শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

ঋতু বৈচিত্র্যের ধারায় এসেছে হেমন্ত। সঙ্গে কড়া নাড়ছে শীত। ভোরের বাতাস কুয়াশাসিক্ত। সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, ম‍ুলা, করলা, পটল, পালং ও লাল শাকসহ রকমারি শীতকালীন সবজি।

ক্ষেতের এসব ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। কাকডাকা ভোরে কোদাল, পাচুন, মাথাইল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তারা। ক্ষেতে নেমে পড়েন সবজি পরিচর্যায়। রোদের তীব্রতা বাড়তেই মাথায় পরে নেন মাথাইল।

তাদের কেউ দাঁড়িয়ে কোদাল চালাচ্ছেন, অনেকেই গাছের গোঁড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন পাচুন, কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। এভাবে শীতকালীন সবজি নিয়ে চলছে কৃষকের কর্মযজ্ঞ।

রোববার (২৩ অক্টোবর) বগুড়া জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে শীতকালীন সবজি নিয়ে কৃষকের কর্মযজ্ঞের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

বেড়েই চলছে মানুষের কাজের চাপ। গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী-অস্থায়ী অসংখ্যা স্থাপনা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি জমিতে। কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। ধান চাষেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না কৃষক। কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই রকমারি সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

বাংলানিউজকে এমনটা জানালেন হায়দার আলী, আমজাদ হোসেন, বুলু মিয়াসহ একাধিক কৃষক। তারা বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবা যত্নে ক্রটি করা যাবে না। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়।

তারা বলেন, স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো যায়। ক্ষেতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কমবেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব না। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে সবজি চাষকেই এসব কৃষকরা লাভজনক মনে করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ জেলার ১২টি উপজেলায় ১২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত ৭ হাজার ৩শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি লাগানো হয়েছে।

এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’ হেক্টর, শেরপুরে ১ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর, ধুনটে ১ হাজার ১শ’ হেক্টর, সারিয়াকিন্দতে ১শ’ ৫০হেক্টর, সোনাতলায় ৩শ’ ১০ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৭শ’ ৫০ হেক্টর, নন্দীগ্রামে ৮০ হেক্টর, কাহালুতে ২শ’ ৫০ হেক্টর, আদমদীঘিতে ২শ’ ৮০ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ায় ২শ’ হেক্টর, শাজাহানপুরে ৩শ’ হেক্টর ও গাবতলী উপজেলায় ১ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে লাগানো হয়েছে রকমারি শীতকালীন সবজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, সবজিখ্যাত গ্রামগুলোয় নিয়মিত স্ব-স্ব উপজেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান। রোগবালাই সম্পর্কে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তিনিসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই মাঠে যান বলেও জানান তিনি।

সবজি চাষে যুক্ত জেলার কৃষকরা এবার বেশ উৎফল্ল। কারণ তারা উৎপাদিত ফসলের দাম বেশ ভালো পাচ্ছেন বলেও জানান কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

সূত্র ঃ বাংলা নিউজ ২৪

Top
%d bloggers like this: