আগর শিল্প থেকে বছরে ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব

agor_10571

বাংলাদেশে আগর চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্প থেকে বছরে ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ আজ সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দেশে আগর চাষ ও আগর শিল্পের উন্নয়ন’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান।

বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাহীন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আগর চাষের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোঃ আবদুর রহমান।

কর্মশালায় আধুনিক পদ্ধতিতে আগর বনায়ন এবং আগর কাঠ ও তেল উৎপাদনের ওপর সাতটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।
ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে আগর চাষী এবং আগর শিল্পের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য বন বিভাগ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া রপ্তানী পদ্ধতি সহজ করে উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় এক লিখিত প্রবন্ধে জানানো হয়, এক সময় সিলেট জেলায় পাহাড়ি অঞ্চল আগর গাছে সমৃদ্ধ ছিল। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রামে এক সময় আগর ফ্যাক্টরি ছিল। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৫’শ লিটার আগর তেল উৎপাদন হয়। কাচাঁমাল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে সারা বছর ফ্যাক্টরিগুলো চালু রাখা সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

কর্মশালায় জানানো হয়েছে, বিগত কয়েক দশক ধরে কাচাঁমালের সমস্যা প্রকট হওয়ায় এ ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু প্রথমবারের মত এ উপমহাদেশের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত হয়।

আগরের কাচাঁমালের ক্ষেত্রে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে- ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়ানিউগিনি, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্পোডিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস ও মিয়ানমার।

অন্যদিকে প্রধান আমদানীকারক দেশ হচ্ছে- সৌদিআবর, কুয়েত, সংুযক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইরান, ইরাক, জর্ডান, প্যালেস্টাইন, মিশর, তুরস্ক, চীন, তাইওয়ান, জাপান প্রভৃতি দেশ।

বর্তমানে জাপানের ল্যাবরেটরীতে তৈরিকৃত কৃত্রিম আগর তেলের বাজার রয়েছে থাইল্যান্ডে, যেখানে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ২০% কম দামে তেল পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও আমেরকিার দেশসমূহে আগর তেলের চাহিদা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বন অধিদপ্তরের আগর বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের আগর উৎপাদন ও নিস্কাশনের উপর গবেষণা আগর চাষীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক এক জেলা এক পণ্য হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার ক্ষেত্রে আগরকে তালিকাভুক্তকরণ ও রপ্তানীর ক্ষেত্রে প্রনোদনা সৃষ্টি এতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অমিত কুমার বাউল, প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ ইউনুচ আলী, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. খুরশিদ আক্তার।

অনুষ্ঠানে আগর চাষী ও আগর শিল্পের উদ্যোক্তা এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Top