দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস

হস্তান্তর হওয়ার দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস। সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নে বনুয়াপাড়া গ্রামে মনোরম পরিবেশে আড়াই একর জমিতে নির্মিত হয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়টি।

জেলার দশ উপজেলার মধ্যে কেন্দুয়া-আটপাড়া-মদন-খালিয়াজুরী ও কলমাকান্দা উপজেলা হাওরাঞ্চল। এই চার উপজেলাসহ বাকি সবকটি উপজেলাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আবহাওয়া তথ্য আদান-প্রদান করতে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। কার্যালয়ের মূল ফটক ধরে ভিতরে ঢুকে হাতের ডান পাশে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রয়েছে একটি দ্বিতল ভবন। এর ছাদে স্থাপন করা হয়েছে বাতাস পরিমাপক, বাতাসের দিক নিয়ন্ত্রক এবং সানশাইন রেকর্ডারসহ তিনটি যন্ত্র। আর বাম পাশে দ্বিতল ভবনে যৌথ শয়নালয়।

এছাড়াও একতলা বিশিষ্ট গার্ডশেড, পাম্প হাউজ ও একটি ইকুইপমেন্ট এরিয়া আছে। যার ভিতরে ট্রান্সমিটার, বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিওশন, বড় আকারের কয়েকটি থার্মোমিটার এবং একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন রয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, অফিসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রায় সবকিছুই আছে। নেই শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল। নিয়মানুযায়ী আবহাওয়া কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে বিভিন্ন পদে ১১ জন স্টাফ থাকার কথা রয়েছে। ১১ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র তিন জন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো এখনো শূন্য। এছাড়াও নেই কেয়ারটেকার ও  গেটম্যান।

Netrokona

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন দেওয়ান জাগো নিউজকে জানান,বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘আপগ্রেডেশন অব অ্যাগ্রো ম্যাটেউরোজিক্যাল সার্ভিস (রিভাইসড)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

২০১১ সালের ১৬ জুন শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ছিল ১৫ জুন ২০১২ পর্যন্ত। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজাদ রহমান অ্যান্ড আনিসুর রহমান শাহীন ( জেভি) ও  মেসার্স সাঈফ খান বিপ্লব নির্মাণ কাজ  শেষে ২০১৪ সালের ৬ জুন গণপূর্ত অধিদফতরে তা হস্তান্তর করেন।

হস্তান্তরের দুই বছর পরেও আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়ায় কৃষি ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়াতে নেত্রকোনার চারটি উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় ক্ষতি হয় বছরের একমাত্র বোরো ফসল।

Top
%d bloggers like this: