সড়কে মাছ চাষ!

      No Comments on সড়কে মাছ চাষ!

সড়ক কখন পুকুর হয় তা কারও অজানা নয়। বিশেষ করে বর্ষার এ সময়ে একটু বৃষ্টিতে যখন ঢাকা-চট্টগ্রামের পথঘাট তলিয়ে যায়, কোথাও হঁাঁটু পানি, কোথাও কোমর পর্যন্ত, সাঁতরে পার হওয়ার মতো কিংবা নৌকা দিয়ে চলাচলের অবস্থা সৃষ্টি হয়; তখন সড়ক আর সড়ক থাকে না, হয়ে যায় পুকুর কিংবা খাল। এর বাইরেও সড়ক পুকুর হয়, যখন দীর্ঘদিন সংস্কার না হয়, সড়ক খানাখন্দে ভরে যায়। একটু বৃষ্টিতেই তা পানির নিচে চলে যায়, সড়কের একাংশ আস্ত থাকলেও বাকি অংশে থৈথৈ পানি, বোঝার উপায় নেই তা কতটা গভীর। এ রকম এক সড়কের খবর দিয়েছে সমকাল। ‘সাবধান, এখানে পুকুর! এখানে মাছ চাষ হয়’ শিরোনামে ৯ জুলাই সমকালের শেষ পাতায় একটি সড়কের ছবি প্রকাশ হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে সড়কের এক গর্তে একজন খুব আয়েশি ভঙ্গিতে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছেন। পাশ দিয়ে যাচ্ছে সিএনজি, মানুষ পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে লেখা_ ‘মাছ চাষ, সাবধান! সামনে পুকুর!’। ভালো করে না দেখলে মনে হবে যেন সড়কের মাঝখানে সত্যিকারার্থেই পুকুর, যেখানে পরিকল্পিত উপায়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সে পুকুরে সব আয়োজন সম্পন্ন করে_ চেয়ার নিয়ে, ছিপ দিয়ে, মাছ রাখার পাত্রের ব্যবস্থা করে মাছ ধরা হচ্ছে! উৎসুক মানুষ মাছ ধরা দেখছেন। মাছের পাত্রে কিংবা বড়শিতে মাছ না দেখা গেলেও সাইনবোর্ডে শোভা পাচ্ছে মাছের ছবি। ভোগান্তিতে পড়া এ যে বেরসিক মানুষের কাণ্ড! এ যে মাছ ধরা নয়, এক অভিনব প্রতিবাদ।

 

ভেতরের পাতায় বিস্তারিত সংবাদে জানা যায়, বগুড়া শহরের চেলোপাড়া থেকে সাবগ্রাম পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কে মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি এলে সেগুলো ভরে যায়। তিন বছর ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় সড়কের এ বেহাল দশা। তাতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, নিবেদন ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালনের পরও সড়কের অবস্থা যেই সেই। অবশেষে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সেখানে মাছ ধরে স্থানীয় মানুষ এভাবে প্রতিবাদ করছেন।

মানুষের এ প্রতিবাদ আর সংবাদমাধ্যমে খবর হওয়ার পরও মানুষ কতদিন এ দুর্ভোগ পোহাবেন! কেবল বগুড়ার এ সড়কটি নয়, সারাদেশে সংস্কারের অভাবে বেহাল এ রকম সড়কের চিত্র নানাভাবেই আসছে সংবাদমাধ্যমে। সড়কের কারণে কোথাও কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

একদিকে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোতে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি হচ্ছে নগরবাসীর; অন্যদিকে সংস্কারের অভাবে বেহাল রাস্তায় চলাচলে ভুগছে দেশের মানুষ। দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। সড়কের ভোগান্তি থেকে যেন রেহাই নেই কারও। বর্ষার কারণে সড়কের অবস্থা খারাপ হয়। খারাপ সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়ে যায়। এমপি-মন্ত্রী-জনপ্রতিনিধি সবাই সমাধানের কথা বলেন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হয় না। সড়কের সমস্যা যেন জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের কাজ করা দরকার। বগুড়ার এ সড়কটি তিন বছর ধরে সংস্কারহীন। এ অবস্থায় সড়কটির দশা যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। সড়কে মানুষের মাছ ধরার প্রতিবাদ নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করবে।

সূত্র- সমকাল