সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার

সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার

গ্রাম্য বধূ নুরুন্নাহার চার দেয়ালের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে একজন সমাজ উন্নয়নকর্মীর দায়িত্ব পালন করছেন। বসতবাড়ির আশপাশে নিবিড় সবজি চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এনসিডিপি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী নুরুন্নাহারের স্বামী রবিউল ইসলাম। জয়নগরের চালকল মোকামের একটি মিলে ধান-চালের ব্যবসায় করেন।

চার সন্তানের জনক-জননী রবি-নুরুন্নাহার। নুরুন্নাহার জানান, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠানে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে তারও ইচ্ছে জাগে বসতবাড়ির আশপাশে শাকসবজি ও ফলমূলের বাগান গড়ে তোলার। এর পর আর থেমে থাকেননি নুরুন্নাহার।

লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ চাষ করে সারা বছরের সবজির চাহিদা মেটাতে থাকেন। এমনকি বাড়তি কিছু আয়ও হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও আব্দুর রশিদ নুরুন্নাহারের এলাকায় ব্র্যাক এনসিডিপির মহিলা গ্রাম কমিটি গঠনের পর তাকে দায়িত্ব দিয়ে যান।

এতে করে তার স্বামীর আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। একই বছর সেপ্টেম্বরে তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির আঙিনায় এবং বাড়িসংলগ্ন ৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, গাজর ইত্যাদি আবাদ করে আশাতীত লাভবান হন। পরের বছর ঋণ পরিশোধ করে দ্বিতীয়বারের মতো ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ অবস্থায় তিনি জানতে পারেন বড়ইচারা দণিপাড়ায় ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজের কুল চাষ প্রকল্পের কথা। ময়েজের কাছ থেকে চারা কিনে ১৭৫টি গাছের একটি কুল বাগান গড়ে তোলেন। প্রথম বছর কুল বিক্রি করে তিনি ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া উন্নত জাতের ৪০টি পেয়ারার গাছও লাগানো হয় আঙিনায়। নুরুন্নাহার তার কৃষি খামারে উন্নত জাতের ৫০টি গরুর একটি খামার গড়ে তুলেছেন।

দেশের সব নারী কৃষককে ডিঙিয়ে ২০১০ সালে ঈশ্বরদীর নুরুন্নাহার সিটি গ্রুপ জাতীয় পুরস্কার পান। এতে সাড়ে তিন লাখ টাকা, একটি সার্টিফিকেট এবং একটি ২৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার দেয়া হয়। নুরুন্নাহার তার গ্রামের ২০০ নারীকে হাতে-কলমে কৃষিকাজের প্রশিণ দিয়ে দ কৃষক হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০১১ সালে দেশের সেরা নারী কৃষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল নারী উদ্যোক্তা ও নারী কৃষক নুরুন্নাহারের হাতে তুলে দেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক।

নুরুন্নাহার জানান, এরই মধ্যে ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। সহজ শর্তে এবং কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা পেলে নুরুন্নাহার তার আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াবেন। কিছু দিনের মধ্যে বিনা খরচে এনসিডিপির প থেকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় কৃষিকাজের আধুনিক প্রশিণের জন্য যাবেন বলেও তিনি জানান।