দশ বছরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

টিলা ঘেরা সবুজ পরিবেশের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি )। মাত্র ৫০ একর জায়গা নিয়ে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ থেকে ২০০৬ সালের ২ নভেম্বর দেশের চতুর্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আসছে বুধবার নয় পেরিয়ে দশ বছরে পদার্পণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনার নাম। সিলেটের লালচে মাটির গুণগতমান দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্নতর। আবার বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে হাজার হাজার একর অনাবাদি উঁচু-নিচু পাহাড়ী  অসমতল ভূমি। আছে হাওর নামের বিস্তীর্ণ জলাশয়। অপার সম্ভাবনাময় এসব প্রাকৃতিক সম্পদসমূহকে গবেষণার মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদ সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর একাডেমিক কার্যক্রম দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রোনমি এন্ড হাওর এগ্রিকালচার  এবং কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স নামে বিশেষ দুটি বিভাগ রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। একমাত্র সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে পূর্ণাঙ্গ অনুষদ রয়েছে।এখন পর্যন্ত  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ এবং মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৫টি করে ১০টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ১৭টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে বেরোলো আরো তিনটি ব্যাচ। এরা সবাই এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে এবং বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সদ্য ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের ইন্টার্নি ডাক্তার আকাশ খাসনবিস বলেন-“ভাবতে ভালই লাগছে এখন থেকে আমি একজন ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছি। আমার একাডেমিক জ্ঞানটুকু এবার মাঠে কাজে লাগাবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধুর সম্পর্কের কারণেই আমরা সফল হয়েছি। আরো খুশি হচ্ছি যে, এখন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিক্যাল এসোসিয়েশন তাদের দেশে প্রাকটিস করার জন্য স্টেট সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিবে বলে জানিয়েছে।” ছোটবড় টিলা পরিবেষ্টিত ৫০ একর আয়তনের মনোরম সিকৃবি ক্যাম্পাস। সবুজে ঘেরা, ছোট ছোট টিলা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। “আয়তনে ছোট হলেও এর রূপ-সৌন্দর্য্য আমাদের হৃদয়ে আলাদা একটা টান ও ভালবাসা জন্মায়।”- ক্যাম্পাস সম্পর্কে নিজের অনুভূতি এভাবেই ব্যক্ত করেন কৃষি অনুষদের ছাত্রী নাহিদা আক্তার। তিনি আরো বলেন, “এখানকার বিভিন্ন সংগঠনে যোগ দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মননশীল চিন্তা করতে সাহায্য করছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর আড্ডা হবে না সেটা কি হয়! কেউ কেউ আবার ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দেয় আড্ডা। এর মধ্যে ফুচকা চত্বর, জালাল মামার চায়ের দোকান, ট্যাংকির তলা, কাঁঠাল তলা, ক্যাফেটেরিয়া, ইকোপার্ক ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। গবেষণা: বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকেই সিকৃবি ক্যাম্পাসে গবেষণা হচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত গবেষণা  হল- গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ। টমেটো বা শিম এখন আর শুধুমাত্র শীতকালে চাষ হবে না।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম একজন প্রথিতযশা কৃষি বিজ্ঞানী। সম্প্রতি তার তত্ত্ববধানে শিমের নতুন দুটি জাত অনুমোদন পেয়েছে। প্রোটিন সমৃদ্ধ এই জাতগুলোর তিনি নাম দিয়েছেন  সিকৃবি শিম-১ ও সিকৃবি শিম-২। শিক্ষক হিসেবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে কৃষি বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, শিম টমেটোসহ কয়েকটি জনপ্রিয় সবজি শুধুমাত্র শীতকালে উৎপাদিত হয়। তখনি তিনি ভাবলেন এই সবজিগুলো যদি গ্রীষ্মকালসহ সারাবছর পাওয়া যেত তাহলে খুব ভালো হতো। সেই থেকেই তিনি  গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটো নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করেন। তার সহায়তায় ইপসা শিম-১ সহ আরো কয়েকটি জাত উদ্ভাবিত হয়। ২০১১ সালে তাঁর তত্ত্বাবধানে বারি শিম-৭ নামে একটি গ্রীষ্মকালীন শিমের জাত তিনি উদ্ভাবন করেন। সিলেট এসে তিনি লক্ষ্য করেন এই অঞ্চলে শিম-টমেটোর বেশ কদর রয়েছে।

তিনি সিলেটের গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রীষ্মকালীন শিম লাগানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম-টমেটোর পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে সারা বাংলাদেশে সিকৃবি শিম-১ ও সিকৃবি শিম-২ জাত দুটি আলোর মুখ দেখলো। এই জাত সিলেট অঞ্চলে বছরব্যাপী ধরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের আরেক বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কাশেম। হাওর এলাকার ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য তিনি গবেষণা করছেন। তাছাড়া হাওর এলাকায় সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাঠ ফসল, মাছ, গবাদিপশু-পাখির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষিতত্ত্ব ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস গবেষণা করছেন সরিষা ফসল নিয়ে। বিস্তৃর্ণ হাওর এলাকায় কিভাবে উন্নত জাতের সরিষার চাষ করে প্রচলিত ফসল ধারার উন্নয়ন করা যায় সে উদ্দেশ্যে তিনি গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম গবেষণা করছেন আগাছা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধানের ফলন বৃদ্ধি নিয়ে। এই গবেষণা সফল হলে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে শীতকালীন ফসল চাষের জন্য পানির স্বল্পতা রয়েছে। কোথাও কোথাও অবশ্য স্বল্প পরিসওে বোরো ধানের চাষ করা হচ্ছে।

কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের সেচ বিজ্ঞানী ড. সানজিদা পারভীন রিতু তাই ভিন্নধর্মী একটি গবেষণা চালাচ্ছেন। সিলেটের উঁচু জমিতে এমনিতেই সেচ প্রয়োগের সুযোগ তেমন নেই। সেচ সুবিধার অভাবে হেক্টরের পর হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। ড. সানজিদা ভূট্টা ফসলে সেচ বিষয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেছেন। এই গবেষণায় সফল হলে সিলেট অঞ্চলের “ক্রপ রোটেশন” পরিবর্তন হতে পারে। কম পানি দিয়েও বছরে ৩টি ফসল চাষ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান অল্প খরচে মাছ দিয়ে কিভাবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। এর পাশাপাশি সিলেটের জলাবদ্ধ এলাকায় ভাসমান বেড তৈরি করে প্রাণীর খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে তিনি গবেষণা করে যাচ্ছেন। বিপন্ন মাছ সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করেন মৎস্যবীদ ফিসারিজ বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। বর্তমানে তিনি হাওর ও নদী অঞ্চলের বিলুপ্ত প্রজাতির আইড় মাছের প্রজনন নিয়ে গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়নে সিলেটের জকিগঞ্জের আমেরিকান ফিস ফার্ম লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে তিনি এই গবেষণা কাজ সম্পন্ন করছেন। মাৎস্য-বিজ্ঞান অনুষদের পাশেই ছোট ছোট রিসার্চ পুকুর বানানো হয়েছে। এছাড়াও সারা ক্যাম্পাসের পুকুরগুলোকে গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। আইড় মাছ ছাড়াও ক্যাম্পাসে ফ্রেশ ওয়াটারে চিংড়ি চাষ এবং তাপ দিয়ে মনোসেক্স তেলাপিয়ার লিঙ্গপরিবর্তন নিয়েও কাজ হয়েছে। মাৎস্য-বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন- “মাছ নিয়ে পড়াশুনা আমার কাছে এখন খুব অবাক লাগছে। এখানে ভর্তি না হলে জানতামই না কাটাওয়ালা এই প্রাণীটির ভেতর এতো রহস্য লুকিয়ে আছে।”

গবেষণা মাঠ অধিগ্রহণ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃক্যাম্পাস হিসেবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ফেঞ্চুগঞ্জ-তামাবিল বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খাদিম নগর এলাকায় ১২.৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি বুঝিয়ে দেন। মাত্র ৫০ একর জমি নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যাত্রা করেছিল যার বেশির ভাগ টিলা ও জঙ্গলবেষ্টিত। উক্ত গবেষণা মাঠ প্রাপ্তির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এত প্রাপ্তির মাঝেও কিছু না পাওয়ার কথা রয়ে গেছে যেমন, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য অধিগ্রহণকৃত  জায়গাটিতে এখনো পুরোদমে কাজ  শুরু করতে পারেননি গবেষকবৃন্দ। ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সিলেট শহরে যাতায়াতের জন্য বাস নিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই। প্রায় চারহাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩টি বাস। বাঁদুড় ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়। ফলে যারা সিলেট শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসেন তারা পড়েন চরম বিপাকে। ডাইনিং এর খাবার নিয়েও রয়েছে অনেক অভিযোগ। নেই ভালো খেলার মাঠ, অডিটরিয়ামটাও ছোট। সবকিছু ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবী হয়ে উঠেছে- গবেষণার জন্য মাঠ। তবে এতো সংকটের ভেতর নতুন করে সম্ভাবনা জাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন কর্মকান্ড। পুরো ক্যাম্পাসকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে নতুন নতুন অবকাঠামোয়।

উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও খেলার মাঠ উন্নয়ন, নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হল, উপাচার্য বাসভবন, অধ্যাপক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার, শিক্ষক-কর্মকর্তা ডরমেটরি, কর্মচারী ডরমেটরি, অতিথি ভবন, নতুন আরেকটি ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ভেটেরিনারি ক্লিনিক, অস্থায়ী খামার বাড়ি, অস্থায়ী মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ। এছাড়া অসম্পূর্ণ ছাত্রহল এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রটিও নির্মাণাধীন বয়েছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ ভবনের কাজ। শেষ হওয়ার পথে কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ও কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: গোলাম শাহি আলম দেখালেন আশার স্বপ্ন-“মাত্র কয়েক বছরে ছয়টি অনুষদকে সাথে নিয়ে সিকৃবি ঈর্ষণীয় সাফল্যের পথে হাঁটছে। সিকৃবির হাত ধরেই সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশে কৃষিতে বিপ্লব আসবে যার কর্ণধার হবে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হওয়া যোগ্য কৃষিবিদ।” স্কুলে ভর্তি হবার পর বাবা-মা তাদের সন্তানদের মাথায় শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ভূত চাপিয়ে দেন। কিন্তু  কৃষিও একটি মহান পেশা। শুধুমাত্র কৃষিবিদদের গবেষণা ও পরিশ্রমের ফলে কৃষক আজ টনকে টন ধান, পুকুর ভরা মাছ ঘরে তুলছে, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছে। যার সুফল হিসেবে বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়েও বছরে ২-৩ লাখ টন চাল রপ্তানির সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিক থেকে পোশাক এবং জনশক্তির পর এখন মাছ ও শাক-সবজির অবস্থান। উত্তর পূর্বাঞ্চলের তথা দেশের সামগ্রিক কৃষির এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশার প্রতিশ্রুতি। ছায়া-সুনিবিড়, সবুজ টিলায় ঘেরা ছোট্ট সুন্দর ক্যাম্পাসের এক দশক পূর্তিতে তাই ক্যাম্পাসের সকলের মনে রঙ লেগেছে।

লেখক: কর্মকর্তা, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

Top
%d bloggers like this: