কৃষি ব্যবসা টেকসই ও কার্যকর করার সুপারিশ

কৃষি ব্যবসা টেকসই ও কার্যকর করার সুপারিশ

কৃষি ব্যবসা টেকসই ও কার্যকর করতে ১০ সুপারিশ

কৃষি ব্যবসা উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করে মার্কেট লিংকেজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ না থাকায় কিছু উদ্যোক্তা ঝরে পড়ছে। খুব বেশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়নি। পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তিতে কোনো প্রভাব রাখেনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫৯টি জেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একে টেকসই করার জন্য ১০ সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ। বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (১ম সংশোধিত) এর প্রভাব মূল্যায়ন সমীক্ষা করে এই সুপারিশগুলো করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ উপকারভোগী প্রকল্প সম্পর্কে পরিষ্কার বা সঠিক ধারণা রাখেন না। এজন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের মানুষকে বিশেষ করে উপকারভোগীদের মধ্যে প্রকল্প সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা করা দরকার।

প্রকল্পটি ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও এনজিও উভয়েই উপকৃত হয়েছে। কিন্তু আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধির চেয়ে ঋণের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন শেষ হলেও পরবর্তী উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বিধায় কিছু উদ্যোক্তা ঝরে পড়ছে। উপকারভোগীগণ জানে না যে, এটি সরকারি প্রকল্প। এক্ষেত্রে এনজিওগুলো তাদের নিজস্ব প্রকল্প হিসেবে ব্যবহার করেছে, কোথাও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নাম পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি, এমনকি ঋণ বিতরণ আবেদনপত্রেও না।

বাংলাদেশ এখনো একটি কৃষি নির্ভর দেশ যেখান থেকে জিডিপিতে ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ অবদান রাখছে। কৃষি পণ্যকে যথাযথ মূল্য প্রদান করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে শুরু হয়েছিল। বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায়িত্ব পালন করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। দেশের ৫৯ জেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল এগ্রিবিজনেস কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ এবং উপশহর এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির দ্বারা দারিদ্র্য বিমোচন করা। প্রকল্পটি ৫টি ভাগে বাস্তবায়িত হয়। যেমন- ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসা উদ্যোক্তাদের ঋণদান, কৃষি ব্যবসায় ঋণ কার্যক্রমে সহযোগী ব্যাংক ও এনজিওদের সামর্থ্য বৃদ্ধি, কৃষি ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সহায়তা।

জরিপ প্রতিবেদনটি ১২০টি নমুনা গ্রাম হতে ১২৮০ পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ঋণ ব্যবস্থাপনা, আয়, নারী উদ্যোক্তা ও তাদের ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি’র কার্যক্রম গ্রামীণ দরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা প্রদান ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে গড়ে ৩০ শতাংশের মাসিক আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে যা প্রকল্প এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কার্যক্রম উদ্যোক্তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তিতে কোনো প্রভাব রাখেনি।

 

এজন্য এ ধরনের প্রকল্প হতে সর্বোচ্চ উপকার পেতে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে আইএমইডি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় কার্যকর সুদের হার ২৭ ভাগ পর্যন্ত লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি প্রকল্প অনুযায়ী সুদের হার কম হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ব্যবসায় প্রকৃতির উপর নির্ভর করে ঋণের কিস্তি আদায় ও সুদের হার প্রচলিত হার থেকে কম হলে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে বিদ্যমান অবকাঠামো সুবিধাগুলো যা বিভিন্ন সময়ে সরকারের নিজস্ব অর্থে বা ঋণকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠিত