টমেটো চাষে ভাগ্য বদল হারুন দম্পতির

      No Comments on টমেটো চাষে ভাগ্য বদল হারুন দম্পতির

টমেটো চাষে ভাগ্য বদল হারুন দম্পতির

হারুন অর রশিদ। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের একজন কৃষক। নিজের ভিটে ছাড়া মাঠে তার কোনো জমি নেই। আত্মবিশ্বাসী আর পরিশ্রমী তিনি। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেই বদলে গেছে তার জীবন। নিজে একা নন, তার স্ত্রী নারগিস বেগমও সমানতালে তার সঙ্গে ক্ষেতে কাজ করেন। দিন এনে দিন খাওয়া এ কৃষক পরিবারটি এখন আগের তুলনায় অনেক সচ্ছল। ছেলেমেয়েরাও সবাই স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে।

২০১৫ সাল। হারুনের আর্থিক অবস্থা দেখে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহারুজ্জামান লিটন তাকে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করার পরামর্শ দেন। বাড়ির পাশেই স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র ৫ শতক জমি লিজ নিয়ে টমেটো চাষ শুরু করেন। এ জন্য তাকে সহযোগিতা করে কৃষি অফিস। প্রথম বছরেই ভালো ফলন ও দাম পান হারুন। এর পর ২০১৬ সালে ২০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। ভালো দাম পাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ তার কাছে লোভনীয় হয়ে ওঠে। খরচ বেশি ও কষ্ট হলেও টমেটো চাষ বাড়ানোর কথা ভাবেন হারুন। এ বছর ৩৩ শতক জমিতে হারুন টমেটো চাষ করেছেন। মাসখানেক হলো ক্ষেত থেকে টমেটো তুলছেন। প্রতি মণ টমেটো পাইকারি বিক্রি করছেন ৪ হাজার টাকায়। প্রতি কেজি ১০০ টাকা। তবে ভারতের টমেটো না এলে দেশি এ টমেটো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতো বলে জানা গেছে।

কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, কৃষি বিভাগের উৎসাহ ও সহযোগিতা নিয়ে কয়েক বছর আগে টমেটো আবাদ শুরু করেন একেবারেই স্বল্প পরিসরে। দাম ভালো পেয়ে তার মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। এ বছর ৩৩ শতক জমিতে তিনি আবাদ করেছেন টমেটো।

হারুনের সঙ্গে তার স্ত্রী নারগিস বেগম দিন-রাত পরিশ্রম করেন টমেটো ক্ষেতে। দু’জন মিলেই চাষাবাদে সময় দেন। নারগিস বেগম জানান, সংসারে চার ছেলেমেয়ে। দুই ছেলে অনার্স পড়ছে। মেয়েও কলেজে ভর্তি হয়েছে, আরেক ছেলে মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ছে। টমেটো আবাদে তাদের ভালো আয় হয়। নিজেদের কোনো জমি না থাকলেও পরের জমি লিজ নিয়ে টমেটোসহ অন্যান্য সবজি আবাদ করেন তারা। টমেটো ছাড়াও লাউ, ওলসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেন সারাবছর। আগামী বৈশাখ মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে টমেটো পাওয়া যাবে বলে জানান কৃষক হারুন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, গ্রীষ্মকালে মূলত দেশের বাইরে থেকে আমদানি করে টমেটোর চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু ওই টমেটোতে ফরমালিনসহ নানা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে দেশে গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক হারুন অর রশীদের ক্ষেতে উচ্চ ফলনশীল বারি হাইব্রিড টমেটো-৪-এর চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষি বিভাগ থেকে নানা প্রণোদনাসহ সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।