজের চারা হয়েছে ৬০%, তাহেরপুরী জাতের বীজের চরা হয়েছে ৪০%। উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, দেরীতে হলেও উপজেলার সকল ইউনিয়নে পর্যাপ্ত চাহিদা মোতাবেক পেয়াজের বীজ, সার ও কীটনাশক সময়মত সরবরাহ করায় কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজনে বীজ বপন করে পেয়াজের চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কৃষকের নির্ধারিত জমির পেয়াজের চারা লাগানোর পর উদ্বৃত্ত চারা স্থানীয় বাজার গুলোতে বিক্রি করে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার খোকসা-জানিপুর মৌসুমী ফসলের হাটে খয়েরচরা গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, নিজের দেড় বিঘা জমিতে পেয়াজের চারা রোপন করার পর বীজতলাতে বেচেগেছে ২৭ কেজি পিয়াজের চারা।

৬০-৬৫টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি করে বেশ ভালই খরচের পয়সাটা উঠেগেছে। উপজেলার গাড়াল গ্রামের কৃষক আলিমদ্দিন দেড়কাঠা জমিতে পিয়াজের বীজতলা তৈরী করে প্রায় ৪হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। চর ভবানীপুরের কৃষ দুলাল প্রামানিক বলেন প্রতি বছরই আমি পিয়াজের চারা দিয়ে এভাবেই বাজারে বিক্রি করি। এবারের আবহাওয়া ও স্থানীয় বাজারে চড়া দাম থাকায় বেশ ভালই লাভ হয়েছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে উপজেলার কৃষকরা পিয়াজের চাষে মনোনিবেশ করেছেন। ৮০উর্ধ্বো বয়সী কৃষক রেজা আহম্মেদ বললেন, স্থানীয় বাজারসহ জাতীয় পর্যায়ে পেয়াজের চাহিদা ও উর্ধ্বো দাম থাকায় পেয়াজ আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে বিধায়, এবারে চাহিদার চেয়েও বেশি পেয়াজ আবাদ হবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ বিষ্ণ পদ সাহা বলেন, আশা করছি লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশি পেয়াজ আবাদ হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে উপজেলার কৃষকরা পেয়াজ লাগাতে এবার বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এরই মাঝে সিংহভাগ জমিতে পেয়াজের চারা রোপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলার চাহিদা পুরণ করে জেলার লক্ষমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আমাদের খোকসা উপজেলা।