কৃষকপ্রতি সর্বোচ্চ ৭৫ মণ ধান কিনবে সরকার

মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে চলতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার। একজন কৃষক সর্বনিম্ন এক বস্তা ৪০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ৭৫ মণ ধান বিক্রয় করতে পারবে। আসন্ন বোরো মৌসুমে ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান ২৩ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আগামী ৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই ধান সংগ্রহ। এর আগে গত বছর সরকার ১ লাখ টন ধান কিনেছিল। ওই বছর প্রতিকেজি ধান ২২ টাকা দরে কেনা হয়। তাই কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম এবার কেজিতে এক টাকা বেড়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, এবার মোট ১৩ লাখ টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৭ লাখ টন ধান, বাকিটা চাল। তিনি বলেন, ধান-চাল সংগ্রহে এবার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। কৃষকদের সরাসরি প্রণোদনা দিতে এবং ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে বেশি করে ধান সংগ্রহ করা হবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত মৌসুমে এক লাখ টন বোরো ধান কেনা হলেও এবার কৃষকের কথা মাথায় রেখে ৭ লাখ টন ধান কেনা হবে।

এবার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবেকৃষকরা কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করে, তারা যেন ন্যায্যমূল্য পায় তারজন্য এবার অধিক পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি জানান। জানা গেছে, এবার কৃষি মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী স্থায়ী কৃষকের নাম, আইডি কার্ড, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন করা জমির খতিয়ান নম্বর, জমির আয়তনের ভিত্তিতে উৎপাদনের পরিমাণ এসবের ভিত্তিতে একাউন্ট পে চেক প্রদান করা হবে। চেক প্রদানের পূর্বে উপরোক্ত সবকিছু যাচাই করবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার প্রবণতা পরিহার করে ফরিয়াদের কাছ থেকে ধান কেনার যে সিস্টেম চালু আছে তা বন্ধ করতেই এ নিয়ম চালু করা হবে। এছাড়াও ধান সংগ্রহের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা প্রকাশ্যে এবং গোপনে মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন নীতিমালার মাধ্যমে প্রত্যেকটি জেলার জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও এর মাধ্যমে তদন্ত ও তদারকি করা হবে।